পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ মহালয়ার ভোর থেকে, গঙ্গার ঘাটগুলিতে নিরাপত্তার কড়াকড়ি
মহালয়া। পিতৃপক্ষের শেষ। দেবীপক্ষের শুরু। আকাশে পেঁজা তুলোর মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। আর বাতাসে আকন্দ ফুলের সুবাস। পুজো চলে এল। আর কয়েকটা দিন। পুজোর আনন্দের আগেও তো মনে বিষাদের সুর বাজে। প্রিয়জনদের ছেড়ে যাওয়ার অনুভব। যে হাতগুলো বড় করেছে, তাদেরই সময়ের সঙ্গে ছেড়ে দিতে হয়। আর ধরা যায় না কিছুতেই।
মহালয়ার ভোর তেমনই একটা চাপা কষ্টের সকাল হয়তো। পূর্বপুরষদের উদ্দেশ্যে তর্পন। প্রতি বছরের মতো এবারও কলকাতা ও হাওড়ার প্রায় সব ঘাটে তর্পণের আয়োজন করা হয়। কাকভোর থেকে চলে এই প্রথা। কলকাতার শোভাবাজার, আহিরীটোলা, বাগবাজার ঘাট, মায়ের ঘাটে তর্পণের পর্ব চলে৷

গঙ্গার ওপাড়ে হাওড়ার একাধিক ঘাটেও এই প্রথা পালন করা হয়। হাজার হাজার মানুষ মহালয়ার ভোরে গঙ্গার ঘাটে তর্পণের জন্য যান। সেজন্য নিরাপত্তার বিষয়টিও নজরদারিতে রাখা হয়। গঙ্গার ঘাটগুলির নিরাপত্তা আগেই পরীক্ষা করে নেওয়া হয়েছিল।
যে সব ঘাটের সিঁড়ি ভাঙা ছিল, সেগুলি ঠিক করা হয়েছে। ঘাটগুলিও পরিষ্কার করে আবর্জনামুক্ত করা হয়। কলকাতার উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্য বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পূর্বপুরুষকে তর্পণের জন্য গঙ্গার ঘাটে আসেন। তাদের সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও থাকেন।
গঙ্গার ঘাটে যাতে কোনও রকম অঘটন না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি রাখা হয় ঘাটগুলিতে। পুলিশ প্রচুর সংখ্যায় মোতায়েন ছিল। এছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশ ছিল ভিড়ের মধ্যেই। জলপুলিশের তরফ থেকেও নজরদারি চলে ঘাটগুলিতে।
১৪ অক্টোবর শনিবার পিতৃপক্ষ শেষ হল আশ্বিন মাসের অমাবস্যা তিথিতে। এই দিনকে শনিচরি অমাবস্যাও বলা হয়। কথিত আছে, সর্ব পিতৃ অমাবস্যার দিনে, পূর্বপুরুষরা পৃথিবী থেকে পিতৃজগতে ফিরে যান। পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রও এই দিনে জপ করা হয়।
করোনা সময়ে তর্পণের দিন নিয়মকানুনের অনেক কড়াকড়ি ছিল। যদিও শেষ অবধি সেইসব কতটা মানা হয়েছে, তাই নিয়েও প্রশ্ন ছিল। এবার এই খবর প্রকাশ পর্যন্ত নির্বিঘ্নেই তর্পণ প্রক্রিয়া চলেছে।












Click it and Unblock the Notifications