তৃণমূল নেতাদের বাধায় সাত বছর স্কুলেই যেতে পারেননি টিচার ইন চার্জ ?
সাত বছর ধরে স্কুলে যেতে পারেননি টিচার ইন চার্জ। তাঁর বেতনও আটকে রাখা হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই শিক্ষক। শেষ অবধি তাঁর পক্ষেই গেল মামলার রায়।
বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। রাজ্য সরকার এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের আইনজীবীরা প্রশ্নের কোনও সদুত্তর আদালতে দিতে পারেনি। সুদ সহ সব বকেয়া মাইনে শিক্ষককে দিতে হবে। স্কুলেও আসতে দিতে হবে। এই কথা জানিয়ে দিল হাইকোর্ট।

২০১২ সালে বীরভূমের তেঁতুলবেড়িয়া জুনিয়র হাইস্কুলে ইতিহাসের শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন সৌমেন্দ্রনাথ মিয়া। ২০১৬ সালে ওই স্কুলেরই টিচার ইনচার্জের দায়িত্ব পান। সৌমেন্দ্রনাথবাবুর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পরিচালন কমিটির সঙ্গে ২০১৬ সাল থেকেই তাঁর মতানৈক্য শুরু হয়।
অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতা রাজারাম ঘোষ ওই স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি ছিলেন। কমিটির কয়েক জন সদস্য মিলে স্কুলের খেলার মাঠে অবৈধ নির্মাণ শুরু করেন। তিনি বাধা দেওয়ায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়। শুধু তাই নয়, থানাতেও প্রভাব খাটানো হয়। স্কুলে ঢুকলে গ্রেফতার করা হবে। পুলিশ শিক্ষককে শাঁসানিও দেয় বলে অভিযোগ।
তিনি জানান, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতরকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কোনওরকম পদক্ষেপ করেনি। ওই শিক্ষকের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে পদত্যাগ করার জন্য তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। শেষমেষ তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। যদিও সেই পদত্যাগ পত্রের ভিত্তিতে স্কুল কোনও সিদ্ধান্তের কথা না জানানোয় তিনি পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নেন। শিক্ষা দফতরের কাছে আবেদন করেন তাকে যেন স্কুলে যোগদান করানো হয়।
ওই শিক্ষকের আইনজীবী আশিসকুমার চৌধুরী। তিনি আদালতে জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ কিছু না জানিয়ে বেতন বন্ধ করে দিতে পারে না। আজ পর্যন্ত তাঁকে শোকজ, সাসপেন্ড কিছুই করা হয়নি। একজন স্কুলের শিক্ষককে কিছু না জানিয়ে তাঁর বেতন বন্ধ করা সম্পূর্ণ নিয়ম বিরুদ্ধ।
স্কুল যে সব অভিযোগ এনেছিল শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তার কোনও প্রমাণ নেই। তাছাড়া, কোনও শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ এলে তৎক্ষণাৎ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিন বছর পেরিয়ে গেলে আর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। রাজ্য সরকার ও স্কুল কর্তৃপক্ষ বেতন বন্ধ করে সাত বছর বসে থাকতে পারে না। আদালতে এদিন জানিয়েছেন আইনজীবী।
রাজ্য সরকার এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের আইনজীবীরা সদুত্তর আদালতে দিতে পারেনি। বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। "একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে বেতন বন্ধ করে বসে থাকা যায় কি?" প্রশ্ন বিচারপতির।
তিনি আরও বলেন, " আইন তো অন্য কথা বলছে। আপনারা এই ভাবে বসে থাকতে পারেন না।" শিক্ষককে অবিলম্বে স্কুলে যোগদান করাতে হবে। ২০১৭ সাল থেকে সমস্ত বকেয়া সুদ সমেত শিক্ষককে মিটিয়ে দিতে হবে। এই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।












Click it and Unblock the Notifications