প্রকাশ্য সভায় ধর্মান্তকরণ ধর্মতলায়! হিন্দু সংহতির উসকানিতে আক্রান্ত সংবাদমাধ্যমও
‘হিন্দু সংহতি মঞ্চ’-এর বিরুদ্ধে এক পরিবারকে ধর্মান্তকরনের অভিযোগ ওঠে ধর্মতলার প্রকাশ্য সভায়। কোন পরিবার ধর্মান্তরিত হচ্ছে, তা জানতে গেলেই সংগঠনের সদস্যরা রে-রে করে ওঠেন।
প্রকাশ্যে ধর্মান্তকরণের অনুষ্ঠানকে ঘিরে হুলুস্থুল কাণ্ড ঘটে গেল কলকাতার বুকে। বুধবার রানি রাসমণি রোডের অনুষ্ঠান মঞ্চেই এক পরিবারকে ধর্মান্তরিত করা হয় বলে অভিযোগ। 'হিন্দু সংহতি মঞ্চ'-এর বিরুদ্ধে এক পরিবারকে ধর্মান্তকরনের অভিযোগ ওঠে। কোন পরিবার ধর্মান্তরিত হচ্ছে, তা জানতে গেলেই সংগঠনের সদস্যরা রে-রে করে ওঠেন। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা হুমকির মুখে পড়েন। এমনকী তাঁদের উপর হামলা চালানোও হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলা নিন্দনীয়। এই কাজ যাঁরা করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় তদন্তে নেমে হিন্দু সংহতি মঞ্চের সভাপতি তপন ঘোষ-সহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিন হিন্দু সংহতি মঞ্চের কর্মসূচিতে চমক আছে বলে প্রচার চলছিল সভার শুরু থেকেই। এই সভায় এদিন উসকানিমূলক ও বিদ্বেষমূলক নানা মন্তব্য করা হয় বলেও অভিযোগ। সভায় সংবাদমাধ্যমকে লক্ষ্য করেও বাক্যবাণ চালানো হয়। আর সভার প্রায় শেষ লগ্নে এক পরিবারের ১৪ জন সদস্যকে মঞ্চে তুলে ধর্মান্তরিত করা হয়। তা দেখেই কৌতুহল তৈরি হল সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মধ্যে।
তাঁরা ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চাইতেই হিন্দু সংহতি মঞ্চের সভ্যরা চড়াও হন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর। কিছুতেই ধর্মান্তরিত পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে দিতে নারাজ হিন্দু সংহতি মঞ্চের সদস্যরা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের রুখতে শেষমেশ মারমুখী হয়ে ওঠেন তাঁরা।
এদিকে হিন্দু সংহতি মঞ্চের এ ধরনের ক্রিয়াকলাপ রীতিমতো সমালোচিত হয়। সরব হয়ে ওঠে রাজ্যের বুদ্ধিজীবী মহল। সকল মানুষেরই ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিগত মত থাকতে পারে। তিনি তাঁর নিজের ইচ্ছামতো ধর্ম গ্রহণ করতেই পারেন। কিন্তু তা বলে প্রকাশ্যে এক অ-হিন্দু পরিবারকে ধর্মান্তরিত করার সংস্কৃতি এ রাজ্যে ছিল না। সম্প্রতি ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। রাজ্যের পক্ষে, দেশের পক্ষে এই প্রবণতা মারাত্মক।












Click it and Unblock the Notifications