ফেসবুকের মারণ-নেশার ফাঁদেই ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু সাউথ পয়েন্টের মেধাবী ছাত্রীর, ধারণা পুলিশের
নেতাজিনগরে ছাদ থেকে পড়ে মেধাবী ছাত্রী অনুষ্কা মণ্ডলের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নয়া মোড়। প্রাথমিক তদন্ত পুলিশের অনুমান, ফেসবুকের মরণ নেশাই কেড়ে নিয়েছে তাঁর প্রাণ।
কলকাতা, ২৫ অক্টোবর : নেতাজিনগরে ছাদ থেকে পড়ে মেধাবী ছাত্রী অনুষ্কা মণ্ডলের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নয়া মোড়। প্রাথমিক তদন্ত পুলিশের অনুমান, ফেসবুকের মরণ নেশাই কেড়ে নিয়েছে তাঁর প্রাণ। ফেসবুকে বুঁদ হয়েই দুর্ঘটনা ডেকে এনেছেন ওই ছাত্রী স্বয়ং। মোবাইল পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর তদন্তকারীরা এই মর্মে বদ্ধমূল ধারণায় উপনীত হয়েছেন। মৃত্যুর আগে অনুষ্কা ফেসবুকে বুঁদ ছিলেন বলেই জানা গিয়েছে।
প্রতিদিন ভোরে উঠে ছাদে পায়চারি করা ছিল তাঁর নেশা। সেইসঙ্গে মরণ নেশা ছিল ফেসবুক করা। হাঁটাচলার মাঝেই ছাদের রেলিংয়ে বসে ফেসবুকে বুঁদ হয়ে যেতেন অনুষ্কা। পুলিশের ধারণা, এদিনও রেলিংয়ে বসে ফেসবুক করছিল অনুষ্কা। তখনই অসাবধানবশতঃ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে যায়। মৃত্যুর সময় ও মোবাইলের কললিস্ট, ফেসবুক পোস্টের সময় মিলিয়েই পুলিশ এই ধারণা করছে। তারপর পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই ছাত্রী যেমন অসম্ভব মেধাবী ছিলেন, তেমনই একটি বাজে নেশা ছিল তাঁর।

দিনের একটা দীর্ঘসময় অনুষ্কা ফেসবুকে ব্যয় করত। মাঝেমধ্যেই তাঁর দিগ্বিদিক জ্ঞান থাকত না। এই সমস্যা নিয়ে তাঁর কাউন্সেলিং চলছিল। এরই মধ্যে ঘটে গেল এই মৃত্যু। ওই ছাত্রীর যখন ফেসবুক-নেশা নিয়ে কাউন্সেলিং চলছিল, তখন তাঁকে আরও চোখে চোখে রাখা উচিত ছিল বলেই মনোবিদদের মত। আসলে এখন অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী, কিংবা তরুণ-তরুণীর মধ্যে যে প্রবণতা চলছে, তা মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনছে। এই ঘটনায় অভিভাবকরাও তাঁদের দায় এড়াতে পারেন না।
সমাজের কাছে এই সোশ্যাল মিডিয়ায় বুঁদ হয়ে যাওয়া ক্রমেই সাংঘাতিক আকার ধারণ করছে। এবার অভিভাবকদের একটু ভাবা উচিত ছেলেমেয়েদের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়ার আগে। মঙ্গলবার সকালে তরুছায়া আবাসনের নীচ থেকে অনুষ্কার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। সাউথ পয়েন্ট স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী অনুসূয়া বাবা-মায়ের সঙ্গে ওই আবাসনেরই চার তলায় থাকতেন।
স্থানীয় সূত্র জানা গিয়েছে, অনুসূয়া প্রতিদিনই সকালে ছাদে হাঁটাহাঁটি করত। প্রায়ই রেলিংয়ের উপর বসে থাকতেও দেখা যেত। সেই কারণেই অন্যমনস্ক হয়ে পড়ায় ভারসাম্য হারিয়ে তিনি পড়ে যেতে পারেন। পাশাপাশি মরণঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা বা পরিকল্পিত খুনের কারণ রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে মোবাইলে ফেসবুক পেজ দেখে এবং তার সময় দেখে পুলিশের ধারণা, ফেসবুকই কেড়ে নিয়েছে ওই মেধাবী ছাত্রীর জীবন।












Click it and Unblock the Notifications