ইতিহাসে স্বতন্ত্র বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো
কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম বড়িশার রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো। ১৬১০ সালে এই পুজোর সূচনা করেন। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথি থেকে আরম্ভ হয় দেবীর বোধন।
পুরনো কলকাতার জমিদার এবং বনেদি বাড়িগুলির দুর্গাপুজো কলকাতার সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। কংক্রিটের আটচালার সামনে কালের সাক্ষ্য বহন করে বড়িশায় আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে লালরঙের ১০ টি থাম। মাত্র ১৩০০ টাকায় ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির কাছে সুতানুটি, গোবিন্দপুর ও কলকাতা-এই তিনটি গ্রামের প্রজাস্বত্ব হস্তান্তরিত করেছিল এই পরিবার।


প্রথম জীবনে তিনি চাকরি করতেন বাংলার বারোভুঁইয়ার অন্যতম জমিদার প্রতাপাদিত্যের দরবারে। প্রতাপের পতনে মুঘল বাহিনীকে সাহায্য করার পুরস্কার স্বরূপ মুঘল সেনাপতি রাজা মানসিংহের মধ্যস্থতায় বাদশাহ জাহাঙ্গিরের কাছ থেকে তিনি এক বিশাল জমিদারিসহ 'মজুমদার' ও 'রায়চৌধুরী' উপাধি লাভ করেছিলেন। লক্ষ্মীকান্তের আদি নিবাস ছিল হালিশহরে। জমিদারি কাজের সুবিধার জন্য লক্ষ্মীকান্ত বড়িশা অঞ্চলে(সখেরবাজার) ভদ্রাসন তৈরি করেন। ১৬১০ সাল থেকে এই ভদ্রাসন সংলগ্ন আটচালা মণ্ডপে দুর্গাপুজো শুরু হয়।
পরবর্তী সময়ে এই পরিবারে ১০-১১টি দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়েছিল। বর্তমানে হয় ৮টি। এখন বড়িশাতে মোট ছটি পুজো হয়। সেগুলি হল, 'আটচালাবাড়ি', 'বড়বাড়ি', 'মেজবাড়ি', 'মাঝের বাড়ি', 'বেনাকি বাড়ি' এবং 'কালীকিঙ্করভবন'। পুজো হয় 'নিমতা' এবং 'বিরাটি বাড়ি'তেও।


আটচালা বাড়িতে কৃষ্ণপক্ষের নবমীর দিন বোধন হলেও, অন্য বাড়িতে ষষ্ঠীর দিনেই বোধন হয়। সেই দিন থেকে প্রতি দিন চণ্ডীপাঠ, হোম, ভোগ আরতি হয়। আগে নিমতার বাড়ি বাদ দিয়ে প্রতিটি পুজোয় ১৩ টি পাঁঠা ও একটি মোষ বলির প্রচলন ছিল। যদিও এখন পশুবলি পুরোপুরি বন্ধ।
সপ্তমীর সকালে একেবারে প্রথমে হয় দেবীর চক্ষুদান এবং এরপরেই নবপত্রিকা স্নান। সোনার আংটি এবং সোনার আসন প্রতিমার সামনে রেখে চলে মহাসপ্তমী থেকে মহানবমীর পুজো। সন্ধি পুজোয় দেবীকে চামুন্ডা রূপে আহ্বান করা হয়।
রায়চৌধুরী বাড়ির বিজয়া পর্বটি আর পাঁচটা বাড়ির থেকে কিছুটা আলাদা। দশমীর দিন সকালে ঘট বিসর্জন দেওয়ার পরে চরণ দেখা ইত্যাদি সমাপ্ত হলে আরম্ভ হয় বিজয়া পর্ব। বিকেলে হয় প্রতিমা বিসর্জন।












Click it and Unblock the Notifications