সৌজন্যের রাজনীতি বদলে গেল তিক্ততায়, পার্থ ‘জবাব’ দেওয়ায় মাথাব্যথা নেই বঙ্গ বিজেপির
সৌজন্যের রাজনীতিতে ইতি! প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর স্মরণসভাকে ঘিরে রাজ্যে যে সৌজন্যের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল, তা হঠাৎ উধাও হয়ে গেল।
সৌজন্যের রাজনীতিতে ইতি! প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর স্মরণসভাকে ঘিরে রাজ্যে যে সৌজন্যের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল, তা হঠাৎ উধাও হয়ে গেল। পরিবর্তে ফিরে পেল বিষোদ্গারের রাজনীতি। তৃণমূল ও বিজেপি ফের একে অপরকে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু করে দিল। পার্থ জানালেন, তৃণমূল কংগ্রেস যাবে না বাজপেয়ীর স্মরণসভায়। তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই বিজেপিরও।

বিজেপি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর স্মরণসভাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সর্বদলীয় সভা হিসেবে প্রতিপন্ন করবে। সেই লক্ষ্যে সিপিএম-কংগ্রেসকে আগেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বিজেপি, তৃণমূলকেও আমন্ত্রণ জানাতে যাওয়ার কথা। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকেও আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি।
তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানোর আগেই তৃণমূল মুখ্যসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, তৃণমূল উপস্থিত থাকবে না অটলবিহারী বাজপেয়ীর স্মরণসভায়। তাঁর যুক্তি বাজপেয়ীজিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি গিয়েছিলেন। তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। দিল্লিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর রাজ্যস্তরে শ্রদ্ধা জানালে বাজপেয়ীজিকে অপমান করা হয়।
বিজেপি স্থির করেছিল, কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানাবেন। কিন্তু তার আগেই পার্থবাবুর এহেন মন্তব্য বিজেপি শিবিরকেও ভাবাচ্ছে। এ বিষয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানান, আমরা দেশের শতাধিক জায়গা. বাজপেয়ীজির অস্থি বিসর্জন দিয়েছি। তাঁর স্মরণসভায় সব দল আসুক আমরা চেয়েছি। কারণ বাজপেয়ীজি রাজনীতির ঊর্ধ্বের একজন মানুষ ছিলেন।
তাই তাঁর স্মরণসভায় সংকীর্ণ রাজনীতির ভেদাভেদ থাকুক আমরা চাইনি। আমরা আমাদের কর্তব্য করেছি। এবার তাঁরা আসবেন কি না, তাঁদের ব্যাপার। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এ ক্ষেত্রে রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠা উচিত। তাই ওঁদেরও আহ্বান করছি। বাকিটা তৃণমূলের ব্যাপার। মুখ্যমন্ত্রীর নিজের ব্যাপার।
উল্লেখ্য, বাজাপেয়ীজির স্মরণসভার জন্য মহাজাতি সদন বিনা পয়সায় বিজেপিকে দিয়েছে রাজ্য সরকার। বিজেপির সৌজন্যের আগে তাঁরা সৌজন্য দেখিয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্মরণসভার জন্য। বুকিং থাকা সত্ত্বেও তা বাতিল করে বিজেপিকে হল দিয়েছিল ২৯ আগস্ট। ভাড়ার টাকাও ফেরত দিয়েছিল। কিন্তু অচিরেই তৃণমূলের অনুপস্থিতির বার্তায় সৌজন্যের রাজনীতি বদলে গেল তিক্ততায়।












Click it and Unblock the Notifications