আজ ধর্মতলায় বিজেপি-র মঞ্চে কী তোপ দাগতে চলেছেন মুকুল, সম্ভাব্য ১০টি 'মুকুল তোপ'
মাঝে কয়েক বছরের বিশ্রাম। অবশেষে রাজনৈতিক সনমাবেশে ফের মুখ্য আকর্ষণ হিসাবে আবির্ভাব ঘটছে মুকুল রায়-এর। বিজেপি-র হয়ে এদিন মুকুলের প্রথম জনসভা।
কার্যত 'রাজনৈতিক বনবাস' কাটিয়ে ফের জনসভার মঞ্চে মুখ্য আকর্ষণ হয়ে ফিরছেন মুকুল রায়। তবে, ঘাসফুল নয় এবার তিনি 'নবরূপে' আবির্ভূত হচ্ছেন পদ্মফুলের মঞ্চে। সারদাকাণ্ডে প্রথম সিবিআই জেরার পরই জনসভা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন মুকুল রায়। বছরখানেক আগে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজনীতির মুখ্য স্রোতে ফিরলেও সেভাবে জনসভায় তাঁকে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়নি। এমনকী, ২১ জুলাই-এর মঞ্চে হাজির থাকলেও একবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বক্তব্য রাখতে ডাকেননি। অথচ, মুকুলের চোখের সামনে তৃণমূলের শহিদ দিবসের মঞ্চে বক্তৃতা রেখেছিলেন তাঁর থেকে সব জুনিয়ার নেতারা। মুকুলের দেখা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না। এরপর মেদিনীপুরের এক জনসভাতেও খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে মুকুলকে দেখা গেলেও সেখানে তিনি বক্তা ছিলেন না।

সেই দিক দিয়ে কয়েক বছর এখন এতবড় জনসভায় বক্তব্য রাখবেন মুকুল রায়। বিজেপি-তে পা দিয়েই একজন রাজনৈতিক নেতার মতোই তিনি আক্রমণ শানিয়েছেন। তবে, ছোট করে রাজ্যে পরিবর্তনের কথা বললেও বিস্তারিত আকারে কিছু বলেননি। এমনকী, বিজেপি-র রাজ্য দফতরেও একটা ফাইল দেখিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেও সেভাবে মুখ খোলেননি। বরং, তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর যা বক্তব্য তা আপাতত তিনি তুলে রেখেছেন ১০ নভেম্বরের সভার জন্য। কারণ ওটাই যে তাঁর বিজেপি-তে 'অভিষেক সভা'।
এদিন ধর্মতলায় রানি রাসমনি রোডে বিজেপি-র জনসভায় মুকুল রায় যে বিষয়টিকে সবার আগে নিয়ে আসতে পারেন তা হল 'গণতন্ত্র ধ্বংস'-এর অভিযোগ। বিজেপি-তে যোগ দিয়েই রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন মুকুল রায়।
আরও যে বিষয়টিটতে মুকুল এদিন বিজেপি-র জনসভায় মুখ খুলবেন, তা হল 'পরিবর্তন'। রাজ্যে পরিবর্তন চাই বলে আওয়াজও তুলেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিকে চাইছে বলেও দিন কয়েক আগে দাবি করেছিলেন মুকুল রায়।
সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। তাই নিজের সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগাতে তাঁর অনুগামীদের উদ্দেশে এই মঞ্চ থেকেই মুকুল রায় বার্তা দেবেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশকেও মুকুল রায় এদিন তীব্র আক্রমণ শানাবেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তৃণমূলে থাকাকালীনই যখন স্বেচ্ছা রাজনৈতিক নির্বাসনে চিলেন মুকুল রায় সে সময় থেকে শীর্ষস্তরের বেশকিছু নেতাই তাঁকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছিলেন। এমন কিছু নেতা সম্পর্কে এদিন মুখ খোলার নাকি ইঙ্গিত দিয়েছেন মুকুল।
তৃণমূলের জন্মদাতা বিতর্কেও এদিন আরও একবার মুখ খুলতে পারেন মুকুল রায়। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে প্রায় দেড় দশক ধরে জ্বল-জ্বল করত মুকুল রায়-এর নাম। মুকুল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে বিড়ম্বনা শুরুর পর নির্বাচন কমিশনের খাতাতে তৃণমূল কংগ্রেসের মূল প্রধানের স্থানে মুকুলের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। এমনকী বর্তমানে তাঁকে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যেই যে হাসাহাসি চলছে তা মুকুলের কানেও পৌঁছে। রানি রাসমনি রোডে এদিনের জনসভায় এই হাসাহাসির উত্তর দিতে পারেন মুকুল।
তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতারও ইঙ্গিত দিয়েছেন মুকুল। বিশেষ করে তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের জন্মের পর সবচেয়ে বড় সহযোগিতা এসেছিল বিজেপি-র কাছ থেকে। জন্ম মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যদি বিজেপি সাহায্য না করত তাহলে আজ তৃণমূলের এত বাড়বাড়ন্ত হতে পারত না বলেই জানিয়েছেন মুকুল রায়।
এদিনের জনসভায় মুকুল রায় আরও যে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে পারেন তাহল 'মিথ্যা মামলা'। সম্প্রতি ঋতব্রত-র সেক্স স্ক্যান্ডালে জড়িয়ে গিয়েছে মুকুল রায়-এর নাম। ঋতব্রত-র বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা নম্রতা দত্ত তাঁর দ্বিতীয় এফআইআর-এ মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই এফআইআর-এর ভিত্তিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মুকুল রায়-সহ চার জনের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় বালুরঘাট থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবারই মুকুল রায় সাংবাদিক সম্মেলনে সরাসরি এই ঘটনার উল্লেখ না করলেও অভিযোগ করেন শাসক দলের বিরোধিতা করলেই 'মিথ্যা মামলা' করা হচ্ছে।
রাজ্যে ৩৪ বছরের বাম শাসনকে উৎখাত করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বড় সৈনিক হিসাবে কাজ করেছিলেন মুকুল রায়। সুতরাং তিনি ভালমতই জানেন 'পরিবর্তন'-এর রসায়নটা। সুতরাং, মুকুলের 'পরিবর্তন দওয়াই' কি হতে চলেছে সে দিকেও নজর রয়েছে বিজেপি অনুগামীদের।
'ফাইল'-এ কি আছে? ৬ নভেম্বর বিজেপি-র রাজ্য দফতে প্লাস্টিকের একটি ফোলিও কভার দেখিয়ে মুকুল দাবি করেছিলেন, ১০ নভেম্বর এই 'ফাইল'-টি হতে চলেছে তাঁর হাতিয়ার। এই ফাইলের মুখ খুলে মুকুল কী বলেন সেদিকেও নজর থাকছে রাজনৈতিক মহলের।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে সারদা- নারদকাণ্ড, এই নিয়ে কি কিছু বলবেন মুকুল রায়? তাতেও চরম আগ্রহ রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। তবে, সারদা-নারদকাণ্ড-এ মুকুল কতটুকু মুখ এদিন খুলবেন তা নিয়ে সন্দেহ আছেই। কারণ, এই দু'ই ইস্যুতে তিনি যদি এদিন তিনি তৃণমূলকে আক্রমণ করতে যান তাহলে তাঁর কালির ছিটে তাঁর গায়েও পড়বে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে দুর্নীতির কোনও অভিযোগ আনবেন কি? মুকুল রায় এতে কতটুকু মুখ খুলবেন তাতেও খুব একটা আশা নেই। তবে, এদিন রানি রাসমনি রোডের সভা থেকে মুকুল যে প্রসঙ্গটি নিয়ে মুখ খুলতে পারেন তারমধ্যে আছে রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের মতো বিষয়।












Click it and Unblock the Notifications