সন্দেশখালি নিয়ে বিধানসভায় প্রতিবাদ! অধ্যক্ষের নির্দেশ অমান্য করায় সাসপেন্ড শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি বিধায়করা
সোমবার শুরু থেকেই বিধানসভায় হট্টগোল। এদিন বিজেপি বিধায়করা 'সন্দেশখালির পাশে আছি' লেখা সাদা গেঞ্জি পরে আসেন। আপত্তি জানান অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এইরকমভাবে বিধানসভায় আসা যায় না। অধ্যক্ষ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে 'সন্দেশখালির পাশে আছি' গেঞ্জি খুলে ফেলতে বলেন। জানান এটা বিধানসভার নিয়ম বিরুদ্ধ। কিন্তু সেই কথায় কর্ণপাত করেনি গেরুয়া শিবির।
বিজেপি বিধায়করা বিধানসভায় সন্দেশখালি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতির দাবি করেন। সেই সময় অধ্যক্ষ বলেন, সরকার এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী স্বরাষ্ট্র সফরের প্রশ্নোত্তর পর্ব কেন হচ্ছে না সেই নিয়ে তালিকা বহির্ভূত প্রশ্ন করেন। প্রশ্ন শুনলেও তা লিপিবদ্ধ রাখতে বারণ করেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরপর বিজেপি বিধায়করা স্লোগান দিতে দিতে কাগজ ছিঁড়তে থাকেন। শেষে চেয়ার ছেড়ে মেঝেতে বসেন। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কাগজ ছিঁড়ে বিধানসভার মহিলা কর্মীদের গায়ে ছুড়ে মারার অভিযোগ করেন। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই সংক্রান্ত মোশন আনেন। মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষ বিজেপি পরিষদীয় দলকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব দেন। তারপরেই অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, অগ্নিমিত্রা পাল, তাপসী মন্ডল, শকর ঘোষ, বঙ্কিম ঘোষ, মিহির গোস্বামীকে অধিবেশনের অবশিষ্ট সময়ের জন্যে সাসপেন্ড করেন।
তৃণমূল পরিষদীয় দলের দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি পরিষদীয় দল অভব্য আচরণ করেছে। অধিবেশনের কাগজপত্র ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। হুইসল বাজানো হচ্ছিল। এমন আচরণ দেখেই বিজেপি বিধায়কদের সাসপেন্ড করা হয়েছে।
এরপর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অন্যায় কোনও কথা লেখা হয়নি। তিনি আরও বলেন, সন্দেশখালির পাশে থাকতে পেরে তিনি গর্বিত। এর আগে বগটুই কাণ্ডের প্রতিবার করে পাঁচ মাস বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড হওয়ার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেছেন, রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় আসেন না। আজ পর্যন্ত বিজেপি বিধায়কদের স্বরাষ্ট্রদফতরের কোনও প্রশ্নের জবাব দেন না। বিধানসভায় সন্দেশখালি নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেননি। মুখ্যমন্ত্রীদের প্রশ্ন তোলায় বিজেপি বিধায়করা সাসপেন্ড হয়েছে। সন্দেশখালির মা বোনেদের সম্মান বাঁচাতে যদি এভাবে সাসপেন্ড করা হয়, তাহলে ভয় করব না লড়াই করে যাব।
অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এদিন (Sandeshkhali Incident) যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপি পরিষদীয় দলের। বামেদের তরফেও একটি প্রতিনিধি দল এলাকায় যেতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে এদিন সকাল থেকে সন্দেশখালির পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক। সিপিআইএম এদিন সেখানে বারো ঘন্টার বনধের ডাক দিয়েছে। রাজ্যপালের সফরের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে সন্দেশখালি জুড়ে ব্যাপক পুলিশি বন্দোবস্ত করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications