ষোলো 'গুণ্ডা'কে গ্রেফতারের দাবি! তাঁর বিরুদ্ধে রাজীব কুমারকে দিয়ে তদন্ত করানোর বড় চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর
দুই মন্ত্রীর হাতাহাতির পরে দিনহাটা গিয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। যা নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পিংলায় মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন। তারপর তিনি বলেন, সংবিধান রক্ষা করতে দিনহাটায় দিয়েছিলেন রাজ্যপাল।
রাজভবন থেকে বেরিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পিংলায় বুথ সভাপতির ভাই বিজেপি কর্মী শান্তনু ঘরাইকে খুন করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রথমে পুলিশ এফআইআর নিতে চায়নি। পরে বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি এবং বিজেপি প্রার্থীর আন্দোলনের জেরে এফআইআর নেওয়া হলেও, ম্যাজিস্ট্রেটের অনুপস্থিতিতে গায়ের জোরে পোস্ট মর্টেম করা হয়েছে।

তিনি বলেছেন, দেহ ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হলেও পুলিশের তরফে টুইট করে দাবি করা হয়েছে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা এদিন অভিযোগ করেছেন, ক্যানিং পূর্বে সওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হোসেন শেখের নেতৃত্বে ত্রিশজন বিজেপি কর্মীকে মারা হয়েছে। ওই ঘটনায় তিনজন বিজেপি কর্মী কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে এখনও ভর্তি। এই ঘটনায় পুলিশ এফআইআর নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলনেতা।
এছাড়াও সোমবার রাতে নদিয়ার শান্তিপুরে তৃণমূল নেতা নাবালিকা ধর্ষণ করেছে। ওই নাবালিকার বাড়ির লোক বিজেপির বুথ সভাপতি বলেও দাবি করেন বিরোধী দলনেতা।
বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেছেন, এসডিও বসিরহাট বিজেপির সভার অনুমতি ঝুলিয়ে রেখে বাতিল করে দিয়েছেন। সব বিষয়ে বিরোধী দলনেতা রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।
বিরোধী দলনেতা আরও বলেছেন, ২০২১-এ ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস পরিদর্শনে যে অনুসন্ধানকারী দল এসেছিল, সেই দলের সদস্য ছিলেন বর্তমান রাজ্যপালও। সেই সময় তাঁর ভূমিকা অন্য হলেও রিপোর্টে রাজ্যে উনিশজন গুণ্ডার নামে অভিযোগ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেষ্ট মণ্ডল, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, শেখ শাহজাহান জেলে গিয়েছে। কিন্তু এখনও উদয়ন গুহ, সওকত মোল্লা, জাহাঙ্গির শেখের মতো ষোলোজন বাইরেই রয়ে গিয়েছে। এদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি করেছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারের কাছে বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, বাংলার জন্য অন্য রাজ্য থেকে বিশেষ পর্যবেক্ষক এবং পুলিশ পর্যবেক্ষণ আনতে হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, কীভাবে আদর্শ আচরণবিধি লাগু হওয়ার পরেও এয়ারপোর্ট থেকে মা ফ্লাইওভার পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকতে পারে? সেখানে ছবি রয়েছে, দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুরও। কিন্তু সেখানে নরেন্দ্র মোদী-সহ অন্য বিজেপি নেতাদের ছবি নেই।
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, এইসব ছবিতে হাত দেওয়ার ক্ষমতা নেই বিডিওদের। তাহলে কি আদর্শ আচরণবিধি সারা ভারতে একরকম আর পশ্চিমবঙ্গে একরকম, প্রশ্ন করেন তিনি।
তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের শিক্ষক নিযোগ দুর্নীতিতে শুভেন্দু অধিকারী-অর্জুন সিংদের যুক্ত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজীব কুমারকে দিয়ে তদন্ত করিয়ে কিছু করার থাকলে করবেন!












Click it and Unblock the Notifications