শাসকের স্বাধিকারভঙ্গের প্রস্তাবকে 'ইগনোর'! তৃণমূলকে 'দশকর্মা ভাণ্ডার' বলে কটাক্ষ শুভেন্দু অধিকারীর
তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের আনা স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাবকে গুরুত্বে নারাজ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা তিনি ফের একবার বিধানসভার অধ্যক্ষকে নিশানা করেন।
বিধানসভায় তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে বিষয়টিকে একেবারের গুরুত্ব দিতে রাজি নন। প্রচারের আলোয় থাকতেই এই পদক্ষেপ বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এনিয়ে সাতটা স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব আনল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

গুরুত্বে নারাজ
তাঁর বিরুদ্ধে আনা স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাবকে গুরুত্বে নারাজ বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেছেন, এনিয়ে সাতটা স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব আনা হল। ভবিষ্যতে আরও দুটো, চারটে, ছটা, আটটা, দশটা, পনেরোটা আনতে থাকুন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, পারসেরশন জেনারেট করা আর মিডিয়াতে টিকে থাকা এটাই করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে স্বাধিকার ভঙ্গ নিয়ে কোনও গুরুত্ব কিছু নেই। তাঁরা এইসব নিয়ে ভাবিতও নন। তিনি পুরোপুরি ইগনোর করছেন বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শাসকদলকে তিনি দশকর্মা ভাণ্ডার বলেও কটাক্ষ করেন।

পারসেপশন তৈরি করা
বিরোধী দলনেতা কটাক্ষ করে বলেছেন, স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব এনে তৃণমূল তাদের সদস্য সমর্থকদের কাছে তুলে ধরতে চাইছে, মমতা বন্দ্যোরাধ্যায়ের কোম্পানি শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল। এছাড়া এদের কোনও কাজ নেই। তারা একটা চিঠি পাঠাবে। তিনি উত্তর দেওয়ার পরে ওদেরকে প্রমাণ করতে হবে।

ফের অধ্যক্ষকে নিশানা
বিধানসভার বর্তমান অধ্যক্ষের সময়ে রীতিনীতি মানা হয় না বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার। অধ্যক্ষ সংবিধানের দশম তফশিল মানেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এপরেই তিনি অধ্যক্ষের মুকুল রায় তো বিজেপিতে, মন্তব্যের উল্লেখ করেন। কৃষ্ণ কল্যাণীকে পিএসির চেয়ারম্যান করা নিয়ে অধ্যক্ষের বিজেপির কোটা থেকে করা হয়েছে, মন্তব্যেরও কটাক্ষ করেন তিনি। অথচ কৃষ্ণ কল্যাণী তৃণমূলের পতাকা নিয়ে ঘুরছেনস পার্টি অফিসে বসেছেন, ভাষণ দিচ্ছেন, কিন্তু বিধানসভা ভিত়রে তাঁকের বলা হচ্ছে বিজেপি।
শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেছিলেন, অধ্যক্ষ বেআইনি কাজ করছেন।

শুক্রবার বিধানসভায় ঠিক কী হয়েছিল
শুক্রবার বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্য নিয়ে যত গণ্ডগোল। বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের একেবারে শেষের দিকে তিনি বলেন, বাগদার বিশ্বজিৎ দাস এবং রায়গঞ্ডের কৃষ্ণ কল্যাণী কোন দলে রয়েছেন, তাঁরা বিজেপি না তৃণমূলে? পাল্টা সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক বলেন. শিশিরবাবু এখন কোন দলে রয়েছেন। এই সব শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন একমাসের মধ্যে জেলে ঢুকিয়ে দেবো। সেই পার্থ ভৌমিক অধ্যক্ষের উদ্দেশে বলেন. তাঁকে জেলে ঢোকানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিরেধী দলনেতা এই সব পাল্টা বলেন. শিশিরবাবু কি এই হাউজের মেম্বার, কেন শিশিরবাবুর নাম নেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন শুভেন্দু অধিকারী। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এই সময় শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে বলেন, ওই ধরনের মন্তব্য না করতে।
এরপর শনিবার তৃণমূলের তরফে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিশ দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ সেই প্রস্তাব পাঠিয়ে দেন কমিটির কাছে। কমিটি রিপোর্ট দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ।












Click it and Unblock the Notifications