ভবানীপুরে নির্বাচনের জন্য দায়ী তিনিই! নিজেকে কাঠগড়ায় তুলে শুভেন্দুর নিশানায় মমতার 'তিন' কাজ
ভবানীপুরে (bhawanipore) দলীয় (bjp) প্রার্থী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়ালের ( priyanka tibrewal) সমর্থনে প্রচার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (suvendu adhikari)। এদিন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ভবানীপুরে প্রচারে ছিলেন ক
ভবানীপুরে (bhawanipore) দলীয় (bjp) প্রার্থী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়ালের ( priyanka tibrewal) সমর্থনে প্রচার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (suvendu adhikari)। এদিন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ভবানীপুরে প্রচারে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ পুরী এবং সাংসদ রূপা গাঙ্গুলি। ভবানীপুরে সভা থেকে স্বাভাবিকভাবেই শুভেন্দু অধিকারী সেখানকার প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন।

ভবানীপুরের নির্বাচনের জন্য তিনিই দায়ী
ভবানীপুরের নির্বাচনের জন্য শুভেন্দু অধিকারী নিজেকে দায়ী করলেন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, তাঁর জায়গায় গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁকে প্রাক্তন করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু নন্দীগ্রামের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেরো মুখ্যমন্ত্রীর তকমা দিয়ে পাঠিয়েছে। শুভেন্দু বলেন, দুটো কারণ নিয়ে তিনি (মমতা) নন্দীগ্রাম গিয়েছিলেন। একটা কারণ হল, দুধেল গাইরা বলেছিল, তাঁকে ৮০ হাজারে জিতিয়ে দিতে পারবেন। একদিকে শুভেন্দু অধিকারীকে হারানো যাবে, আর অন্যদিকে ভবানীপুর থেকে পালানো যাবে। কিন্তু তাঁকে ফিরতে হল সেই ভবানীপুরেই। শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, গত ১০ বছরে ভবানীপুরের জন্য কিছুই করেননি তিনি(মমতা)। উনি ও উনার পরিবার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটটাকেই কিনে নিয়েছেন! এছাড়াও খেলার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনকেও নিয়ে নিয়েছেন।

বাংলার বেটি প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল
এদিন শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, বাংলার বেটি হারা মুখ্যমন্ত্রী নন, প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল। ২ মে ভোট গণনার পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুণ্ডারা একলক্ষ লোককে ঘরছাড়া করেছিল। শুভেন্দু অভিযোগ করেন পশ্চিমবাংলার লোককে অসমের শিবিরে গিয়ে থাকতে হয়েছে। ৫৫ জনকে খুন হতে হয়েছে। এদিন এই সংখ্যাটি আরও এক বেড়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন ২ মে গণনার দিন মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপির প্রার্থী মানস সাহার ওপরে হামলা হয়েছিল। চারমাস ধরে অসুস্থ ছিলেন ওই নেতা। এই ঘটনায় সিবিআই নতুন কেস নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কেননা এই ঘটনাও নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনা। সঙ্গে তিনি বলেন এই নির্বাচন বেলেঘাটার অভিজিথ সরকারের মায়ের চোখের জল মোছানোর নির্বাচন। তিনি বলেন, একদিকে একজন ঘরছাড়া করেছেন, অন্যদিকে আমাদের মেয়ে, দিদি, বোন প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল কয়েকজন আইনজীবীকে সঙ্গে করে ঘরছাড়াদের ফিরিয়েছেন। সেই কারণে সবাইকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান করেন বিরোধী দলনেতা।

মমতাকে কটাক্ষ
ভোটের প্রচারে মমতাকে খালা, ফুপু বলা উচিত হয়নি, বলেছিলেন ডোমজুড়ের বিজেপি প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন এর উত্তর দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তিনিই (মমতা) নিজে বলেন, যে গরু দুধ দেয়, তার লাথিও খেতে তিনি প্রস্তুত। এর সঙ্গে শুভেন্দু যুক্ত করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার প্রচার শুরু করেছেন ভবানীপুরের ১৬ আনা মসজিদ থেকে। তারপরে তিনি লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরে যান। শুভেন্দু বলেন, নন্দীগ্রামেও তিনি(মমতা) প্রচার শুরু করেছিলেন মাজার থেকে। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এর আগে পশ্চিমবঙ্গের কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে সকালে রেডরোডে যেতে দেখা যায়নি, রিন্তু এই মুখ্যমন্ত্রী যান। বাংলাদেশীদের আশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে ফ্লাইওভারের নিচে রোহিঙ্গাদের বসানোর অভিযোগও এদিন করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতা বলেন, ভবানীপুরকে খিদিরপুর হতে তারা দেবেন না। খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু বলেছেন, কেউ চিরকাল সিএম থাকে না। এব্যাপারে তিনি (শুভেন্দু) নিজের তিনমন্ত্রক ছেড়ে আসার কথাও মনে করিয়ে দেন। পাশাপাশি তৃণমূলকে আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, পেট্রোলের দাম নিয়ে কথা বললেন, তারা জিএসটির মিটিং নিয়ে কোনও কথা বলছেন না।

মমতার 'তিন' কাজ
কটাক্ষ করতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে তিনটি কাজ করেছেন, ভাতা, ভিক্ষা এবং ভর্তুকি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যেখানে মোদীজি বলেন আত্মনির্ভর ভারত, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন নির্ভরশীল বাংলা। তিনি (শুভেন্দু) আরও বলেন কাজ্য ইতিমধ্যেই দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। ক্ষমতায় আসার সময়ে যেখানে একলক্ষ পঁচাশি হাজার কোটি টাকার দেনা ছিল, তা এখন পাঁচ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। এখানে ব্যবসা, শিল্প, চাকরি কিছুই নেই।
এদিনের প্রচার সভায় শুভেন্দু অধিকারীর মুখে উঠে এসেছে আফগানিস্তান প্রসঙ্গ এবং সিএএ নিয়ে মোদীর পদক্ষেপের কথা।












Click it and Unblock the Notifications