মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্ত দুর্নীতিতে! সময় এসে গিয়েছে, বিস্ফোরক শুভেন্দু অধিকারী
আর একটা মাত্র ধাপ বাকি। কান ধরতে হবে, তাহলেই মাথা আসবে। এদিন বিধানসভার বাইরে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই বলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন।
বিরোধী দলনেতা এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গিয়ে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস কোম্পানির কথা বলেছেন। সেই কোম্পানির মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, সেখানকার এক ডিরেক্টর সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে গ্রেফতার করেছে ইডি।

লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে বাকি ডিরেক্টররা হলেন অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়, লতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরা তিনজনই মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ জন। যে কারণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দুর্নীতির পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে পড়েছেন বলে দাবি বিরোধী দলনেতার।
তিনি এদিন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জবাবদিহি চান। বিরোধী দলনেতা বলেন, যিনি গ্রেফতার হয়েছেন, তিনি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের সিইও। সেই সংস্থার তিন ডিরেক্টর মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাফাই দাবি করেন তিনি।
ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়া সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র সম্পর্কে বিরোধী দলনেতা বলেন, ২০১৪ সালে হাতে খড়ি। তৃণমূল যুবার রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল ওনার হাতে। বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূমের বালি ও কয়লা খাদানের টাকা আসন বিনয় মিশ্র এবং তার ভাইয়ের হাত দিয়ে।
নিয়োগ দুর্নীতির টাকা কুন্তল ঘোষ, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়দের হাত ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে বেহালায় জমা হত বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলনেতা। তারপরই সেখান থেকে পৌঁছে যেত তোলাবাজ ভাইপোর হাতে।

মঙ্গলবার রাতে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে ইডির গ্রেফতারি নিয়ে বলতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কালীঘাটের কাকু গ্রেফতার। আইনের দীর্ঘহাত অবশেষে মাস্টার মাইন্ড এবং সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে যাবে। কেউই রেহাই পাবেন না। সময় এসে গিয়েছে। এবার তোলাবাজ ভাইপোর পিএ বিখ্যাত মিস্টার রায় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ক্ষমতা থাকলে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে বাঁচিয়ে দেখান। তিনি বলেন, তদন্ত হৃদয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার উচিত হৃদয় দিয়ে না থেমে মাথা পর্যন্ত পৌঁছনো। এরপরেই তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে।
এদিনই নয়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার রাতে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের গ্রেফতারের পরে টুইটারে সরব হয়ে বলেছিলেন, আইনের হাত শেষ পর্যন্ত মাথা এবং সব তেকে বড় সুবিধাভোগীর দিকে এগোচ্ছে। সব চেয়ে বড় দাম্ভিক এবার জেলে যাবে বলেও লিখেছিলেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications