মুকুলদের সঙ্গে আলোচনা নয়, রাজ্য সরকার এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ, তরজা তুঙ্গে
রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চেয়ে নবান্নে গিয়েছিলেন মুকুল রায়। আর সেই নবান্নে দাঁড়িয়েই রাজ্য সরকারের পতন দাবি করে বসলেন।
রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চেয়ে নবান্নে আবেদন করেছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু রাজ্য সরকার চায় না মুকুল রায় বা জয়প্রকাশ মজুমদারের মতো কারও সঙ্গে এই আলোচনা চালাতে। তারই জেরে জল গড়াল আবার কোর্টে। সোমবার হাইকোর্টে বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দারের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করল রাজ্য সরকার।

মুকুল-জয়প্রকাশের সঙ্গে আলোচনা নয়
হাইকোর্ট বিজেপির এই মামলা গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হবে বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দারের ডিভিশন বেঞ্চে। সোমবার বিশ্বনাথ সমাদ্দারের চিভিশন বেঞ্চে রাজ্যের এডিজি বিশ্বনাথ সমাদ্দারের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর কথার সমর্থনে সরকারি আইনজীবী, মুকুল রায় ও জয়প্রকাশ মজুমদার ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত। তাই তাঁদের নিয়ে আলোচনায় বসা যাবে না।

রাজ্য সরকারকে পাল্টা তোপ
সরকারি আইনজীবীর এই ধরনের বক্তব্য শুনে ডিভিশন বেঞ্চ পাল্টা জানায়, ডিজি, আইজির মতো প্রশানের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও আদালত অবমাননার মামলা চলছে। তবে মামলাটি গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট। উল্লেখ্য, মুকুল রায় যখন শাসকদলে ছিলেন, তখন সারদা মামলায় নাম জড়ায় তাঁর। আর বিজেপি জয়প্রকাশ মজুমদারের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা চলছে

মুকুল-জয়প্রকাশের চিঠি আলোচনার
শনিবার দুপুরে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চেয়ে চিঠি দিতে নবান্নে এসে মুকুল রায় বিজেপির তরফে চিঠি জমা দেন। চিঠিতে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়- আদালতের নির্দেশমতো ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় বিজেপি।

সরকারের বিরুদ্ধে তোপ মুকুলদের
এরপর নবান্ন থেকে বেরিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মুকুল রায়। তিনি বলেন, আদালতে হলফনামা দিয়ে রাজ্য সরকার কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা কিছু নেই। তারপর কী করে ক্ষমতায় থাকতে পারে এই সরকার। এই সরকারের তাই পদত্যাগ করা উচিত

মুকুলের প্রশ্নবান নবান্নে দাঁড়িয়ে
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে। কেন ১৮টি চিঠি দেওয়ার পরও কোনও উত্তর দিল না রাজ্য প্রশাসন? এদিন ফের প্রশ্ন তুললেন মুকুল রায়। বিজেপি অুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। বিজেপির কর্মসূচি নিয়ে কোনও বৈঠকে বসেননি প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা। তাই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এখন হাইকোর্টের বিচারপতিরাও সেই একই প্রশ্ন তুলেছেন।

রাজ্যকে আলোচনার বার্তা
এরপর বিজেপির তরফে নবান্নে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এক ঘণ্টার নোটিশে তাঁরা মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও ডিজিপির সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি। হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে, তা পালনে তাঁরা বদ্ধপরিকর। ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁরা আলোচনায় বসবেন। এরপর ১৪ ডিসেম্বর রিপোর্ট জমা পড়বে হাইকোর্টে। তবে তার আগে রাজ্য সরকার ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল। ফের মামলা মঙ্গলবার হাইকোর্টে।












Click it and Unblock the Notifications