'হিজাব' নিয়ে পিতৃপক্ষে পুজো উদ্বোধনে মমতার বার্তা বিশেষ সম্প্রদায়কে, তোপ শুভেন্দুর
মহালয়ার আগেই শারদোৎসবের উদ্বোধন শুরু করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাতেই তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
টনসিল ফুলেছে। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে একটি কাপড় চেয়ে নিয়ে তা দিয়ে মাথা, কান, গলা জড়িয়ে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। একে হিজাব বলে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু।

বিরোধী দলনেতা বলেন, পিতৃপক্ষে পুজো উদ্বোধন অত্যন্ত অন্যায়। অতীন ঘোষের পুজোতে তিনি বিশেষ সম্প্রদায়কে বার্তা দিয়েছেন হিজাব নিয়ে। যা সরাসরি হিন্দুদের আস্থা, রীতি-নীতি, পরম্পরায় আঘাত। পিতৃপক্ষের শেষ দিন আজ। প্ল্যানমাফিক সব হয়েছে। হিন্দুরা বিভক্ত। ভোট দিতে যান না সবাই। গেলেও অনেকে অনেকভাবে ভোট ভাগ করেন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ বার্তা দিচ্ছেন ৩২-৩৩ শতাংশ বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষকে। বার্তা দিচ্ছেন যে তিনি সেক্যুলার, প্রো-মুসলিম। ক্লিয়ার মেসেজ। ভোটব্যাঙ্ক এককাট্টা করতেই এটা করেছেন।
শুভেন্দু আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বৃষ্টি থেকে বাঁচতে নিজেই ছাতা হাতে ধরতে পারতেন। তিনি নিজেকে সাধারণ নাগরিক বলেন। ফলে সিকিউরিটিকে দিয়েও ছাতা ধরানোর দরকার নেই। বয়স হয়েছে। শরীরের সমস্যা থাকতে পারে। বৃষ্টিতে ভেজা উচিত নয়। কাঁচি নিয়ে ঘুরতে হবে। তবে হিজাব পড়ার দরকার নেই। আর নচিকেতা আরামবাগের মেলায় গিয়ে শ্রীরামচন্দ্রকে আক্রমণ করেছিলেন। হিন্দুদের ভগবানকে আক্রমণের জন্য পুরস্কার, ভাতা, সম্মান পাবেন। মুখ্যমন্ত্রীও খুশি।
শুভেন্দু আরও বলেন, পঞ্জিকা শাস্ত্রমতে কিছু করতে দেন না মুখ্যমন্ত্রী। উনি চান আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবকে কালচারাল প্রোগ্রামে পরিণত করা। জোর করে অসম্পূর্ণ পুজোমণ্ডপের উদ্বোধন করছেন। ১ লক্ষ ১০ লক্ষ টাকার ভয় দেখিয়ে উদ্বোধন করবেন। আজ অতীন ঘোষ, সুজিত বোসের মতো কর্মচারীদের পুজো উদ্বোধন করলেন। ঠাকুর রেখে দিতে হবে ৫ তারিখ অবধি, কারণ উনি এপাং-ওপাং-ঝপাং করেন তার জন্য। বিজয়া দশমীতে ইচ্ছে থাকলেও অনেকে বিসর্জন দিতে পারবেন না। উনি হাত নাড়বেন আর সংবাদমাধ্যম লাইভ করবে।
যদিও এর পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, হিন্দু ধর্মের বিষয়ে আমরা অনেক কিছু শিখিয়ে দেব শুভেন্দুদের। ওঁরা হিন্দু ধর্মকে ভোটের জন্য ব্যবহার করছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে তিন হাজারের বেশি পুজোর উদ্বোধন করতে হবে। কিছু জায়গায় নিজে যাবেন, কিছু হবে ভার্চুয়াল। হাজারের বেশি পুজোর উদ্বোধন করতে পারবেন না সময়ের অভাবে। তাঁর কাছে রেকর্ড সংখ্যক আমন্ত্রণ এসেছে। উনি মণ্ডপ উদ্বোধন করেছেন, শারদোৎসবের সূচনা করেছেন। পুজোর আসল উদ্বোধন হয় তো ষষ্ঠীর বোধনের মাধ্যমে। তবে পুরুলিয়া, গড়পঞ্চকোটে পঞ্জিকা মেনে পুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। ১৬ দিন ধরে পুজো চলবে, শেষ হবে দশমীতে। পিতৃপক্ষের অবসানের আগেই রেডিওতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ-সহ মহালয়ার অনুষ্ঠান ভোরে সম্প্রচারিত হয়। তখনও কিন্তু পিতৃপক্ষই থাকে, দেবীপক্ষ তার পর শুরু হয়।












Click it and Unblock the Notifications