১ হাজার ৮৬ কোটি টাকার দুর্নীতি ফাঁস! মমতার সরকারের বিরুদ্ধে বোমা ফাটালেন শুভেন্দু
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা-মাটি-মানুষের সরকারের বিরুদ্ধে ফের বোমা ফাটালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় জল প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রাজ্য সরকার ১ হাজার ৮৬ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা-মাটি-মানুষের সরকারের বিরুদ্ধে ফের বোমা ফাটালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় জল প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রাজ্য সরকার ১ হাজার ৮৬ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে সেই দুর্নীতিই ফাঁস করেলেন। প্রমাণ-সহ তিনি এই দুর্নীতির তথ্য পরিবেশন করে তিনি বললেন, এটি ইউপিএ-র টু-জি স্পেকট্রামের মতো দুর্নীতি।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এদিন কাঠগড়ায় তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের জনস্বাস্থ্য কারিগরী মন্ত্রী পুলক রায়কে। তাঁর বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ আনেন শুভেন্দু অধিকারী। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কতিপয় সংস্থাকে টেন্ডার পাইয়ে দিয়ে বিশাল অঙ্কের কাটমানি খাওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি নথি দেখিয়ে অভিযোগ করেন, এভাবে কোনও দফতর কোনও প্রকল্পের কাছে টেন্ডার করতে পারে না। আসলে এটা একটা চক্র কাজ করেছে, যাঁরা বিশাল অঙ্কের এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন দাবি করেন, ২১৩ টাকা দামের ফেরুল মানুষকে ৫৭০ টাকায় কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। এভাবে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ফেরুল দুর্নীতি হয়েছে। আর এই সব টাকা তৃণমূলের শীর্ষস্তরে পৌঁছেছে। রাজ্যের বুকে বিরাট এই দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি সোমবারের মধ্যেই কেন্রীবিয় নগরোন্নয়নমন্ত্রী গজেন্দ্র শেখাওয়াকে চিঠি লিখবেন বলেও জানান।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন দাবি করেন, কেন্দ্রীয় জল জীবন মিশনের অধীনে ফেরুল কেনার বরাত পেয়েছেন হাওড়ার নির্দিষ্ট তিনটি সংস্থা। আর তারাই সব ক-টি টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেছে। তাদের মধ্যে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এক জনকে অযোগ্য ঘোষণা করে অন্য দুই সংস্থার মধ্যে টেন্ডার খুলে দেওয়া হয়েছে। এর বিনিময়ে ওই সংস্থাগুলি থেকে মোটা টাকার কাটমানি আদায় করে নিয়েছে। আর এই দুর্নীতিতে তিনি সরাসরি তোপ দেগেছেন জনস্বাস্থ্য কারিগরিমন্ত্রী তথা পূর্তমন্ত্রী পুলক রায়ের বিরুদ্ধে। এই দুর্নীতিতে জড়িয়ে রয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের বেশ কয়েকজন আধিকারিক ও ভাইপোর পিএ এস রায়ও।
এমনকী বিরোধী দলনেতা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে নিজেদের নামে চালিয়ে মন্ত্রী পুলক রায়কে দিয়ে বিশাল অঙ্কের কাটমানি সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, গরু, কয়লা, পাথর পাচারের টাকা যেখানে পৌঁছয়, এই টাকাও সেখানে পৌঁছেছে। ইউপিএ আমলে যেভাবে টুজি স্পেকট্রাম, কমনওয়েলথ গেমসের মতো দুর্নীতি হয়েছিল, এক্ষেত্রেও তেমন দুর্নীতির হয়েছে। তাই আমি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চিঠি লিখে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শুরুর আবেদন করব। তা না হলে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী।












Click it and Unblock the Notifications