কাকাই বালিশ চেপে মারতে চায় কিন্তু...ট্যাংরা কাণ্ডে বিস্ফোরক বয়ান! ভালো মুখের আড়ালেই এমন মন?
Tangra triple murder Case: ট্যাংরায় তিন মহিলার রহস্যমৃত্যুর রেশ এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই মা-কাকিমা এবং দিদির মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি প্রতীপ দে'র। মর্মান্তিক এই ঘটনায় বাবা-কাকার সঙ্গেই বেঁচে যায় এই কিশোর। ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত প্রতীপ। প্রথমে বাইপাসের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও এখন এনআরএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সে। আর সেখানেই আজ ওই কিশোরের সঙ্গে দেখা করতে যান শিশুসুরক্ষা কমিশনের পরামর্শদাতা অনন্যা চক্রবর্তী।
যা খবর, তাঁর কাছে ঘটনা প্রসঙ্গে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন প্রতীপ। মা-কাকিমা এবং দিদির মৃত্যু কীভাবে এবং সেও কীভাবে বেঁচে যায় সেই সংক্রান্ত (Tangra triple murder Case) তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে অনন্যা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, প্রতীপের কাকা অর্থাৎ প্রসূন দে তাঁকে মারার চেষ্টা করে। মুখে বালিশ চাপা দিয়ে দীর্ঘক্ষণ রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু যোগাসন করায় দীর্ঘক্ষিণ শ্বাস ধরে রাখার ক্ষমতা ছিল প্রতীপের। আর তা আটকেই মরে যাওয়ার ভান করে বেশ কিছু ক্ষণ প্রতীপ পড়েছিল বলে দাবি শিশুসুরক্ষা কমিশনের পরামর্শদাতার। মৃত্যু হয়েছে ভেবেই কাকা তাকে ছেড়ে দিয়েছিল বলেও মন্তব্য।
এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়েই এদিন শিশুসুরক্ষা কমিশনের পরামর্শদাতা অনন্যা চক্রবর্তী আরও বলেন, প্রতীপের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে। কীভাবে মা কাকিমা এবং দিদিকে কাকা খুন করেছে তা জানিয়েছে। এমনকী ঘুমের ওষুধ মেশানো পায়েস খাওয়ানো হয় সেই কথাও জানিয়েছেন। আর তা বলতে গিয়ে অনন্যাদেবী বলেন, ঘুমের ওষুধ মেশানো পায়েস মা-কাকিমা এবং দিদির সঙ্গে ওকেও দেওয়া হয়। এরপরেও বালিশ চাপা দিয়ে কাকা ওকে মারতে আসে। এই কথা জানাতে গিয়ে কার্যত শিউরে ওঠেন।
অনন্যা চক্রবর্তীর কথায়, বাবা-কাকাদের যে ব্যবসার অবস্থা খারাপ তা ওই কিশোর জানুয়ারি মাস থেকেই জানত। এমনকী এই বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করত তাও সে সবটাই জানত বলেও দাবি। মহিলা কমিশনের পরামর্শদাতার কথায়, গোটা ঘটনা আমাকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। ধার দেনা যে একটা পরিবারকে এমব একটা পরিণতির দিকে ঠেলে দেবে তা কল্পনারও বাইরে। অনন্যাদেবীর কথায়, পরিস্থিতি যাই থাকুন না কেন গোটা পরিবারকে এ ভাবে শেষ করে ফেলার অধিকার কারোর নেই।
বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকদিন আগে ট্যাংরা একই পরিবারে তিন মহিলার রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়। রহস্যজনক ভাবে সেই পরিবারের এক কিশোর সহ দুই পুরুষ বাইপাশে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটান। পুলিশের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করছিল তাঁরাও। এই ঘটনায় পরতে পরতে রহস্য। এরমধ্যেই চাঞ্চল্যকর দাবি কিশোরের।












Click it and Unblock the Notifications