আচমকা বর্ষণ চতুর্থীর সন্ধ্যায়, উৎসবমুখর কলকাতায় ছাতা মাথায় ঠাকুর দেখা
দুদিন ধরে রোদে উজ্জ্বল, শুষ্ক আবহাওয়ার পর ঠিক চতুর্থীর সন্ধ্যাতেই হঠাৎ বদলে গেল শহরের আকাশের চেহারা। দুর্গোৎসবের আনন্দে মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করেছিলেন হাজারো মানুষ। নতুন পোশাক,আলো ঝলমলে প্যান্ডেল আর প্রতিমা দর্শনের উন্মাদনায় শহরজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। কিন্তু সেই আবহেই আচমকা আকাশ কালো করে নেমে এল বৃষ্টি।
বৃহস্পতিবার রাত আটটা নাগাদ শুরু হওয়া সেই বর্ষণ শহরের একাধিক এলাকায় সাময়িকভাবে ব্যাহত করল ঠাকুর দেখা।নিউটাউন, সল্টলেক,সহ উত্তর থেকে দক্ষিণ ভাসল বৃষ্টিতে। কেউ ভিজে যাওয়া জামাকাপড় সামলাতে ব্যস্ত, কেউ বা ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়ে এগিয়ে চলেছেন মণ্ডপের পথে। অনেকে আবার দৌড়ে আশ্রয় নিলেন কাছাকাছি প্যান্ডেলের ভেতরে। তবে ভিজে যাওয়ার অস্বস্তি সত্ত্বেও উৎসবের রেশ একটুও ম্লান হয়নি। দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস প্রমাণ করল, দুর্গাপুজোর আবেগে কোনও বৃষ্টি বাঁধা দিতে পারে না।

আসলে এমনই এক পরিস্থিতির আগাম আভাস দিয়েছিল আবহাওয়া দপ্তর। আগে থেকেই জানানো হয়েছিল ভারী বর্ষণ না হলেও, পুজোর কটাদিনে বারবার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি নামতে পারে। আর চতুর্থীর সন্ধ্যায় সেই পূর্বাভাস হুবহু মিলল। শুধু কলকাতা নয়, সংলগ্ন হাওড়া ও হুগলিতেও একইসঙ্গে বৃষ্টির দাপট দেখা গেল। যদিও ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমে আসায় ফের রাস্তায় ভিড় বাড়তে শুরু হল। দর্শনার্থীরা মণ্ডপ দর্শনের আনন্দে আবারও ছুটলেন শহরের নানা প্রান্তে।
তবে এখানেই শেষ নয়। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতেও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষত পঞ্চমী ও ষষ্ঠীতে বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও স্বস্তির খবর ভারী বর্ষণের আশঙ্কা আপাতত নেই। তবে ঠাকুর দেখার মাঝে সামান্য ছেদ পড়লেও পুজোর উৎসবমুখরতা থামবে না।
তারইমাঝে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তাঁর বার্তা পুজোর আনন্দ থাকুক, তবে সতর্কতার দিকেও নজর দিতে হবে। জল জমে থাকা এলাকায় সাবধানে চলাফেরা, গাড়ি চালনায় সতর্কতা ও প্রয়োজনে ছাতা বা রেইনকোট ব্যবহার করা সহ সবকিছু মিলিয়েই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
সব মিলিয়ে মোটের উপর এবারের দুর্গোৎসবের শুরুতেই শহরবাসী পেলেন এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। আচমকা বৃষ্টি যেন উৎসবের রঙে যুক্ত করল বাড়তি মাত্রা। ভিজে যাওয়া জামাকাপড় বা জলমগ্ন রাস্তাও আটকাতে পারল না দর্শনার্থীদের। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে ভিজে গিয়েও যে আনন্দে কোনও ভাটা পড়ে না, তারই ছবি ফুটে উঠল চতুর্থীর সন্ধ্যায় কলকাতার পথে।












Click it and Unblock the Notifications