কলকাতায় আল কায়েদা! চিৎপুর স্টেশনে এসটিএফের জালে ৩ খতরনাক জঙ্গি
শহরের বড়সড় মডিউল তৈরির ছক ছিল তাঁদের। এসটিএফের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে কলকাতা স্টেশন থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করে।
আইএসের পর কলকাতায় ধরা পড়ল আল কায়েদা মডিউল। এসটিএফ অভিযান চালিয়ে কলকাতা স্টেশন থেকে তিনজনকে আল কায়েদা জঙ্গিকে গ্রেফতার করে। শহরের বড়সড় মডিউল তৈরির ছক ছিল তাদের। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর কাছ থেকে খবর পেয়ে তল্লাশি শুরু করে এসটিএফ। ধৃতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি ও একজন উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বাসিন্দা।

কলকাতা পুলিশের ডিসি মুরলিধর শর্মা জানান, ধৃতরা অস্ত্র কেনাবেচার জন্য কলকাতা স্টেশন চত্বরে এসেছিল। প্রায় দেড় বছর ধরে বাংলায় ঘাঁটি গেড়েছিল দুই বাংলাদেশি আল কায়েদা জঙ্গি। তাদের নাম সামসাদ মিঞা ওরফে তানভির ওরফে তুষার বিশ্বাস (২৬) ও রিয়াজ ওরফে রিয়াজুল ইসলাম ওরফে সুমন (২৫)। প্রথমজন বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের বাসিন্দা আর দ্বিতীয়জন খুলনার করিমনগরের বাসিন্দা। এই মডিউলে নাম লিখিয়েছিল বসিরহাটের খোলাপোতার মনোতোষ দে (৪৬)-ও। সে-ই মূলত অস্ত্র সরবরাহ করত।

এদিন কলকাতা স্টেশনে তারা এসেছিল অস্ত্র কেনা-বেচা নিয়ে কথা বলতে, সেই খবর আগে থেকেই ছিল এসটিএফের কাছে। সেইমতোই জাল বিস্তার করেন গোয়েন্দারা। শেষমেশ তিন জঙ্গি ধরা পড়ে যায় এসটিএফের জালে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় অত্যাধুনিক ওয়ানশাটার-সহ একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র। তাদের কাছে থেকে উদ্ধার হয় আল কায়েদা সম্পর্কিত বই, ল্যাপটপ ও পেনড্রাইভ। আলকায়েদার লিফলেটও পাওয়া যায় তাদের কাছ থেকে।

ওই বইয়ে লেখা ছিল জেহাদের কথা। কী করে তারা রেইকি করবে, কী করে বিস্ফোরক তৈরি করবে- সেসব ছিল ল্যাপটপে ও পেনড্রাইভে। ডিসি জানান, ধৃত তিনজনই আনসারুল্লা বাংলা টিমের সদস্য। এই আনসার বাংলা হল আল কায়েদার শাখা সংগঠন। ধৃত দুই বাংলাদেশির কাছে কোনও পাসপোর্ট ও ভিসা ছিল না। তবে উদ্ধার হয়েছিল ব্যাঙ্কের পাশবই, আধার কার্ড, প্যানকার্ড, ভিজিটিং কার্ড। এসবই ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল তারা।


কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দফতর সূত্রে পুজোর সময় এ বিষয়ে এসটিএফকে সাবধান করে দেওয়া হয়েছিল কলকাতায় জঙ্গি অনুপ্রবেশ হয়েচে বলে। সেই থেকেই নানা হোটেল, রেস্তোরাঁ, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশনে গোপনে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন গোয়েন্দারা। কিন্তু কিছুতেই হদিশ মিলছিল না খতরনাক জঙ্গিদের।

তিন-চারদিন আগে খবর আসে, কলকাতায় লুকিয়ে থাকা জঙ্গিরা আর্মস ডিলার্সদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সেইমতোই অভিযানের গতিমুখ বদল করেন কলকাতার গোয়েন্দারা। মনোতোষ ছিল মূলত আর্মসড ডিলার। সামসাদ ও রিয়াজ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেই কলকাতা স্টেশনে এসেছিল। ডিসি মুরলীধর শর্মা জানান, ধৃত জঙ্গিরা কখনই হোটেলে থাকত না, তাঁরা বিভিন্ন স্টেশনে, যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে রাত কাটাত। তারপর বাকি সময়টা এখানে-ওখানে ঘুরেই কাটাত তারা।












Click it and Unblock the Notifications