ক্ষমতা থাকে তো শুভেন্দুকে ছুঁয়ে দেখান! মমতাই বিধানসভায় বিশৃঙ্খলায় মদত দিচ্ছেন, বিস্ফোরক বিরোধী দলনেতা
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee) ভাষণ শুরু করতেই বিধানসভা (assembly) থেকে ওয়াক আউট বিজেপি (BJP) সদস্যদের। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অভিযোগ করেছেন তাঁর কুড়ি মিনিটের ভাষণে বা
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee) ভাষণ শুরু করতেই বিধানসভা (assembly) থেকে ওয়াক আউট বিজেপি (BJP) সদস্যদের। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অভিযোগ করেছেন তাঁর কুড়ি মিনিটের ভাষণে বারে বারে বলতে বাধা দেওয়া হয়েছে। যা হয়েছে তা মুখ্যমন্ত্রীর উস্কানিতেই হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

১১ বছর পরে পুলিশ বাজেট
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ১১ বছর পরে এবার পুলিশ বাজেট পেশ করা হল। এর আগের বছর গুলোতে নিয়ম করে বাজেট গিলোটিনে পাঠানো হত। তিনি পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের তুলনা টানতে গিয়ে বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার নিয়ম করে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তর দিতেন। কিন্তু এখনকার মুখ্যমন্ত্রী তা করেন না। তিনি বলেন, বিজেপি দলদাস পুলিশ বাজেটের বিরোধিতা করেছে।

বিরোধী দলনেতার বক্তব্যে বাধা দেওয়ার অভিযোগ
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এদিন বিধানসভার বাইরে এসে বলেন, তাঁর জন্য বরাদ্দ করা ২০ মিনিটে বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি যাতে রাজ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরতে না পারেন, তার জন্যই এই বাধাদান বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পাশাপাশি রাজ্যপালের কথাও উল্লেখ করেন। প্রসঙ্গত রাজ্যপাল বলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি গণতন্ত্রের গ্যাস চেম্বারের মতো। শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি তাঁদের দলের ৫৬ জন খুন হওয়া ছাড়াও দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে যে ১২ হাজারের বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, সেই কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে উছে এসেছে পানিহাটির অনুপম দত্ত এবং ঝালদার তপন কান্দুর কথা। তিনি পুরসভা নির্বাচনে সিপিএম-এর তাহেরপুর জয়ের পরে সেখানকার ওসিকে বদলির কথাও তুলে ধরেন।

বিধানসভায় বাধাদানের উস্কানি মুখ্যমন্ত্রীর
বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেছেন, তাঁর বক্তব্যের সময় বাধা দিতে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ইশারা করেছেন। তিনি যখন রাজ্যের পরিস্থিতির সমালোচনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কথা উল্লেখ করছেন, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ইশারা করেন। শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, বিধানসভাকে বলা হাউজ অফ দ্য অপোজিশন, সেখানে সরকারি দল পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।

নিশানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অধিকারীরা নিজেদের বুথে, পুরসভায় হেরেছেন বলা হচ্ছে। কিন্তু ১৯৯৯ সালের লোকসভা ভোটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিত্র ইনস্টিটিউশনের যে বুথে ভোট দেন সেই বুথেই ৪৮৫ ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এছাড়াও বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল উত্তর ও দক্ষিণ কাঁথিতে হেরেছে।
১৫ টি রাজ্যে সিকিউরিটি কমিশন করা হলেও, কেন এই রাজ্যে করা হয়নি, সেই প্রশ্ন করেন শুভএন্দু অধিকারী। তিনি প্রশ্ন করেন করোনায় রাজ্যে ১২০ জন পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হলেও, তাঁদের পরিবারের লোকের চাকরি পাননি, কিন্তু প্রাক্তন মুখ্যসচিবের ভাই অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে তাঁর স্ত্রী অদিতি বন্দ্যোপাধ্যায়কে একলক্ষ কুড়ি হাজার টাকার চাকরি দেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণের ভাষা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এছাড়াও তিনি মৃত্যুর পরেও ১৯৪৭ সালে এসে রবীন্দ্রনাথের গান্ধীজিকে ফলের রস খাওয়ানোর মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

ক্ষমতা থাকে তো শুভেন্দুকে ছুঁয়ে দেখান
শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এই সরকার অর্ধ শতাধিক মামলা করেছে। কিন্তু তিনি হয় হাইকোর্ট কিংবা সুপ্রিম কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ নিয়েছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ক্ষমতা থাকে তো শুভেন্দু অধিকারীকে ছুঁয়ে দেখান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications