অভিষেক-পত্নী রুজিরা কালো গাড়িতে ইডি দফতরে, মালিকানা সম্পর্কে জানুন চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহধর্মিণী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজ জিজ্ঞাসাবাদ করলেন ইডির তদন্তকারী অফিসাররা। দিল্লি থেকে কয়লা দুর্নীতির তদন্তকারী অফিসাররা আজ সকালেই কলকাতায় এসেছিলেন। নির্ধারিত সময়ের পরেই সিজিও কমপ্লেক্সে যান রুজিরা।
বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ রুজিরা ইডির দফতরে পৌঁছন। বিকেল চারটে ২০ নাগাদ তিনি বেরিয়ে যান। সাংবাদিকদের কিছু বলেননি। শুধু গাড়ি থেকে নমস্কার করেন। আর এই গাড়িটি নিয়েই সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আজ সকালে শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন রুজিরার আইনজীবী। যে সময় তাঁর ইডি দফতরে যাওয়ার কথা ছিল তখনও রুজিরা বাড়ি থেকে বেরোননি। এরপর একটি সাদা গাড়ি শান্তিনিকেতন বিল্ডিং থেকে বেরোয়। সেটি রওনা হয় হরিশ মুখার্জি রোড ধরে রবীন্দ্র সদনের দিকে। একটু পরেই বেরোয় কালো গাড়ি।
অনেকেই ভেবেছিলেন সাদা গাড়িতেই বোধ হয় রুজিরা রওনা হলেন। কিন্তু কালো গাড়িটি বেরিয়ে ডান দিকে কিছুটা গিয়েই ধরে নেয় আশুতোষ কলেজের পাশের রাস্তা। গাড়ির গতিও ছিল জোরে। সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীদের তৎপরতা দেখেই বুঝতে অসুবিধা হয়নি কালো গাড়িতেই রয়েছেন রুজিরা।

কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের ডাক পেয়ে রুজিরা যে কালো গাড়িটিতে চেপে এদিন ইডির দফতরে গিয়েছিলেন সেই গাড়িটির নম্বর হলো WB02AK7777। এই গাড়িটি সম্পর্কে খোঁজ নিতেই সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই গাড়িটির মালিকানা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস (Leaps And Bounds) প্রাইভেট লিমিটেডের।
সেই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস যার অন্যতম ডিরেক্টর নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকু। সম্প্রতি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নথি দেখিয়ে দাবি করেছিলেন, অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়, মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য ও সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র এই সংস্থা ডিরেক্টর।

যদিও লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ওয়েবসাইটে এখন ডিরেক্টর হিসেবে জ্বলজ্বল করছে অমিত ও লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। কোম্পানির প্রাক্তন ডিরেক্টরদের নামের তালিকা পাশে রয়েছে। যদিও সেটি লক করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা গিয়েছে, অভিষেকও এই সংস্থার ডিরেক্টর পদে ছিলেন।
রুজিরা যে গাড়িটিতে চড়ে ইডি দফতরে গিয়েছিলেন সেটির মডেল ফরচুনার সিগমা ৪ (এমটি)। কলকাতায় রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর। মোটর কার (এলএমভি) ডিজেল চালিত গাড়ি। আপাতত সেই গাড়িটিকে নিয়েই চর্চা তুঙ্গে।

যে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অন্যতম ডিরেক্টর (নিজেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের কর্মচারী বলেছিলেন কালীঘাটের কাকু) গ্রেফতার হয়েছেন, সেই সংস্থার গাড়িতে চেপে রুজিরার ইডির দফতরে যাওয়া অন্য মাত্রা যোগ করেছে। ইডি সূত্রে খবর, বেশ কিছু আর্থিক লেনদেন বিষয়েই রুজিরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডি আধিকারিকরা।
রুজিরা তদন্তে সহযোগিতা করেছেন বলেও জানা গিয়েছে। আগেও অভিষেক-পত্নীকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তদন্তে আরও কিছু বিষয় উঠে আসায় রুজিরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications