আর নয় সাবেকী, এবার ৭৮ -র পল্লীর পথ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু থিমের হাত ধরে
দক্ষিণ কলকাতার ৭৮-র পল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব এবার আসছে নতুন মোড়কে। নিজেদর ৫৮ তম বর্ষে দর্শকদের চমক দেওয়ার ভাবনায় হাজির হবে নবরূপে পুজো।
'আসছি আমরা নতুন সাজে, শোনরে তারই মাদল বাজে' ৭৮-র পল্লীর পুজোর এই ক্যাচলাইনই সকলকে বলে দিচ্ছে যে এবারের পুজোয় থাকছে অভিনবত্ব। ৫৭ বছরের পথ পার করে এবার নতুন বাঁক নিচ্ছে পথচলা। এতদিন যেখানে হত সাবেকি ঘরানার দুর্গাপুজো সেখানেও এবার ছোঁওয়া লেগেছে থিমের।

বদলের ভাবনা
গোপালনগর সঙ্ঘের পরিচলন সমিতিতে শ্যামল কর্মকার, সৌরভ মজুমদার, বিপ্লব মিত্ররা এবছর শুরু থেকেই ঠিক করেছিলেন এবার নতুন কিছু হবে। পাড়ার সকলের সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যায় এবারেই আসবে বদল।
শিল্পী কৈলাশ দাস এই শিল্পভাবনার রূপায়নের পথিকৃৎ।

শিল্পভাবনার বিষয়
সভ্যতার আদিকাল থেকে যাদের উপস্থিতি মানব সভ্যতাকে উৎকর্ষের পথে নিয়ে গেছে সেই বৃক্ষদেবতা ও গোধনকে ই ফুটিয়ে তোলা হবে ৭৮-র পল্লীর পুজোয়। শিল্পীর ভাবনায় ঋকবেদের সময় থেকেই এঁদের সাহচর্যে মানুষ নিজেদের বিকশিত করেছে।

রাঢ় বাংলার লোকসংস্কৃতি
পুরুলিয়া-বাঁকুড়া এইসব অঞ্চলে আজও বৃক্ষদেবতার নামে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন পরব হয়। সেই সব পরবের চিত্রই তুলে ধরা হচ্ছে দক্ষিণ কলকাতার এই পুজোয়।

হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতির খোঁজ
এই সমস্ত অঞ্চলে ছাতা পরব, আহ্নিক গানের মত বিভিন্ন অনুষ্ঠান এখনও হয়। আগেকার দিনে জমিদার বা প্রতাপশালী ব্যাক্তিরা এই পরব উপলক্ষ্যে বড় আয়োজন করতেন। আজ আর সেই রীতি নেই। তবু টিকে আছে এই ব্যবস্থা। তাই প্রায় হারিয়ে যাওয়া সেই সংস্কৃতিই এবার ধরা পড়বে।

বাজেট সীমিত, মনটা বড়
থিম পুজো ভাবলেই যে কোটি টাকার বাজেট মনে হয়, সেটা বিন্দুমাত্র নয়। নিজেদের সীমিত ক্ষমতার মধ্যেই পুজোর নতুন আঙ্গিককে তুলে ধরছেন ৭৮-র পল্লী-র সৌম্যা দাসের মত বাসিন্দারা।

পুজোর সঙ্গে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
পুজোর কাজ ইতিমধ্যেই দেখে গেছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ববি হাকিম। এই অভিনব ভাবনার পুজোয় তিনিও দারুণ খুশি। পাড়া কচিকাচারাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে উঠেছেন ইতিমধ্যেই। ফলে এবারের পুজো জমে যাবে তা নিয়ে দারুণ আশাবাদী পুজো উদ্যোক্তারা।












Click it and Unblock the Notifications