বেহালায় বৈশালীর পুত্রের উপর হামলার ঘটনায় তৃণমূলকে আক্রমণ শুভেন্দুর
বালির প্রাক্তন বিধায়ক তথা অধুনা বিজেপি নেত্রী বৈশালী ডালমিয়ার পুত্র বেহালায় আক্রান্ত। অভিযোগের তির তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে এদিনই রাতে বৈশালীর বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি।
Met Baishali Dalmia's son Rik today who was brutally attacked by the TMC goons today at Behala . Rudranil Ghosh was also present there.
— Suvendu Adhikari • শুভেন্দু অধিকারী (@SuvenduWB) May 31, 2021
বেহালাতে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডা বাহিনীর হাতে আক্রান্ত বিজেপি নেত্রী বৈশালী ডালমিয়ার ছেলে রিকের সাথে দেখা করলাম , সাথে ছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। pic.twitter.com/7rfMqImRRI
এদিন দুপুরেই ফেসবুক লাইভ করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া বৈশালী ডালমিয়া।
প্রয়াত কিংবদন্তি ক্রিকেট প্রশাসক জগমোহন ডালমিয়ার কন্যা বৈশালী। তাঁর পুত্র ঋককে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা মারধর করার পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করে বলেও অভিযোগ। এই মর্মে বেহালা থানায় অভিযোগও জানান বৈশালী।

তীব্র নিন্দা শুভেন্দুর
শুভেন্দু অধিকারী বৈশালী ডালমিয়া ও ঋকের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমাদের সন্তানতুল্য ঋকের উপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে তার নিন্দার ভাষা নেই। আইনগতভাবে এই ঘটনার মোকাবিলা করতে হবে। কয়েকদিন আগে রুদ্রনীল ঘোষ ত্রাণ বিলি করতে গিয়ে ভবানীপুরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কলকাতার বুকেই যদি এমন আক্রমণের শিকার হতে হয় বিরোধী দল করার জন্য, তাহলে গোসাবা, ক্যানিং থেকে কেশপুর, গড়বেতায় কী অবস্থা সেটা সকলেই বুঝতে পারছেন।

ঘটনার সূত্রপাত
ঘটনা এদিন সকাল দশটা-সাড়ে দশটা নাগাদ বেহালা চৌরাস্তার কাছে জেমস লং সরণিতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুটি গাড়ির রেষারেষি থেকেই গণ্ডগোলের সূত্রপাত। গাড়ি সরানো নিয়েই শুরু হয় বচসা, পরে তা গড়ায় মারধর অবধি। বৈশালী ডালমিয়ার ধারণা, রাজনৈতিক কারণেই এই আক্রমণ। যদিও দুই মহিলা-সহ ঘটনায় অভিযুক্তরা পাল্টা দাবি করেছেন, বৈশালীর পুত্রই তাঁদের উপর হামলা চালান। দুই পক্ষের তরফেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পরিকল্পনা করেই হামলা
বৈশালী ডালমিয়া অবশ্য জানিয়েছেন, হামলার লক্ষ্য তিনিই ছিলেন। পরিকল্পনা করেই তাঁর গাড়িকে ধাওয়া করে, পথ আটকানো হয়েছে। বৈশালী ডালমিয়া গাড়িতে না থাকলেও ছিলেন তাঁর পুত্র ঋক। বৈশালীর গাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি তাঁর পুত্র ও ড্রাইভারকে গাড়ি থেকে বের করে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। ঋকের জামা ছিঁড়ে শ্বাসরোধ করারও চেষ্টা হয়। ঋকের দেহের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দেহের বিভিন্ন জায়গায় কাঁচের টুকরো ঢুকে গিয়েছে। কয়েকজন মহিলাও হামলা চালায় বলে অভিযোগ।

পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
ঘটনাস্থলে মহিলাদের উপস্থিতি ও ঋককে মারধর করা প্রসঙ্গে বৈশালী ডালমিয়া বলেন, গাড়িতে আর কে কে রয়েছেন তা খুঁজছিল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। বিশেষত হঠাৎ করে মহিলারা চলে আসায় আক্রমণের লক্ষ্য যে তিনিই ছিলেন সেটা পরিষ্কার। কলকাতার বুকে পুলিশের সামনেই প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ঘটনা আগে দেখা যায়নি। লকডাউনে এতো লোকই বা কোথা থেকে এলো, যাদের আমি চিনি না বা শত্রুতা নেই।

শেষ দেখে ছাড়ব
বৈশালী ডালমিয়া বলেন, আমার বাবা জগমোহন ডালমিয়া। আমি পাঁচ বছর বিধায়ক ছিলাম। কলকাতার বুকে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। আমার সন্তানের উপর হামলা হয়েছে। এর শেষ দেখে ছাড়ব। পুলিশ অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে গেলেও আটক বা গ্রেফতার করেনি। বরং আমি অভিযোগ জানিয়ে বেরিয়ে আসার সময় দেখি ওই মহিলা-সহ অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তে থানার সামনে থাকলেও কোনও ব্যবস্থা হয়নি। ঘটনার পিছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করব।












Click it and Unblock the Notifications