ডিউটি সামলে দুঃস্থ ছাত্রের স্পেশ্যাল ক্লাস নেন এই পুলিশ
ডিউটি সামলে দুঃস্থ ছাত্রের স্পেশ্যাল ক্লাস নেন এই পুলিশ
শিক্ষক পুলিশ। অবাক হবেন না। এটাই বাস্তব। না এই পুলিশ মেরে ঠান্ডা করে শিক্ষা দেয়নি। তিনি খাতায় কলমে এক দুঃস্থ ছেলের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে। তিনি একজন কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট। তিনি শিক্ষকের ভূমিকায়। সমাজকে অন্যরকম শিক্ষাও দিচ্ছেন বটে তিনি।

কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, 'সাউথ-ইস্ট ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট প্রকাশ ঘোষ, বালিগঞ্জ আইটিআই-এর কাছে ডিউটি করার সময় প্রতিদিনই বছর আটের একটি বাচ্চাকে আশেপাশে খেলাধুলা করতে দেখতেন। তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র সে, তার মা পাশেই রাস্তার ধারের একটি খাবারের দোকানে কাজ করেন। ফুটপাথেই জীবন মায়ে পোয়ের। একটু ভালো ভবিষ্যতের আশায় বেশ কষ্ট করেই ছেলেকে পড়াশোনা করাচ্ছেন একটি সরকারি স্কুলে। সন্তানকে নিয়ে অনেক আশা আকাঙ্খা মায়ের, কিন্তু ছেলের পড়াশোনার প্রতি অনীহা হয়ে উঠছিল চিন্তার কারণ। কর্মস্থান কাছাকাছি হওয়ায় প্রকাশকে চেনেন তিনি।"
একদিন কথায় কথায় প্রকাশের কাছে নিজের উদ্বেগের কথা ব্যক্ত করে ফেলেন মা। সব শুনে সাধ্যমতো সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন প্রকাশ। তবে তিনি যে বিষয়টিকে এতটা গুরুত্ব দেবেন, তা বোধহয় আন্দাজ করতে পারেননি ওই মা। যেদিন যেদিন ওখানে ডিউটি থাকে, নিয়ম করে পড়াতে বসান বাচ্চাটিকে।
সুযোগসুবিধা অনুযায়ী পড়ানোর সময় বের করেন, কোনোদিন ট্রাফিক সামলানোর ফাঁকে ফাঁকে, আবার কোনোদিন ডিউটি শেষ করে। বাড়ির কাজ অর্থাৎ হোমওয়ার্ক দেওয়া এবং তা দেখে দেওয়া, বানানের ভুল শুধরে দেওয়া, উচ্চারণ, মায় হাতের লেখা পর্যন্ত ঠিক করে দেওয়া, সবটাই করেন প্রকাশ। গায়ে উর্দি এবং পায়ে গেটার্স থাকায় বসতে অসুবিধে হয়, তাই একটি গাছের সরু ডালের সাহায্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই পড়ান, ডালটিকে পড়ানোর 'টুল' হিসেবে ব্যবহার করেন।
ছেলের ক্রমাগত উন্নতির ফলে মায়ের অসীম আস্থা জন্মেছে 'শিক্ষক' প্রকাশের ওপর। আপাতত তাঁর দুই কর্তব্যই সমান দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছেন সার্জেন্ট।
কলকাতায় পুলিশের বর্তমান কাঠামোর লুকিয়ে ইতিহাস ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময়ে। তখন শহর "কলিকাতা" নামে পরিচিত ছিল এবং এটি ছিল ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রাথমিক বসতি। কলকাতার প্রথম দিকে পুলিশিং মুঘল প্রশাসন এবং তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
বাংলা তখনও প্রযুক্তিগতভাবে মুঘল সাম্রাজ্যের একটি অংশ ছিল, কিন্তু উত্তর দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদে অবস্থিত বাংলার নবাবরা ছিলেন এর কার্যকর শাসক। প্রহর ও ওয়ার্ডের কার্যভার একজন কোতয়াল বা শহরের প্রিফেক্টের কাছে অর্পণ করা হয়েছিল যার অধীনে ৪৫ জন পিয়ন ছিল, যারা লাঠি এবং বর্শার মতো ঐতিহ্যবাহী অস্ত্রে সজ্জিত ছিল, দুর্বৃত্তদের মোকাবিলা করার জন্য।
১৭২০ সালে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে সিভিল এবং ফৌজদারি প্রশাসনের দায়িত্বে একজন অফিসার নিয়োগ করে। তাকে একজন ভারতীয় কর্মকর্তা সাহায্য করেছিলেন যা সাধারণত কালো ডেপুটি বা কালো জমিদার নামে পরিচিত। তার অধীনে তিনজন নায়েব-দেওয়ান ছিলেন, যাদের একজন পুলিশের দায়িত্বে ছিলেন। বন্দোবস্তটি "থানাদের" অধীনে "থানা" (পুলিশ স্টেশন) এ বিভক্ত ছিল যাদের পালাক্রমে "নায়েক" এবং "পাইক" এর দল ছিল। নদী পুলিশের একটি ছোট দলও গঠন করা হয়।
১৭৭৮ সালে পাস করা একটি আইন কলকাতায় পুলিশের শক্তি বৃদ্ধি করে ৭০০ জন পাইক, ৩১ জন থানাদার এবং একজন সুপারিনটেনডেন্টের অধীনে ৩৪ জন নায়েব। ১৭৮৫ সালে শহরের জন্য কনজারভেন্সি কমিশনার নিযুক্ত করা হয়েছিল যারা নজরদারি ও ওয়ার্ড দেখাশোনা করতেন। পুলিশিং তখনও খুব শিথিলভাবে সংগঠিত ছিল। ১৭৯৪ সালে, কলকাতা এবং এর শহরতলির পৌর প্রশাসনের জন্য একজন চিফ ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে শান্তির বিচারক নিয়োগ করা হয়েছিল, যিনি সরাসরি পুলিশের দায়িত্বে ছিলেন। ১৮০৬ সালে শহরের ২০ মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে ২৪ পরগনা এবং সংলগ্ন জেলার কিছু অংশের ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে শান্তির বিচারপতিদের গঠন করা হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications