এখনকার তালিবানরা আগের চেয়েও ভয়ঙ্কর, স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউয়ের স্রষ্টা সুস্মিতার ভাই
এখনকার তালিবানরা আগের চেয়েও ভয়ঙ্কর, স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউয়ের স্রষ্টা সুস্মিতার ভাই
সময় পাল্টে গেলেও বদলায়নি তালিবানরা। বদলায়নি তাদের নৃশংসতা। বরং এখনকার তালিবানরা আরও বেশি ভয়ঙ্কর, নৃশংস এমনটাই মনে হচ্ছে কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউয়ের স্রষ্টা সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই গোপালের। তিনি জানাচ্ছেন, যে খবর আফগানিস্তান থেকে প্রতিনিয়ত আসছে, তা তাঁর দিদি সুস্মিতার বলা কাহিনির থেকেও ভয়ঙ্কর। পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন, জঙ্গিরা কি কখনও দেশ চালাতে পারে? অন্য কয়েকটি দেশ তালিবানদের সমর্থন জানিয়েছে। সেদেশে ভালো মানুষ মারা যাচ্ছেন। এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত গোপাল। তাঁর মনে হয়েছে, আফগানিস্তানে এই মুহূর্তে যা অবস্থা তাতে যে কোনও সময় যে কেউ খুন হয়ে যেতে পারেন।

কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউ হিসেবেই বাংলা তথা সারা বিশ্বে খ্যাতি পেয়েছিলেন সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতায় জন্মানো সুস্মিতা আশির দশকের শেষে পালিয়ে বিয়ে করেন আফগান যুবক জানবাজ খানকে। সেই বিয়ে পরিবার মেনে নেয়নি। দুজনকে আলাদা করে দিতে চাইলে তিনি তাঁর স্বামীকে নিয়ে পালিয়ে যান আফগানিস্তান। সেখানে তাঁর ঢাকার অভিজ্ঞতায় তিনি নিজের বইয়ে লিখেছিলেন।
জীবন কখনও এক খাতে বয় না। ভালোবেসে যে মানুষটিকে বিয়ে করেছিলেন আফগানিস্তান পৌঁছানোর পর সুস্মিতা জানতে পারেন তাঁর প্রিয় জানবাজের প্রথম স্ত্রী রয়েছে। নাম তাঁর গুলগুটি। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি সেই পরিবারে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। থাকতেন আফগানিস্তানে স্বামী জানবাজের পৈত্রিক গ্রামের বাড়িতে। জানবাজ ব্যবসা সূত্রে কলকাতায় ফিরলেও সেই সময় কিন্তু সুস্মিতা আফগানিস্তানকে ভালোবেসে সেদেশে থেকে গিয়েছিলেন।

পরবর্তী পোস্ট পরিস্থিতিতে সুস্মিতা আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁকে ধরে গৃহবন্দি করা হয়। জারি করা হয় ফতোয়াও। তাঁকে হত্যা করার দিনও নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধানের সহযোগিতায় তিনি কোনওক্রমে পালিয়ে বাঁচেন। চলে আসেন কাবুলে। এবং সেখান থেকে বিমান ধরে কলকাতায় ফেরেন হাজার ১৯৯৫ সালের অগাস্ট মাসে।

তারপরেই ১৯৯৭ সালে তার লেখা কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউ প্রকাশিত হয়, যা সারা বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। ২০১৩ সাল পর্যন্ত সুস্মিতা ভারতেই ছিলেন। বেশ কয়েকটি বইও লেখেন। কিন্তু সেবছর তিনি আফগানিস্তান বদলে গিয়েছে মনে করে ফিরে যান কাবুলিওয়ালার দেশে। আর তারপরই ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যরাতে সুস্মিতাকে টেনে-হিঁচড়ে চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায় তালিবানরা। বাড়ির সকলের মাথায় এমনকী স্বামী জানবাজের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রেখেছিল তালিবান জঙ্গিরা। পরের দিন সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে গুলিবিদ্ধ সুস্মিতার নিথর দেহ পড়েছিল। ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল সুস্মিতার দেহ। তালিবানরা প্রথমে এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিল যে সুস্মিতাকে তাঁরা খুন করেছে।












Click it and Unblock the Notifications