সমন সত্ত্বেও ইডির অফিসে গেলেন না শেখ শাহজাহান, দূরত্ব বাড়াচ্ছে তৃণমূল?
সোমবার বেলা ১১ টা এগারোটার মধ্যে শেখ শাহজাহানকে ইডি অফিসে আসতে হবে। এমনই নির্দেশ জারি করেছিল তদন্তকারীরা। কিন্তু সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও দেখা মিলল না শেখ শাহজাহানের। সিজিও কমপ্লেক্সে এলেন না তিনি।
সন্দেশখালিতে ইডির উপর হামলা হয়েছিল। সেই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেতা। রেশন বন্টন দুর্নীতি মামলাতেও তিনি অভিযুক্ত। এমন কথা শোনা যাচ্ছে। সে কারণেই তল্লাশি অভিযানে সন্দেশখালিতে তার বাড়িতে পৌঁছেছিলেন তদন্তকারীরা। তারপর তারা প্রাণ হাতে সেখান থেকে পালান।

ঘটনার দিন থেকে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে শেখ শাজাহান। বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা দাবি করছেন, এলাকাতেই রয়েছেন এই শেখ শাহজাহান। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। অতি সম্প্রতি ইডির তরফ থেকে সন্দেশখালিতে অভিযান হয়েছিল। শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তালা ভেঙে তদন্তকারীরা ঢোকেন। কিন্তু সেখানে তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি।
নোটিশ বাড়ির দেওয়ালে ঝুলিয়ে এসেছিলেন ইডি আধিকারিকরা। আজ ২৯ নভেম্বর সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের তাকে যেতে বলা হয়েছিল। বেলা ১১ টার মধ্যে তাকে যেতে বলা হয়। কিন্তু দেখা গেল তিনি সেখানে পৌঁছালেন না। এই খবর লেখা পর্যন্ত শাহজাহানের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
তাহলে কি তিনি কোনওভাবেই ইডির মুখোমুখি হতে চাইছেন না? কলকাতা হাইকোর্টে তিনি মামলায় যুক্ত হতে চেয়েছিলেন। তার আইনজীবী তেমনি দাবি করেছিলেন। কিন্তু বিচারপতি জানান, শেখ শাহজাহানকে আগে আত্মসমর্পণের কথা বলা হোক। পরের দিন তার আইনজীবী জানিয়ে দেন, মামলায় শেখ শাহজাহান যুক্ত হতে চাইছেন না।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শেখ শাহজাহান সম্পর্কে কোনও বক্তব্য রাখা হচ্ছে না। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র গতকালও জানিয়েছে, এই বিষয়ে দল কোনও মন্তব্য করবে না। যদিও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছিলেন, শেখ শাহজাহান ভুল কাজ করেছে। মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর চর্চা শুরু হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল কি শেখ শাহজাহানের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে?
এদিকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে মন্ত্রী অখিল গিরি দাবি করেছিলেন, শেখ শাহজাহান অসুস্থ ছিলেন। তিনি চিকিৎসার জন্য পশ্চিমবঙ্গের বাইরে রয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে শেখ শাহজাহানকে ঘিরে একাধিক বক্তব্য উঠে আসছে। শেখ শাহজাহান কি ইডির সামনে কোনওভাবেই আসতে চাইছেন না? এই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে।
ইডির কাছে গেলে গ্রেফতার হওয়া সম্ভাবনা সব থেকে বেশি। ফলে তার ছাড়া পাওয়ার পরিস্থিতিও অনেকটাই জটিল হতে পারে। এদিকে রাজ্য পুলিশ রয়েছে। সেখানে আত্মসমর্পণ করলে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও তার অনুকূলে থাকবে। এমন অনুমান করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
এখন শেখ শাহজাহান কোন পথ বেছে নেবেন? তিনি ইডির অফিসে আসবেন? না কী আড়ালে আত্মগোপন করে থাকবেন? না কী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন? তাই নিয়ে চর্চা জারি রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications