পূর্ব কলকাতার জলাভূমি গুলিতে অবৈধ নির্মাণ রোধে কড়া পদক্ষেপ রাজ্য প্রশাসনের
পূর্ব কলকাতার জলাভূমি গুলিতে অবৈধ নির্মাণ রোধে কড়া পদক্ষেপ রাজ্য প্রশাসনের
পূর্ব কলকাতার জলাভূমির সঙ্কট দীর্ঘদিন থেকেই রাজ্য প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। উপগ্রহ চিত্র থেকে অনেকটাই স্পষ্ট, বিগত প্রায় দু’দশকে বিস্তীর্ণ-সবুজ জলাভূমিকে ধীরে ধীরে যেন গিলে ফেলছিল কংক্রিটের জঙ্গল। একসময়ের বিস্তীর্ণ এই জলাভূমির আয়তন বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক তৃতীয়াংশে। তাই পূর্ব কলকাতার ওই জলাভূমি গুলিতে অবৈধ নির্মাণ রোধে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন।

এবার ওই জলাভূমিগুলিতে যে কোনও ধরনের অবৈধ নির্মাণ রোধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স নিয়ে আসতে চলেছে রাজ্যের পরিবেশ বিভাগ। সূত্রের খবর পুরো প্রক্রিয়ায় গতি আনতে এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে এই বিশেষ টাস্ক ফোর্সে থাকতে চলেছেন এডিজি পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিকেরাও।
শনিবার পরিবেশ ভবনে রাজ্যের পরিবেশ মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রের সভাপতিত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকাও এই জলাভূমি গুলির ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে পূর্ব কলকাতার ওই জলাভূমি গুলিতে অবৈধ নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে।
এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে পরিবেশ মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র বলেন, 'শুধুমাত্র জনবল কম থাকার কারণেই আমরা এতদিন ওই এলাকার অবৈধ নির্মাণ বন্ধের জন্য কোনও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে অক্ষম হয়েছি। এই বিষয়ে আমরা কলকাতা মহানগর উন্নয়ন পর্ষদের হস্তক্ষেপের দাবি করলেও তা অনেক সময়সাপেক্ষও বটে। বর্তমানে টাস্ক ফোর্স গঠন হলে এই বিষয়ে তারা দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে পারবে।’
এদিকে বিপাকে পড়ায় পূর্ব কলকাতার জলাভূমি ভূমি গুলিতে অবৈধ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৩৮৫টি সংস্থা ইতিমধ্যে আদালতে আবেদনও করেছে। তার মধ্যে প্রায় ২৫৭টি মামলার শুনানি এখনও বাকি। তার জেরেও ওই এলাকায় সরকারী ভাবে ব্যবস্থা নিতে কিছুটা বাড়তি সময় লাগছে বলেও জানান পরিবেশ মন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ' এই বৈঠকের পর আমরা নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাচ্ছি। নবান্ন থেকে সবুজ সংকেত মিললেই কাজ শুরু করবে টাস্ক ফোর্স।’
বর্তমানে পূর্ব কলকাতার উপকণ্ঠে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে এই জলাভূমিগুলি। প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবন জীবীকার প্রসঙ্গ জড়িয়ে রয়েছে ওই জলাভূমি গুলির সঙ্গে। বাইপাস সংলগ্ন এই জলাভূমি গুলি বর্তমানে দেশের ২৬টি রামসার সাইটের মধ্যেও একটি। কিছুদিন আগেই এই জলাভূমি গুলির সামগ্রিক দূষণের ছবি তুলে ধরে আদালতে মামলা করেছিলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। পরিবেশবিদরা বলছেন, দূষণ ও অবাধ নির্মান রোধে এখনই ব্যবস্থা না নিলে একদিন সত্যিই হারিয়ে যেতে পারে মহানগরের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী পূর্ব কলকাতার এই জলাভূমি গুলি।












Click it and Unblock the Notifications