সন্দীপ ঘোষের হাত ছিল ভেন্ডার বিপ্লব সিংহের উপর? কীভাবে পাওয়া যেত টেন্ডারের বরাত?
বিপ্লব সিংহের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চলেছে৷ তাকে ক্রমাগত জেরা চলছে। সিবিআইয়ের হাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। বিপ্লব সিংহের ব্যবসায়ে উত্থানের একটা আভাস পাওয়া যেতেই পারে।
মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা। বিপ্লব সিংহের ব্যবসা ও কর্মকাণ্ডের দ্রুত বদল হয়েছিল। ক্রমশ হাতে পয়সা আসতে থাকে। প্রভাবও বাড়ছিল৷ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে সখ্যতা বাড়তে থাকে। সন্দীপ, বিপ্লব সখ্যতাতেই ক্রমশ সেই ব্যবসা বেড়েছে। এমনই আন্দাজ করেছেন তদন্তকারীরা।

মুর্শিদাবাদের হাসপাতালে ভেন্ডার হিসেবে কাজ করতেন এই বিপ্লব সিংহ। সেই হাসপাতালে বেশ কিছুটা সময় কাজ করেছেন এই সন্দীপ ঘোষ। তখন থেকেই দু'জনের মধ্যে সখ্যতা বেড়ে ওঠে বলে খবর৷ বিপ্লবের হাতে হাসপাতালে জিনিসপত্র সাপ্লাইয়ের কাজও বাড়তে থাকে।
এরপর সন্দীপ ঘোষ মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা বদলি হন। তিনি কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার পদে যোগ দেন। ডাক পড়ে বিপ্লবের। ওই হাসপাতালের ভেন্ডার হিসেবে কাজ শুরু করেন বিপ্লব সিংহ। এরপর আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি হন সন্দীপ ঘোষ। সেখানেও ডাক পড়ে বিপ্লব সিংহের।
বিপ্লব সিংহের মাথার উপর সন্দীপ ঘোষের হাত বরাবর ছিল। এমনই মনে করছেন তদন্তকারীরা। আর সেই সূত্রেই ক্রমে ব্যবসা বাড়তে থাকে বিপ্লবের। মুর্শিদাবাদ হাসপাতালের মাঝারি মানের ভেন্ডার ক্রমে প্রভাবশালী হয়ে উঠতে থাকে। কলকাতার সরকারি হাসপাতালে টেন্ডারও তিনি পেতে যেতেন। তবে সেখানে ' ফেলো কড়ি মাখো তেল' বিষয়টি কাজ করত।
সিবিআই তদন্তকারীরা বিপ্লবের বাড়িতে খানাতল্লাশি চালিয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাগজ হাতে এসেছে তাদের। জানা গিয়েছে, অনেকগুলো সংস্থা তৈরি করা ছিল। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামেও সংস্থা তৈরি হয়েছিল। বিপ্লব সিংহ নিজের সংস্থার কর্মীদের নামেও কোম্পানি খুলেছিলেন।
মা তারা এন্টারপ্রাইজ, বাবা লোকনাথ, তিয়াশা এন্টারপ্রাইজ নামে এখনও তিনটি সংস্থার কথা জানা গিয়েছে। আরও সংস্থা আছে, কী না তার খোঁজ চলছে। বরাত পেতে সব কটি সংস্থাই টেন্ডার দিত। বিপ্লবের সংস্থা সেই টেন্ডার পেয়ে যেত। সন্দীপ ঘোষ এই বিষয়টির মাথায় থাকতেন। তার কাছে বরাত পাওয়ার জন্য মোটা টাকাও চলে যেত। এভাবেই ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠতে থাকে৷












Click it and Unblock the Notifications