মুকুলের অভাব ঢাকতে চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা! মদন মিত্রকে ফ্রন্টফুটে আনছে তৃণমূল
বরং দলে গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য সুযোগের অপেক্ষা করেছেন দিনের পর দিন। সেই সুযোগ আসতেই তা কাজে লাগাতে বদ্ধপরিকর মদন মিত্র।
সত্যিই কি মদন মিত্র সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরছেন? অন্তত বর্তমান পরিস্থিতি তেমনই আভাস দিচ্ছে। সব প্রতিকূলতা দূরে সরিয়ে মদন মিত্র এখন নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেছেন তৃণমূল ভবনে। তিনি নিয়মিত বসছেন মুকুল রায়ের আসনে। ফলে মদন মিত্রে সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণের পাশাপাশি আরও একটা জল্পনা ফের শুরু হয়েছে- তবে কি মুকুল রায়ের জায়গা নিতে শুরু করেছেন মদন মিত্র?
জেলে থেকেও তিনি গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে ভোটে লড়েছিলেন। কিন্তু আশাতীত সাফল্য আনতে পারেননি। তাঁকে হার মানতে হয়েছিল বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থীর কাছে। তারপর জামিন পেলেও তাঁকে তৃণমূল সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে নামায়নি। তিনিও দূরে দূরে থেকেছেন। তাঁকে নিয়ে নানা জল্পনা হয়েছে নানা সময়ে।

এমনকী সম্প্রতি ২১ জুলাইয়ের সমাবেশেও মদন মিত্র ব্রাত্য থেকেছেন। তাঁর মঞ্চে ওঠার পর্যন্ত অনুমতি ছিল না সেদিন। মঞ্চে উঠতে না পেরে তিনি সমর্থকদের সঙ্গে মাটিতে বসেছেন। কার্যত বিধ্বস্ত চেহারায় সেদিন দেখা গিয়েছিল তাঁকে। আক্ষেপ ঝরে পড়েছিল তাঁর কথায়। বলেছিলেন, তিনি মাটির কাছাকাছিই থাকতে চান। থাকতে চান মানুষের পাশে।
মদন মিত্র এমনও বলেন, মঞ্চের উঁচু জায়গা তাঁর জন্য নয়। তাঁর জায়গা সমর্থকদের পাশে মাটিতেই। প্রশ্ন উঠেছিল, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যদি রোজভ্যালি মামলায় জামিন পেয়েই মঞ্চে অন্যতম বক্তার ভূমিকা নিতে পারেন, সারদাকাণ্ডে অভিযুক্ত মদন মিত্র পারবেন না কেন মঞ্চে থাকতে? তবে কি তিনি দলে পুরোপুরি ব্রাত্যের তালিকায় চলে গেলেন?
অনেক বিতর্কের মাঝেও তিনি নীরব ছিলেন। তৃণমূল বিরোধী মন্তব্য করেননি। বরং দলে গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য সুযোগের অপেক্ষা করেছেন দিনের পর দিন। সেই সুযোগ আসতেই তা কাজে লাগাতে বদ্ধপরিকর মদন মিত্র। এখন তিনিই নাকি দলে মুকুল রায়ের জায়গা নিয়েছেন। মুশকিল আসানের কাজ করছেন তৃণমূল ভবনে বসে।
একেবারে নিয়ম করে তৃণমূল ভবনে বসছেন তিনি। মুকুলের চেয়ারেই তাঁর স্থান। দলের সমস্যা নিয়ে যাঁরা আসছেন, কথা বলছেন। তাহলে কি ফের তৃণমূলে তাঁর গুরুত্ব বাড়ল? প্রশ্নের উত্তরে একেবারে স্বকীয় ভঙ্গিতে মদন বলেন, 'এটা নতুন কিছু নয়। ডাক্তারের চেম্বারে দেখবেন- একজন ডাক্তার আসে তার আগে নেম প্লেট চেঞ্জ হয়ে যায়। আবার তাঁর জায়গায় একজন আসেন। আর কে কী কাজ করছেন বা করবেন, তা বলার দায়িত্ব দল আমাকে দেয়নি। তাই এ কথার উত্তর আমার কাছে নেই। দল যেমন চেয়েছে আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি মাত্র।'
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মুকুল রায় ফের দলে গুরুত্ব হারিয়ে দূরে সরে গিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন যে গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন, তা থেকে তিনি বর্তমানে বিরত। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, যতই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে তুলে ধরার চেষ্টা করুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলে মুকুল রায়ের অভাব অনুভূত হবেই। তাই মদন মিত্রকে এনে সেই শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা চলছে।












Click it and Unblock the Notifications