শিক্ষা সংক্রান্ত মামলার চাপ কমাতে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠনের পরিকল্পনা রাজ্যের
শিক্ষা বিষয়ক মামলার চাপ দিনে দিনে বাড়ছে। তাই এবার শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই বিষয় নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে নবান্নে।
কলকাতা, ২২ ফেব্রুয়ারি : শিক্ষা বিষয়ক মামলার চাপ দিনে দিনে বাড়ছে। তাই এবার শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই বিষয় নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে নবান্নে। সব ঠিকঠাক চললে কয়েকমাসের মধ্যেই ট্রাইবুনাল চালু হয়ে যাবে। বাম আমলে এই পরিকল্পনা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন মমতা বন্দ্যোপাধায়ের আমলে তা বাস্তবায়নের পথে।
রাজ্যে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল বা স্যাট দীর্ঘদিন ধরেই চালু রয়েছে। অনেকটা এরকমই আলাদা সমান্তরাল বিচারব্যবস্থা চালু হতে চলেছে শিক্ষাক্ষেত্রে। দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাডজুডিকেশন অব স্কুল ডিসপিউটস নামে এই বিশেষ ট্রাইবুনাল চালু হবে।
নামও ঠিক হয়ে গিয়েছে। একটি বিশেষ ঠিকানাও ঠিক হয়েছে। নিউটাউনের ফিনান্সিয়াল কমপ্লেক্সে তৈরি হবে ট্রাইবুনাল। বর্তমানে রাজ্যের গ্রিন ট্রাইবুনালের ঠিকানাও সেখানেই। স্যাটে সরকারি স্কুল সংক্রান্ত মামলা হয়। কিন্তু এই ট্রাইবুনালে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত তো বটেই বেসরকারি স্কুলের যাবতীয় সমস্যা নিয়ে মামলা করা যাবে।

এই ট্রাইবুনালের চেয়ারপার্সন হবেন হাইকোর্টের বিচারপতির সমতুল্য যোগ্যতাসম্পন্ন কোনও ব্যক্তি। যাকে নিয়োগ করবেন রাজ্যপাল। তবে তিনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। কমিশনে প্রশাসনিক এবং আইনি দু'ধরনের কর্মী থাকবে। এখানকার রায়ে কারও আপত্তি থাকলে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করা যাবে। অর্থাৎ এই ট্রাইবুনাল হবে সিঙ্গল বেঞ্চের সমতুল্য। শিক্ষক সংখ্যা, পরিদর্শন, তদন্ত, অনুদান, চাকরি সহ যে কোনও বিষয়েই এই ট্রাইবুনালে মামলা করা যাবে।
রাজ্যে শিক্ষা বিষয়ক আলাদা ট্রাইবুনাল গঠনের পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল বাম আমলেই। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন এই সংক্রান্ত আইন বিধানসভায় পাশ হয়। তারপর তা পাঠানো হয় রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য। ২০১১ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সম্মতিও মেলে। কিন্তু স্থানাভাবের কারণে রূপায়ন করা যাচ্ছিল না। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে মামলার সংখ্যা বেড়ে চলেছে তাতে অবিলম্বে ট্রাইবুনালটি গঠন বিশেষ প্রয়োজন। তাই অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে বিকাশভবন।
কিন্তু হঠ্যাৎ কেন ট্রাইবুনালের ভাবনা? সমস্যা ঠিক কোন জায়গায় হচ্ছে? দফতর সূত্রে খবর, মামলার প্রয়োজনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রায় নিয়মিত হাইকোর্টে হাজিরা দিতে হচ্ছে শিক্ষা সচিব কিংবা কমিশনারকে। তা রোধ করতেই তড়িঘড়ি টরাইবুনার পরিকল্পনার বাস্তবায়নের উদ্যোগ।












Click it and Unblock the Notifications