দুর্গা নাম থেকে মহাভারত পাঠ, কৃষ্ণা নবমীতে শুরু হল শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গা পূজা
দুর্গা নাম থেকে মহাভারত পাঠ, কৃষ্ণা নবমীতে শুরু হল শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গা পূজা
ঐতিহাসিক শোভাবাজার রাজবাড়ির ঠাকুরদালানে আজ কৃষ্ণা নবমীর সকালে ১৭৫৭ সালের রীতিনীতি মেনে চন্ডী মণ্ডপ স্থাপন করে মা দুর্গার আগমনকে কেন্দ্র করে বোধন শুরু হল । প্রথা মতো প্রধান পুরোহিত মশাই জয়ন্ত কুশারি প্রথমে চন্ডী মণ্ডপে ঘট স্থাপন করলেন তারপর বাটির নিয়ম অনুযায়ী এবছর যার পালা অর্থাৎ এই বছর যার নামে পুজো হবে তার সংকল্প হলো তারপর পালাদার প্রধান পুরোহিতকে বস্ত্র, ফুল মালা এবং দক্ষিণা দিয়ে তাঁকে বরণ করলেন ।

এরপর প্রধান পুরোহিত মশাই সব ব্রতিদের বস্ত্র দিয়ে এবং মালা পড়িয়ে সবাইকে বরণ করে নিলেন । এরপর ব্রতিরা ঠাকুর দালানে সার দিয়ে বসে দুর্গা নাম, মধুসূদন নাম, গীতা পাঠ, রামায়ণ পাঠ, মহাভারত পাঠ, চন্ডী পাঠ করবেন আজ থেকে ষষ্ঠীর সকাল অব্দি প্রতিদিন সকালে ঠাকুরদালানে বসে । উল্লেখ্য শোভাবাজার রাজবাটির একটি নিজস্ব তাল পাতার পুঁথি আছে যা কৃত্তিবাসের লেখা রামায়ণের থেকেও পুরাতন তাহা এই কদিন বোধনের সময় সিন্দুক থেকে বার করে পাঠ করা হয় । প্রধান পুরোহিত মশাই আজ থেকে দুবেলা দশমির সকাল অব্দি প্রথমে এই চন্ডিমন্ডপে পুজো আরতি করবেন তারপর দেবীর মূর্তি পুজো হবে এবং দশমীর সকালে আগে চন্ডী মণ্ডপের সুতো কেটে বিসর্জন হবে তারপর দেবী মূর্তির । সেই অর্থে আজ থেকেই শোভাবাজার রাজবাটিতে মা দুর্গার পুজো শুরু হয়ে গেল ।
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুনে পলাশীর যুদ্ধে হেরেছিলেন৷ সেই যুদ্ধে ব্রিটিশদের যারা সহায়তা করেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রাজা নবকৃষ্ণ দেব৷ শোনা যায় সেই সময় ক্লাইভ চিন্তিত ছিলেন দেশীয় প্রজাদের নিয়ে৷ মীরজাফরকে বাংলার নবাব করে মুসলিমদের কিছুটা আস্থাভাজন হতে পারলেও হিন্দুদের নিয়ে ছিলেন উদ্বিগ্ন৷ সেই সময় নবকৃষ্ণের কাছ থেকে দুর্গাপুজোর আমন্ত্রণ আসলে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেন৷ কারণ তখন ক্লাইভ মনে করেছিলেন বঙ্গের হিন্দুদের প্রধান উৎসব দুর্গাপুজোয় সশরীরে হাজির হলে হিন্দুদের আস্থা অর্জন সম্ভব হবে৷ অর্থাৎ এই পুজোর আয়োজনে ক্লাইভ এবং নবকৃষ্ণ উভয়ের উদ্দেশ্য সাধিত হয়েছিল বলেই মনে করা হয়৷ ক্লাইভকে আমন্ত্রণের ফল স্বরূপ জমিদার নবকৃষ্ণ রাজা উপাধি পেলেন৷ তাছাড়া জুটল সিরাজের কোষাগারের লুন্ঠিত সম্পত্তির একাংশ৷
সিরাজের পরাজয়ের মধ্যে রাজা নবকৃষ্ণ নিজের জয় খুঁজে পেয়েছিলেন আর সেই আনন্দে সে বছর নিজের বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু করেন৷ সে বছর পুজোর অন্যতম অতিথি ছিলেন লর্ড ক্লাইভ। নবকৃষ্ণ কোন এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে পাঠানো পুজোর আমন্ত্রণ পত্রে লিখেছিলেন -এবার পুজার সময় লর্ড ক্লাইভ আমার বাটিতে অনুগ্রহপূর্বক প্রতিমা দর্শন করিতে আসিবেন। তাঁহার সহিত কোম্পানির বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত থাকিবেন। তোমার আসা চাই।
সেবারে রাজবাড়িতে উৎসবের নিমিত্তে খরচা এবং জাঁকজমকে একেবারে তাক লাগিয়ে দিলেন নবকৃষ্ণ৷ দেবীর বসার জন্যে এক বিরাট সোনার সিংহাসন নির্মিত হয়েছিল৷ যাকে ঘিরে ছিল সোনা-রূপার কাজ৷ ওই যে শুরু হল তারপর প্রতি বছর সাহেব-মেমরা আমন্ত্রিত হতেন পুজোয়৷ আর তাদের জন্য এমন আপ্যায়নের ব্যবস্থা হত তা কল্পনার অতীত৷ অতিথির মনোরঞ্জনের জন্য বসত বাইজি নাচের আসর৷ পাশপাশি বসত নাচগান আর যাত্রাপালার আসর৷ থাকত ইংরেজদের প্রিয় বল ড্যান্সও৷












Click it and Unblock the Notifications