সিবিআইয়ের প্রশ্নের মুখে বসতে গত ১৫ দিন ধরে নিজেকে তৈরি করেছেন সুদীপ
সিবিআই আধিকারিকদের ছোঁড়া প্রশ্নবাণে যাতে না কোনও ভাবেই নার্ভ ফেল করে যায় সেজন্যে, গত ১৫ দিন ধরে নিজেকে তৈরি করেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সমস্ত জল্পনার অবসান। আজ মঙ্গলবার সিবিআই দফতরে হাজিরা দিলেন লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে তিনবার হাজিরা দেওয়ার নোটিশ পাঠানো হলেও, সিবিআই দফতরে আসেনি সুদীপবাবু। তাঁর সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি না হওয়ার কারণ নিয়ে শুরু হয় নানারকম জল্পনা। কেন হাজিরা দিচ্ছিলে না তিনি?
জানা গিয়েছে, সিবিআই আধিকারিকদের ছোঁড়া প্রশ্নবাণে যাতে না কোনও ভাবেই নার্ভ ফেল করে যায় সেজন্যে, গত ১৫ দিন ধরে নিজেকে তৈরি করেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সিবিআই আধিকারিকরা সম্ভাব্য যে সমস্ত প্রশ্নমালা তাঁর কাছে রাখতে পারেন, তার জথার্থ উত্তর তৈরি করেন দীর্ঘদিনের এই দুঁদে রাজনীতিবিদ।

সময় ধরে তৈরি করেছেন সমস্ত আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্রও। রোজভ্যালিকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সেই প্রশ্ন যদি সিবিআই আধিকারিকরা তাঁকে করেন, তা কিভাবে মোকাবিলা করবেন তার প্রস্তুতিও গত কয়েকদিনে সুদীপবাবু নাকি সেরে ফেলেছেন বলেই তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে। আর তাঁর এই সমস্ত প্রস্তুতিতে গত ১৫দিন ধরে সাহায্য করেছেন তিনজন আইনজীবী।
কিভাবে সিবিআইয়ের প্রশ্নবাণ সামলাবেন সুদীপ, সেই বিষয়েও আইনজীবীদের কাছে দফায় দফায় শলা পরামর্শ করেন লোকসভার এই দলনেতা। শুধু গত ১৫ দিন ধরেই নয়, আজ সকালেও সিবিআই দফতরে যাওয়ার আগে তিন আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা সেরে নেন। আলচনা শেষে সিবিআই দফতরের দিকে রওনা দেন সুদীপবাবু। কিছুক্ষণ পরেই তাঁর পিছনেই সিবিআই দফতরের দিকে রওনা হয়ে যান তিন আইনজীবী। জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সুদীপবাবুর সঙ্গে থাকতে পারেন এই তিন আইনজীবীও।
রাজনৈতিকমহলের মত, তৃণমূল নেতা মদন মিত্রের মতো ভুল করতে চাননা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, নিজেকে তৈরি না করেই সারদা-কাণ্ডে সিবিআই আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মদন মিত্র। তাই সিবিআই আধিকারিকদের কাছে থাকা একাধিক তথ্যের কোনও জথার্থ উত্তর দিতে পারেননি মদন মিত্র। তাই বক্তব্যে অসঙ্গতি পেতেই গ্রেফতার করা হয় মদন মিত্রকে।
কিন্তু এক্ষেত্রে যাতে তা না হয় সেজন্যে বারবার সিবিআইয়ের কাছে সময় চেয়ে নিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা সেরেছেন। সিবিআইয়ের সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর কি হবে তা তৈরি করেছেন। নিজেজে এমনভাবে তৈরি করেছেন যাতে জেরার মুখে পড়ে যাতে কোনওভাবেই নার্ভ না ফেল করে যায়!
অন্যদিকে, স্বভাবতই অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিনটা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটু আলদা। তাই আজ অনেক সকালেই বিছানা ছেড়ে উঠে পড়েন। এরপর চলে যান বাড়ির ঠাকুর ঘরে। দীর্ঘক্ষণ সেখানেই সময় কাটান। পুজো শেষে অন্যান্য দিন বাড়িতে আসা তাঁর সমস্ত কর্মী, সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের সমস্যার কথা শোনেন। কিন্তু আজ কারোর সঙ্গেই দেখা করেননি সুদীপবাবু। পুজো শেষে পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং তাঁর কিছু ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে দেখা করেই সিবিআই অফিসের দিকে রওনা হয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম কাছেরই মানুষ।
কিন্তু আদৌতে ১৫দিনের প্রস্তুতি সিবিআই আধিকারিকদের কাছে কাজে লাগাতে পারেন কিনা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সেটাই এখন দেখার।












Click it and Unblock the Notifications