পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে টাকা উদ্ধারের কোনও সম্পর্ক নেই, আইন-বিচারব্যবস্থায় আস্থা তৃণমূলের
শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মডেল-অভিনেত্রী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে টাকার পাহাড় উদ্ধার নিয়ে মুখ খুলল তৃণমূল।
শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মডেল-অভিনেত্রী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে টাকার পাহাড় উদ্ধার নিয়ে মুখ খুলল তৃণমূল। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ওই টাকার উৎসের কোনও সম্পর্ক নেই বলে সাফ জানিয়ে দিলেন কুণাল ঘোষ-ফিরহাদ হাকিমরা। সেইসঙ্গে প্রশ্ন তুলে দিলেন টাকার উৎস নিয়ে।

শনিবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির পর তৃণমূল কংগ্রেস সাংবাদিক বৈঠক করে প্রশ্ন তুলে দিল- এত টাকার উৎস কী? এবং সরাসরি জানিয়ে দিল টাকা উদ্ধারের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, যাঁর বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, তিনি তৃণমূলের কেউ নন। অযথা তাঁর সঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে চক্রান্ত করা হচ্ছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে এদিন সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেবে রাজ্য সরকার ও দল। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, তৃণমূল অন্যায় করে না, অন্যায় সহ্য করে না। বিচারব্যবস্থায় তিনি দোষীসাব্যস্ত হলে তা মাথা পেতে নেবে তৃণমূল। কিন্তু চক্রান্ত হলে তা তৃণমূল মেনে নেবে না।
এদিন সংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়, পার্থ চট্টোপাধ্যায় যদি বিজেপির ওয়াশিং মেশিনে ঢুকে যেতেন এতদিন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ইডি-সিবিআই কিছু হত না। হাইকোর্টে যে মামলায় সিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছিল, সেই মামলায় হঠাৎ করে ইডি ঢুকে গিয়ে গ্রেফতার করছে তৃণমূল নেতাদের। এদিকে যিনি বিজেপির ওয়াশিং মেশিনে ঢুকেছেন তিনি ছাড় পেয়ে গেলেন। এক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারীর নাম করে তোপ দাগলেন কুণাল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিমরা।
কুণাল ঘোষ বলেন, বিজেপির প্রবীণ নেতা তথাগত রায় বারবার তাঁর টুইটে অভিযোগ করেছেন, বিজেপিতে কামিনী কাঞ্চনের খেলা চলছে। কিন্তু তথাগতবাবুর সেই অভিযোগের পরও বিজেপির বিরুদ্ধে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত হয় না। তাঁর প্রশ্ন কেন, বিজেপি নেতাদের বাড়িতে এজেন্সি যায় না, আর তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে ভোররাতে ঢুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি চক্রান্তের রাজনীতি করছে। তাই তৃণমূলের বিরুদ্ধে এজেন্সি লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানের ছবি দেখিয়ে কুৎসা করা হচ্ছে। আর যাঁরা রাশি রাশি টাকা মেরে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল তাঁদের সঙ্গে যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ছবি পাওয়া গেল, তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিজেপির বেলায় সব ধোওয়া তুলসিপাতা! ত্রিপুরায় ১০ হাজার শিক্ষকের চাকরি চলে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে দুর্নীতি নিয়ে বিজেপির কোনও মাথাব্যথা নেই। সেটা বিজেপিশাসিত রাজ্য বলে সব চুপ। বিজেপির আমলেই ব্যাপম কেলেঙ্কারি, ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারি হয়েছে, তা মানুষ ভুলে যায়নি। আর নোটবন্দির পর কালো টাকার বিরুদ্ধ এত অভিযান চলল, তারপরও এত টাকা কী করে এল, তাও তো দেখতে হবে। তাহলেই কি তদন্তেই কোনও গলদ ছিল, এ প্রশ্নও এদিন উঠে পড়ল।












Click it and Unblock the Notifications