রাজ্য সরকারি সব অনুষ্ঠানের শুরুতে হবে 'রাজ্য সঙ্গীত', নির্দেশিকা মুখ্যসচিবের! পালন হবে 'রাজ্য দিবস'ও

রাজ্যের 'রাজ্য সঙ্গীত' নিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছেন বিদায়ী মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। রাজ্য সরকারের সব অনুষ্ঠান এবং কর্মসূচির শুরুতে হবে এই রাজ্য সঙ্গীত। এছাড়াও নির্দেশিকায় প্রতি বছর পয়লা বৈশাখ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে 'রাজ্য দিবস' পালনের কথাও বলা হয়েছে সেই নির্দেশিকায়।

বিদায়ী মুখ্যসচিবের দেওয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাজ্যের গরিমা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘদিন ধরেই 'রাজ্য সঙ্গীত' ও 'রাজ্য দিবসে'র প্রয়োজন অনুভূত হয়েছে। সেক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বাংলার মাটি, বাংলার জলকে রাজ্য সঙ্গীত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে পয়লা বৈশাখে রাজ্য দিবস তথা বাংলা দিবস পালনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সকল পশ্চিমবঙ্গবাসী প্রতি বছর পয়লা বৈশাখ 'রাজ্য দিবস' পালন করবেন। রাজ্য সরকারের সব অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির শুরুতে এক মিনিট উনষাট সেকেন্ড ধরে এই রাজ্য সঙ্গীত গাইতে হবে। পাশাপাশি অনুষ্ঠানের শেষে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এই দুই সঙ্গীত করতে হবে উঠে দাঁড়িয়ে তাও বলা হয়েছে নির্দেশিকায়।

এর আগে নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী এই গান গাওয়ার সময় উঠে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন। এবার রাজ্য সরকার তথা মুখ্যসচিবের নির্দেশিকায় উঠে দাঁড়ানোর কথা বলা হল।

এপ্রসঙ্গে বলে রাখা ভাল গত সেপ্টেম্বরে রাজ্য সঙ্গীত ও রাজ্য দিবস নিয়ে রাজ্য বিধানসভায় প্রস্তাব এনেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। যা পাশ করানোও হয়। তবে রাজ্য দিবস কিংবা বাংলা দিবস কিংবা পশ্চিমবঙ্গ দিবস যাই বলা হোক না কেন, তা নিয়ে বিতর্ক ছিল।

রাজ্য বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছিল ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করা হোক। কেননা ১৯৪৭ সালের ওই দিনে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় ভোটাভুটিতে বাংলা ভাগ স্থির কথা হয়েছিল। যদিও ওই দিনটি নিয়ে শাসকদলের পাশাপাশি রাজ্যের বিদ্বজনেদের একাংশের আপত্তি ছিল। কেননা ওই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশভাগের বেদনা।

এরই মধ্যে গত ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে ফোন করে চিঠি পাঠিয়েও রাজ্যপালকে তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে সরাতে পারেননি। এর পাল্টা পশ্চিমবঙ্গ দিবস কবে করা হবে তা ঠিক করতে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা ইতিহাসবিদ সুগত বসুকে শীর্ষে রেখে একটি কমিটি গঠন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কমিটিতে আহ্বায়ক ছিলেন ডেপুটি স্পিকার আশিক বন্দ্যোপাধ্য়ায়।

ওই কমিটি সুপারিশ করে পয়লা বৈশাখকেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালনের জন্য বেছে নেওয়া হোক। তারপর মুখ্যমন্ত্রী এব্যাপারে বাংলার বিশিষ্টজনেদের একাংশের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এব্যাপারে নবান্নের সভাঘরে ২৯ অগাস্ট সর্বদল বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। যদিও সেই বৈঠকে ছিলেন না বিরোধী বিজেপি, কংগ্রেস কিংবা সিপিএমের কোনও সদস্য। সেখান থেকে পয়লা বৈশাখকেই বেছে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে বাংলার মাটি, বাংলার জলকে রাজ্য সঙ্গীত হিসেবে বেছে নেন মুখ্যমন্ত্রী। তা নিয়ে অবশ্য বিশিষ্টজনেরা ঐক্যমত্যে পৌঁছতে পারেননি। এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীও গানে বাঙালি শব্দের পরিবর্তে বাংলা শব্দ প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন। তা অবশ্য শেষ পর্যন্ত আর হয়নি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+