দল ব্রাত্য করলেও, বামপন্থায় ছিল অটুট বিশ্বাস, দায়িত্ববোধে আজীবন অবিচল সোমনাথ
সংসদীয় রাজনীতিতে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি। দায়িত্ববোধ, কর্তব্যবোধ কাকে বলে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়।
সংসদীয় রাজনীতিতে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি। দায়িত্ববোধ, কর্তব্যবোধ কাকে বলে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, সংসদীয় দায়িত্ববোধ অনেক বড় জিনিস। তাই তিনি দলের নির্দেশ অমান্য করতেও দ্বিধা করেননি।

সারা জীবন ছিলেন বামপন্থার একনিষ্ঠ। পার্টি তাঁকে বহিষ্কার করলেও, তিনি একদিনের জন্যও বামপন্থা থেকে পিছু হটেননি। অনেক প্রস্তাব পেয়েছেন, তাতেও আমল দেননি। চাইলে তিনি অনেক কিছুই হতে পারতেন। কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে ছিল আদর্শ। আদর্শচ্যুত হননি সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়।
একটানা ৪০ বছরের সম্পর্ক ছিল দলের সঙ্গে। তা সত্ত্বেও দায়িত্ববোধের কারণে সেই দলেরই একেবারে বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে তিনি দায়িত্ববোধকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন। জ্যোতি বসুও যা পারেননি, অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে তা-ই করে দেখিয়েছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। সেই কারণেই তিনি শ্রদ্ধা আদায় করে নিয়েছিলেন দলমত নির্বিশেষে সকলের।
তিনিও জানতে দল তাঁকে বহিষ্কার করবে। কিন্তু মাথা নোয়াননি তিনি। কোনও আশঙ্কা, হুঁশিয়ারি তাঁকে টলাতে পারেনি সাংবিধানিক দায়িত্ববোধ থেকে। আঘাত পেয়েছিলেন, কিন্তু মরমে মরেও তিনি কষ্ঠ সহ্য করে চলেছিলেন জীবনের শেষ ১০ বছর ধরে। তাঁকে দল ফেরাতে চেয়েছিল। কিন্তু মাথা নত করে তিনি ফিরতে চাননি। তিনি শেষ দিন পর্যন্ত আদর্শে অবিচল ছিলেন।
দল তাঁকে বহিষ্কার করেছিল ২০০৮-এর ২৩ জুলাই। বাংলার সিপিএম কর্মী-সমর্থকরা খুব ভালো চোখে দেখেননি পার্টির এই সিদ্ধান্ত। রাজ্য সিপিএমের সর্বস্তরেই তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার দিনটি তাঁর কাছে অত্যন্ত দুঃখের ছিল বলে বারবার ঘনিষ্ঠমহলে বলতেন সোমনাথবাবু। ২০০৯ সালে স্পিকার পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে থাকেননি। রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেন তিনি।
তাঁকে বারবার বঙ্গ সিপিএমের তরফে জানানো হয়েছিল, আপনি শুধু একবার আবেদন করুন, আপনাকে দলের ফেরানোর বাকি কাজটা আমরা করে নেব। কিন্তু সোমনাথবাবু রাজি হননি। ফেরেননি পার্টিতে। অভিমানী সোমনাথের অভিমানকে মর্যাদা দিয়ে এদিন তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও দেহ আলিমুদ্দিনে নিয়ে যেতে আপত্তি জানানো হয়।












Click it and Unblock the Notifications