রাজ্য রাজনীতিতে নতুন টানাপোড়েন তৃণমূল-বিজেপির, মধ্যমণি সৌরভ

দাদা রাজনীতি এখন বাংলার অঙ্গ। কখনও মিঠুন দা আসেন তো কখনও সৌরভ রাজনীতি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে এটাই হয়ে আসছে। পার্থক্য একটাই মিঠুন বলে কয়ে এই দাদা রাজনীতির অঙ্গ হয়ে উঠেছেন আর সৌরভ গল্পে , গুজবে, রটনায় হয়ে হয়েছেন এই দাদা রাজনীতির অঙ্গ। এই কয়েকদিন আগেই যেমন মিঠুন এসে নানা কথা বলে রাজ্য রাজনীতিতে নানা জল্পনা ভাসিয়ে দিয়ে যান। এদিকে সৌরভ। তিনি বিসিসিআই প্রেসিডেন্টের দৌড় থেকে সরে গিয়ে ফের রাজ্য রাজনীতির অঙ্গ হয়ে গিয়েছেন। এই মুহূর্তে এটাই বলা যায়, রাজ্য রাজনীতিতে এখন নতুন ইস্যু সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং তার বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট পদ।

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নাকি আবারও রাজনীতির শিকার হয়েছেন এবং তাই তাঁকে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরতে হচ্ছে। এমনটাই দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের। গতকাল থেকেই যে খবর আসছে তা হল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আর বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট পদে থাকছেন না। তাঁর জায়গায় এই পদে বসতে পারেন ৮৩ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারিগর রজার বিনি। আর তারপরেই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে এই দাবি করা হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি এই যে, তাঁরা বিভিন্নভাবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে দলে যোগ দেওয়ানোর চেষ্টা করেছিল। তিনি সেই ফাঁদে পা না দিতেই তাঁকে এমন ভাবে ছেঁটে ফেলা হল প্রেসিডেন্ট পদ থেকে। আর তা করেছে টিম বিজেপি। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটা বিশাল হাওয়া উঠেছিল যে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বিজেপি'তে যোগ দেবেন। ভোটে দাঁড়াবেন, তিনি বাংলার বিরোধী দলের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন। সে সব হয়নি। তারপর তাঁর শরীর খারাপ হয়য়, স্টেন বসে। থেমে যায় গুঞ্জন। আবারও একইরকম গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল মাস পাঁচেক আগে। সৌরভের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে জল্পনা বাঁধে। তাতে বলা হয়েছিল তিনি এবার বড় অংশের মানুষের কাছে ও কাজেন লাগতে চাইছেন। খবর রটতে শুরু করে যে তিনি বিজেপি যোগ দেবেন। এই সম্ভবনাও শোনা যায় যে সৌরভ যদি দলে যোগ নাও দেন তাঁর স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় যাবেন বিজেপির হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হয়ে। কিন্তু সেবারেও দেখা যায় সে সব কিছু নয়। আসলে ওই পোস্ট ছিল একটি গেমিং অ্যাপের প্রমোশন।

 নয়া বিতর্ক

নয়া বিতর্ক

এসবের পর এবার নয়া বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেস বলছে যে এই যে সৌরভের 'চাকরি' গেল, এর পিছনে রয়েছে বিজেপির রাজনীতি। যেহেতু মহারাজ তাঁদের কথা শুনে চলেনি তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল চক্রান্ত করে, সঙ্গে বাঙালি বিদ্বেষ তো আছেই।

তৃণমূলের যুক্তি

তৃণমূলের যুক্তি

তৃণমূলের এর পক্ষে আরও যুক্তি রয়েছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলছেন যে, "স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ছেলে জয় শাহ বিসিসিআইয়ের সম্পাদক পদে বহাল থাকছেন। এটা তাঁর দ্বিতীয় টার্ম হবে, কিন্তু সৌরভ সেই সুযোগটাই পেলেন না । তাঁকে ছেঁটে ফেলা হল।।

কুণাল ঘোষ বলেন, "আমরা সরাসরি এই বিষয়ে কিছু বলব না, তবে বিজেপি যেভাবে বাংলায় রটিয়েছিল যে সৌরভ যোগ দেবেন তাঁদের দলে এখন সেটা তাঁদের বয়লতে হবে যে ঠিক কি রাজনীতি খেলা হল সৌরভের বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে যাবার জন্য়। এইসব করে তাঁরা সৌরভকে অপমান করছে। এটা ঠিক নয়।" তৃণমূল এও বলছে যে সৌরভের বাড়িতে গিয়ে নৈশভজ সেরে এসেছিল বিজেপির বড় নেতা এবং অমিত শাহ। তাঁরা ভেবেছিল এইভাবে ওঁকে দলে নেওয়া যাবে। সে সব হয়নি। তার ফল, যা হবার হয়েছে, কিন্তুন এটা অর অপমান।

 কী বলেছেন দিলীপ ঘোষ?

কী বলেছেন দিলীপ ঘোষ?


দিলীপ ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে, "এইসব ভুলভাল অভিযোগ। এসবের কোনও ভিত্তি নেই। সৌরভ একজন কিংবদন্তী ক্রিকেটার। ওঁকে নিয়ে এসব করা মানে বাজে রাজনীতি করা। আমার প্রশ্ন হল এখন যা সৌরভের বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে যাওয়া নিয়ে কুম্ভিরাশ্রু বার করছে তাদের কাছে আমার প্রশ্ন এই যে ও যখন এই পদে বসেছিল তখন ওঁরা কোথায় ছিল?"

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+