মুকুলকে ‘নিশানা’র মঞ্চে গরহাজির শুভ্রাংশু, নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্যে জল্পনা
তৃণমূল চেয়েছিল ধর্মতলায় যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভায় বাবার বিরুদ্ধে তাঁকে সামনে রেখেই আক্রমণ শানাতে। কিন্তু মুকুল-পুত্রের অনুপস্থিতি যাবতীয় পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেয় তৃণমূল কংগ্রেসের।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুকুল রায়ের বিশ্ব-বাংলা তাস খেলার তিনদিনের মাথাতেই একই জায়গায় সভা ডেকেছিল তৃণমূল। কেন্দ্রের নীতির বিরোধিতায় সভা হলেও, আদতে তা মুকুলকে নিশানার মঞ্চই হয়ে উঠল এদিন। ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভা থেকে মুকুল রায়কে তোপ দাগলেন নেতারা। আবার এই মঞ্চে মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের অনুপস্থিতি নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে উঠল সোমবার।

মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের নজরে ছিলেন তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায়। তৃণমূল চেয়েছিল ধর্মতলায় যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভায় বাবার বিরুদ্ধে তাঁকে সামনে রেখেই আক্রমণ শানাতে। কিন্তু মুকুল-পুত্রের অনুপস্থিতি যাবতীয় পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেয় তৃণমূল কংগ্রেসের। এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে, তৃণমূলের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়কে নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কেন তিনি এলেন না ধর্মতলার মঞ্চে?
রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের সভায় বাবার বিরুদ্ধে শুভ্রাংশু কী তোপ দাগেন সেদিকেই নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। কিন্তু শুভ্রাংশু অনুপস্থিত থাকায় তাঁর ভূমিকা এখন তৃণমূলের অন্দরে স্ক্যানারের নীচে রাখা হচ্ছে। মুকুল রায়ের বিজেপিতে গমনের পর ছেলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোথায় দাঁড়ায় তা নিয়ে চর্চা চলছিল জোর। কার্যত অগ্নিপরীক্ষার মুখে পড়ে শুভ্রাংশু রণে ভঙ্গ দিলেন।
বাবার অবর্তমানে তৃণমূলে শুভ্রাংশুকে কোন ভূমিকায় দেখা যাবে তা নিয়ে এখনও অনেকের মনে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। শুভ্রাংশু সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, 'আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ অনুপ্রাণিত। আমি তৃণমূলের সৈনিক, তৃণমূলেই আছি, তৃণমূলেই থাকব।' এদিন প্রকাশ্য জনসভায় শুভ্রাংশুর মুখের সেই কথা শুনতে চেয়েছিল গোটা তৃণমূল পরিবার। কিন্তু তিনি অনুপস্থিত থেকে জল্পনা বাড়ালেন।
তবে শুভ্রাংশু অনুপস্থিত থাকলেও, এদিনের সভায় প্রায় অর্ধেক তৃণমূল নেতৃত্ব হাজির হয়েছিলেন মুকুলের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে। এমনকী যুব তৃণমূলের সভায় হাজির হয়েছিলেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, ইন্দ্রনীল সেন, ব্রাত্য বসু থেকে শুরু করে বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, অর্জুন সিং, নির্মল মাজি-সহ অন্যান্যরা। উল্লেখযোগ্য অনুপস্থিতি ছিল যুব তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেন্দ্রের নীতির বিরোধিতায় ঘোষিত সভা হলেও, অনেকেই মুকুল রায়কে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন। অনেকে মুকুল রায়ের নাম না করে তোপ দাগলেন। অর্জুন সিং থেকে শুরু করে ফিরহাদ হাকিমও মুকুল রায়কে বিঁধলেন বিশেষণ সহযোগে। অর্জুন সিং মুকুল রায়কে বললেন কালিদাস। এক সময় 'গদ্দার' বলেও তোপ দাগলেন। আর নাম না করে ফিরহাদ হাকিম বললেন 'পাগল-ছাগল'। তবে মুকুল রায়ের 'বাচ্চা ছেলে' পার্থ চট্টোপাধ্যায় এদিন 'বন্ধু' মুকুলের বিরুদ্ধে স্পিকটি নট। সর্বশেষ বক্তা হিসেবে এদিনের বৈঠকের তাৎপর্যতা বুঝিয়েই সভা সমাপ্তীর ঘোষণা করে দিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications