ইস্তফা দিতে পারেন উত্তর কলকাতার বাসিন্দা তৃণমূলের প্রভাবশালী বিধায়ক! সকালেই কথা বলতে গেলেন ব্রাত্য বসু
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে দলের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি নিশানা করেছিলেন উত্তর কলকাতার তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি যোগের অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই সময়ই আরেক বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক সরব হয়েছিলেন। প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন। সেই তাপস রায় কি দল ছাড়তে চলেছেন, যা নিয়ে জল্পনা তীব্র।
সূত্রের খবর, এদিন দুপুরে বিধানসভায় গিয়ে তাপস রায় ইস্তফা দিতে পারেন। রবিবারেই তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে নাকি জানিয়েছেন, তৃণমূল আর করবেন না। তৃণমূল আর করা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে কুণাল ঘোষের বিদ্রোহ ঘোষণার পরে দলের অন্যতম নেতা তথা বিধায়ক তাপস রায় জানিয়েছেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উত্তর কলকাতায় প্রার্থী করা হলে, তিনি সেখানে প্রচারে নামবেন না। এমন কী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেও তিনি সিদ্ধান্ত বদল করবেন না বলে জানিয়েছিলেন।

সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাপস রায় অভিযোগ করেছিলেন তাঁর বাড়িতে ইডির অভিযানের পিছনেও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন। তিনি আরও বলেছিলেন, উত্তর কলকাতা কেন্দ্রের বাসিন্দারা প্রয়োজনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পান না। ভোটের চারমাস আগে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সক্রিয় হন বলেও তিনি কটাক্ষ করেছিলেন।
প্রসঙ্গত তাপস রায় বর্তমানে বরানগরের বিধায়ক হলেও, তিনি বউবাজার এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বউবাজারের বাড়িতেই দিন কয়েক আগে ইডির অভিযান হয়। অন্যদিকে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যে উত্তর কলকাতার সাংসদ তার অধীনে রয়েছে বউবাজার। একটা সময় এই বউবাজারের বিধায়ক ছিলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠদের তাপস রায় ইঙ্গিত করেছেন, তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। তিনি উত্তর কলকাতার বিজেপি প্রার্থী হতে পারেন বলেও কেউ কেউ বলছেন। তবে তাপস রায় এব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেছেন, কিছু করার হলে তিনি সবার সামনেই করবেন, কোনও কিছুই তিনি লুকিয়ে করবেন না।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাপস রায় সংবাদ মাধ্যমের সামনে বাড়িতে ১২ জানুয়ারি ইডির অভিযান নিয়ে ফের সরব হয়েছেন। তিনি বলেছেন, ১৯৯৬ সাল থেকে বিধানসভা থেকে মেডিক্যাল বিল বাবদ এক পয়সাও তোলেননি। নিজের মা, স্ত্রী, ছেলে-মেয়ের জন্য কোনও পয়সা নেননি। সেই তাপস রায়ের বাড়িতেই কিনা ইডির হানা! কার নির্দেশে ইডির হানা, সেই প্রশ্ন তিনি করেছেন।
জানা গিয়েছে, রবিবার তিনি অনুগামী ও কাছের লোকেদের নিয়ে ঘরোয়া বৈঠক করেন। সোমবার সকালে তাঁর বাড়িতে যান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং কুণাল ঘোষ। সূত্রের খবর সবার কাছেই তিনি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইডির হানা নিয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। কেন শেখ শাহজাহান কিংবা ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে ইডির হানা হলে দল বিবৃতি দিলেও, তাঁর বাড়িতে হলে দল বিবৃতি দেয় না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন।
আরও জানা গিয়েছে, রবিবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে বারে বারে ফোন করা হলেও তাপস রায় তা ধরেননি। তারপরে রাতে এক মন্ত্রীও তাপস রায়ের বাড়িতে যান বলে সূত্রের খবর। জনা গিয়েছে তাপস রায় গত পনেরো দিন ধরে নিজের বিধানসভা এলাকাতেও যাননি। ফলে লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁর দল ছাড়া নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications