জাস্ট ২-৩ জন গ্রেফতার, দলটাই উঠে যাবে! ভবিষ্যদ্বাণী করে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের
বিচারপতির পদে ইস্তফা দেওয়ার পরে প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন আর সেখান থেকেই রাজ্যের শাসক তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। শাসকদলের সমালোচনাই যে তাঁকে রাজনীতিতে নামতে বাধ্য করেছে, তা এদিন ফের একবার বলেছেন তিনি।
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, তৃণমূল দল আর বেশিদিন পশ্চিমবঙ্গে নেই। সন্দেশখালির ঘটনার পরই কি তাঁর রাজনীতিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত, এব্যাপারে তিনি বলেছেন, সন্দেশখালির মতো ঘটনা বহু জেলায় বহু গ্রামে রয়েছে। তিনি শুনেছেন, বীরভূম জেলায় যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে না দেওয়া হয়, তাহলে নাকি ভোটই হতে দেওয়া হবে না।

সদ্য প্রাক্তন বিচারপতি বলেছেন, তৃণমূল বলে একটি দল, সেটা একটি পলিটিকাল পার্টি নয়, সেটা একটি যাত্রা পার্টি। যাঁরা ভাল লোক আছেন তাঁরা এখন বেরোতে পারছেন না। তৃণমূলকে যাত্রা পার্টি, দুষ্কৃতীদের দল বলেও আক্রমণ করেন তিনি। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেছেন, যাত্রা পালার নাম মা-মাটি-মানুষ।
তিনি এদিন বলেছেন, নারদ কাণ্ড আসলে একটা চক্রান্ত। নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, এক তালপাতাল সিপাহী সিনিয়র নেতাদের বিপদে ফেলতে চক্রান্ত করেছিল।
তিনি বলেছেন, এবারের লোকসভা ভোট সুষ্ঠ ভাবে হবে। তৃণমূলের যে দুষ্কৃতীরা রয়েছে, তাদের ওপর মহল থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঝামেলা না করতে। এব্যাপারে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় আরও বলেছেন, যাঁরা তৃণমূলের হয়ে দালালি করেন, তাঁরা সরে যান নাহলে বিপদে পড়ে যাবেন।
তিনি বলেছেন, তৃণমূল দলটি যেভাবে নড়বড়ে হয়ে গেছে, ২০০৯ সালে সিপিআইএম-এর যেমন পতন হয়েছিল এবার ২০২৪-এ তৃণমূলের সেইভাবেই পতন হবে। এবং পুরোপুরি ২০২৬ অবধি এই দলটা থাকে কি না সেইটাই দেখার। তিনি বলেছেন, ২-৩ জন গ্রেফতার হলেই পুরো দলটাই ভেঙে যাবে।
শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য প্রসঙ্গে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, উনি নিজেই বিচার ব্যবস্থার কলঙ্ক। সবসময় খারাপ কথা বলেন। তাঁর (অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়) নির্দেশ সবসময় উচ্চ আদালতে বাতিল হয়েছে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই দাবি প্রসঙ্গে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ হয়ে সুপ্রিম কোর্টে নির্দেশ মান্যতা পেয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভুল প্রচারের অভিযোগ করেছেন তিনি।
রাজ্য পুলিশ ও কলকাতার পুলিশের কাজ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, এরা তৎপর। কিন্তু তাদের কাজ করতে দেওয়া হয় না। রাজনীতিবিদরা এদের হাত-পা বেঁধে রেখেছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বলেছেন শিড়দাঁড়াটা সোজা রাখুন। রাজ্যের মহিলাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, তৃণমূলের পার্টি অফিসের সামনে লাঠি ঝাঁটা নিয়ে বিক্ষোভ করুন।












Click it and Unblock the Notifications