অন্ধকূপ হত্যা সহ কেকে'র মৃত্যু, জনতা থেকে কর্তৃপক্ষ সবাইকে দুষলেন শতরূপা সান্যাল
কেকে'র মৃত্যুর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এসে গিয়েছে। বলা হয়েছে মৃত্যু অস্বাভাবিক কারণে হয়নি। কিন্তু কী কারণে এই মৃত্যু হল ? এর জন্য কারা দায়ী? কেন এমন অব্যাবস্থা? কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে হল কর্তৃপক্ষ সবার দিকে উঠেছে আঙুল। ফিরহাদ হাকিম বলেছেন যে 'এমন শিল্পী শো করতে এলে মানুষের উন্মাদনা থাকবে। ২৮০০ লোকের জায়গায় ৭ হাজার লোক এলে সেখানে পরিস্থিতি খারাপ হবে, কিন্তু মানুষ কারও গান শুনতে চাইছে আর তার জন্য তো কাউকে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে পারে না।" কিন্তু তা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে হলের ভিতরের দম বন্ধ করা পরিস্থিতি নিয়ে। বারবার কেকে'র ঘাম মোছা এবং এসি কাজ না করার কথা বলা সেই পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে। আর এ নিয়েই মুখ খুললেন শতরূপা সান্যাল। তিনি কেকে'র মৃত্যুকে অন্ধকূপ হত্যা সম বলেছেন।

নিজের সোশ্যাল মাধ্যমে শতরূপা সান্যাল বলেছেন যে , "একজন শিল্পী যখন অনুষ্ঠান করছেন, তখন ইচ্ছাকৃত ভাবে এসি বন্ধ করে দেওয়া কোন ধরনের নিয়ম? কারা এ সব নিয়মের রচয়িতা? ইতিহাসে " অন্ধকূপ হত্যা" একটি ঘৃণ্য ঘটনা। তারই পুনরাবৃত্তি দেখি বারবার । এতগুলো লোক একটা বদ্ধ ঘরে থাকলে, তার যথোপযুক্ত ভেন্টিলেশন লাগবেই! এটা না বোঝার মত অশিক্ষিত কি এই আমোদপাগল দর্শক ও আয়োজকরা?নজরুল মঞ্চ তো একটি প্রতিষ্ঠিত পরিচিত, বহু অনুষ্ঠানের সাক্ষী একটি মঞ্চ। বহু মানুষের উৎকট উচ্ছাস কি এই প্রথমবার ঘটলো সেখানে? নিশ্চয়ই না।"
এরপর তিনি বলেন , "শুনলাম, জায়গার তুলনায় বেশি মানুষ ঢুকে পড়েছিল সেখানে, মঞ্চের ওপরও নাকি বহু মানুষ উঠে পড়েছিল! আমি জাস্ট ভাবতে পারছিনা, কি ধরনের " ছাত্রছাত্রী" এরা! স্বাভাবিক শিষ্টতাটুকুও কি এরা শেখেন নি? কে কে'র মৃত্যুর জন্য শুধু এই বিশৃঙ্খল আয়োজন, উশৃঙ্খল দর্শক নয়, নজরুলমঞ্চের কর্মীরাও সমান দায়ী। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি ও শুনেছি, মঞ্চের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বহু সময়ই লাইট ফ্যান নিভিয়ে দেন, এসি বন্ধ করে দেন। কারণ, সময় পেরিয়ে গেছে, তাদের বাড়ি ফিরতে হবে। তাড়া আছে! গতকালও নাকি এই মহান কার্যটি করেছিলেন তাঁরা! এই অমানবিক কার্যটি কলকাতা শহরে স্বাভাবিক ঘটনা। অনুষ্ঠানের সময়সীমা নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে, মঞ্চ রক্ষকদের কাছে অনুষ্ঠানের আয়োজকরা কাকুতিমিনতি করতে থাকেন, যেন চুরির দায়ে ধরা পড়েছেন!"
একইসঙ্গে তিনি বলেন , "আরো একটা কথা বলার আছে। অনুষ্ঠান শেষে সেলিব্রিটি শিল্পীর সাথে সেল্ফি তোলার হিড়িক ও শিল্পীর ক্লান্তিকে অগ্রাহ্য করাটা দর্শকদের হক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পী যে একজন মানুষ, তাঁরও শরীর-ক্লান্তি-বিরক্তি-খিদেতেষ্টা আছে, সেটা যারা বোঝেন না, তাঁরা শিল্পীর অমর্যাদাই করেন। হামলে পড়ে ঘিরে ধরে শিল্পীর প্রতি যেটা করা হয়, সেটা আদেখলেপনা, ভালোবাসা নয়। কেকে'র মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রতিটি অমানবিক অবিমৃষ্যকারীর প্রতি আমার ধিক্কার জানালাম।"
প্রসঙ্গত, অন্ধকূপ হত্যা হল ইতিহাসের সেই ঘটনা যা ১৭৫৬ সালে ঘটেছিল। সিরাজ-উদ-দৌলা ইংরেজ সৈন্যদের বন্দি করে একটি ছোট্ট জায়গায় রাখেন। ছোট্ট ঘ্রে ১২৫ জন সৈন্য। অল্প সময়েই পরিস্থিতি দমবন্ধকর জায়গায় পৌঁছে। বেঁচেছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন।












Click it and Unblock the Notifications