চালকের অবসরের দিন তাকে কাঁদিয়ে দিলেন মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার? কী হয়েছিল পড়ুন
কর্মজীবনের অবসরের দিন সেই সাহেবই ঘটিয়ে দিলেন এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। আর তাতেই কার্তিকবাবুর চোখ দিয়ে অঝোরধারায় নেমে এল কান্না। সাহেব এমন কাজ করবেন, কার্তিকচন্দ্র দাস ভাবেননি। কর্মীদের সকলেই এই ঘটনায় অবাক। কিন্তু কী এমন করলেন কলকাতার মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার পি উদয়কুমার রেড্ডি?
এ কোনও নামী ব্র্যান্ডের মানবিক বিজ্ঞাপন নয়। এই ঘটনা একদম বাস্তব। যার গাড়ি দীর্ঘ সময় চালিয়ে এসেছেন চালক। সেই ব্যক্তিই অবসরের দিন ওই চালককে বাড়ি নিয়ে গেলেন। গাড়ি চালিয়েই। খাস কলকাতায় এই ঘটনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তি এই কাজ করলেন।

কার্তিকচন্দ্র দাস। পেশায় গাড়িচালক। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি মেট্রো রেলের গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বয়স ৬০ হয়েছে। এবার তাঁর চাকরি থেকে ছুটি নেওয়ার পালা। জানা গিয়েছে, কার্তিকচন্দ্র দাস কলকাতার মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী পি উদয়কুমার রেড্ডির গাড়ি চালাতেন। রেলের উচ্চপদের কর্তার গাড়ি চালানো মুখের কথা নয়।
দীর্ঘ সময় ধরে কার্তিকবাবু জেনারেল ম্যানেজারের গাড়ি চালাচ্ছেন। সাহেবের গাড়ি চালানোয় অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হয়। এই সারথীকে নিয়ে কোনও সমস্যায় পড়েননি পি উদয়কুমার রেড্ডি। বরং এই সারথীর উপরে কোথাও যেন নির্ভরতাই বেড়েছে। বাড়ি থেকে অফিস, অফিস থেকে বাড়ি, রোজের রুটিনে একটুকু দেরি ছিল না।
মঙ্গলবার ৩১ অক্টোবর সেই সারথীর বিদায়। গাড়ি চালানোর থেকে এবার সরকারিভাবে অবসর নেওয়ার পালা। আর শেষ দিন বাড়ি ফেরার সময়ই ঘটে গেল উলোটপুরান। রেড্ডি সাহেব বাড়ি যাবেন বলে অফিস থেকে বেরোলেন। শেষবারের জন্য সরকারিভাবে সারথী কার্তিকচন্দ্র দাস তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেবেন। কিন্তু তেমনটা হতে দিলেন না মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার।
পি উদয়কুমার রেড্ডি গাড়ির পিছনে দরজা খুলে কার্তিকবাবুকে বসালেন। ওই আসনেই তো এতকাল বসেছেন সাহেব নিজে। এবার আরও অবাক করে পি উদয়কুমার রেড্ডি বসলেন সামনের চালকের আসনে। সারথী সহকর্মীকে কর্মজীবনের শেষ দিনে এভাবে সম্মান জানালেন তিনি।
জানা গিয়েছে, পি উদয়কুমার রেড্ডি কার্তিকবাবুকে নিজে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। একেবারে বাড়ি অবধি পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। আনন্দে, সম্মানে দুচোখ জলে ভরে গিয়েছে তাঁর? সারথী হিসেবে কি এই এত সম্মান তাঁর প্রাপ্য ছিল?
মেট্রো রেলের কর্মীরাও এই ঘটনায় উদ্ভুদ্ধ, অনুপ্রাণিত। এ এক অভাবনীয় ঘটনা। এমনই মনে করছেন মেট্রো রেলের কর্মীরা।












Click it and Unblock the Notifications