বিধানসভায় দুই বিধায়ক রণং দেহি, শুভেন্দুর সৌজন্যে অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে রক্ষা
রণং দেহি মূর্তিতে হাত উঁচিয়ে কংগ্রেস বিধায়ক তেড়ে গেলেন তৃণমূল বিধায়কের দিকে।অপ্রীতিকর ঘটনা অবশ্য ঘটেনি। শুভেন্দুর তৎপরতায় কোনওরকমে হাতাহাতি এড়ানো গিয়েছে।
মুর্শিদাবাদে বাস দুর্ঘটনার আঁচ প্রবেশ করল বিধানসভার অন্দরে। দুই বিধায়কের মারমুখী মেজাজে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভায় অধিবেশন। অধীর চৌধুরী ঘনিষ্ঠ বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী একেবারে রণং দেহি মূর্তিতে হাত উঁচিয়ে তেড়ে গেলেন তৃণমূল বিধায়ক মানস মজুমদারের দিকে। অপ্রীতিকর ঘটনা অবশ্য ঘটেনি। শুভেন্দুর তৎপরতায় কোনওরকমে বিধায়কদের হাতাহাতির মতো ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুর্শিদাবাদের বাস দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরুর পরই ঘটে বিপত্তি। তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য রাখছিলেন। তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করেন কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী। সেই আলোচনার মাঝেই হঠাৎ রে-রে করে তৃণমূল বিধায়ক মানস মজুমদারের দিকে তেড়ে যান মনোজবাবু। হকচকিয়ে যান সবাই। সেইসময় শুভেন্দু অধিকারী ধরে ফেলেন মনোজ চক্রবর্তীকে। তাঁকে জড়িয়ে ধরে কোনওরকমে আটকান শুভেন্দু।
কিন্তু হঠাৎ কী হল মনোজবাবুর? কেন তিনি তেড়ে গেলেন মানস মজুমদারের দিকে? কংগ্রেস বিধায়ক বলেন, 'মুর্শিদাবাদ বাস দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলার সময় তাঁকে উদ্দেশ্য করে তির্যক মন্তব্য করেন মানস মজুমদার। মনোজবাবুর কানে সেই মন্তব্য যেতেই মেজাজ হারান তিনি। তারপরই তেড়ে যান। যদিও এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস বিধায়কের সাফাই, আমি মারতে যাইনি। আমার মারার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না।'
বাস দুর্ঘটনা নিয়ে বুধবার কোর কমিটির বৈঠকেই সুর চড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, দু'ঘণ্টা বিক্ষোভ দেখিয়ে উদ্ধারকাজে নামতে দেওয়া হয়নি। দু'ঘণ্টা আগে উদ্ধারকাজ শুরু করলে হয়তো দু-একটা প্রাণও বাঁচানো যেত। সেটাই লাভ হত। এই ভাঙচুরের রাজনীতি তিনি বরদাস্ত করবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের তির যে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর দিকে ছিল, একপ্রকার তাও স্পষ্ট করে দেন মমতা। একইভাবে এদিন তৃণমূল বিধায়করা সুর চড়ান। আর প্রতিবাদ করেন অধীর-ঘনিষ্ঠ বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী। তাতেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। শেষপর্যন্ত বিধানসভায় বিধায়কদের হাতাহাতির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয় শুভেন্দু অধিকারীর তৎপরতায়।












Click it and Unblock the Notifications