RG Kar: বুদ্ধবাবুকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছিলেন মানুষ, হঠাৎ খবর আসে... কীভাবে আরজি করের ১৬১ দিন পেরোল?

RG Kar Rape Murder case: ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে শ্রদ্ধা জানাতে আলিমুদ্দিনে তখন মানুষের ঢল! হঠাত করেই খবর আসে আরজি কর হাসপাতালে এক জুনিয়র চিকিৎসকের দেহ পাওয়া গিয়েছে। ঘুরে যায় মোড়! ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই হাসপাতালে ছুটে যান তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল। ঘটনা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খোদ পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেন।

প্রথমেই না বললেও পরে স্পষ্ট হয়, অভয়াকে ধর্ষণ করে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়। ভয়াবহ সেই ঘটনার ১৬১ দিন পর শিয়ালদহ আদালত আজ শনিবার এই সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করল। কীভাবে ঘটনা (RG Kar Rape Murder case) এগোল?

RG Kar Rape Murder case

RG Kar Rape Murder case: এক নজরে টাইমলাইন-

৯ অগাস্ট: দুপুরে আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হলে একেবারে অর্ধ-নগ্ন অবস্থায় অভয়ার দেহ পাওয়া যায়। দীর্ঘ প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে ডিউটি করার পর বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেই সময় নৃশংস ঘটনা ঘটে। ঘটনা ঘিরে উত্তাল হয় কলকাতা। কলকাতা পুলিশের ময়নাতদন্তে তাড়াহুড়ো, দেহ সৎকার সহ একাধিক প্রশ্ন ওঠে।

১০ অগাস্ট: ঘটনার কার্যত ২৪ ঘন্টার মধ্যেই কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে শুরু হয় আন্দোলন। পথে নামেন চিকিৎসকরা। পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন একাধিক বিরোধী দল।

১২ অগাস্ট: ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যান অভয়ার বাড়িতে। সেখানে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাতদিন সময় দিন। না হলে মামলা সিবিআই'য়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেদিনই আরজি কর অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ তার পদ থেকে ইস্তফা দেন। প্রবল চাপের মুখে পদ ছাড়েন।

১৩ অগাস্ট: কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআই চেয়ে একাধিক মামলা হয়। মামলায় কলকাতা পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। একই সঙ্গে সন্দীপ ঘোষকে নিয়েও একের পর এক কড়া মন্তব্য করা হয়।

১৪ অগাস্ট: আদালত সিবিআইকে মামলা দিয়ে দেয়। দ্রুত গঠন করা হয় টিম। ফরেন্সিক টিম গঠন করা হয়। দিল্লি থেকেও আসেও স্পেশাল টিম। ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন আরও তীব্র হতে শুরু হয়। দেওয়া হয় রাত দখলের ডাক।

১৫ অগাস্ট: ১৪ এবং ১৫ অগাস্টের রাতে দলে দলে মানুষ পথে নামেন। বিচারের দাবি তুলতে শুরু করেন। কিন্তু ঝঠাত করেই পরিস্থিতি ঘুরে যায়। একদল যুবক আরজি কর ঢুকে ব্যাপক হামলা শুরু করে। শুরু হয় ভাঙচুর। মারধর করা হয় জুনিয়র চিকিৎসকদের। হঠাত কেন হামলা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। প্রমাণ লোপাঠের অভিযোগ ওঠে। এমনকি প্রভাবশালীদের আড়াল করতে এই ঘটনা বলেও অভিযোগ ওঠে।

১৫ অগাস্ট: আরজি কর হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে। এই বিতর্কের মধ্যেই আরজি করে শুরু হয়ে যায় কাজ। ঘটনাস্থলের কাছেই কাজ শুরু হয়। একাধিক জায়গা ভাঙচুর করা হয়। এই পরিস্থিতি নিয়ে আরও উত্তাল হয়ে ইঠে এলাকা। প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ জোরাল হয়।

১৮ অগাস্ট: সুপ্রিম কোর্ট ভাঙচুরের এই পুরো বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে গ্রহণ করে এবং ২০ আগস্ট শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে।

১৯ অগাস্ট: সন্দীপ ঘোষকে জেরা করে সিবিআই। অভিযুক্ত সিঞ্জয় রায়ের পলিগ্রাফ টেস্ট করার অনুমতি পায় সিবিআই।

২০ অগাস্ট: সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের এজলাসে মামলা হয়। কলকাতা পুলিশ এবং সিবিআইকে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাশানাল প্রটোকল তৈরির কথা বলা হয়। প্রশ্ন ওঠে আরজি কর হাসপাতালের সুরক্ষা নিয়ে।

২১ আগস্ট: কেন্দ্রীয় সরকার RG কর হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠায়। কলকাতা পুলিশ ভাঙচুরের ঘটনায় তিন অফিসারকে সাসপেন্ড করে।

২৪ অগাস্টঃ প্রধান অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের লাই ডিটেক্টর টেস্ট হয়। একই সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজনের টেস্ট হয়।

২৫ অগাস্ট: আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ, প্রাক্তন এমএসভিপি সঞ্জয় বশিষ্ঠ এবং আরও ১৩ জনের বাড়িতে সিবিআই অভিযান চালায়।

২ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর: তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের দাবিতে লালবাজার অভিযান করেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। অন্যদিকে আরজি কর দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করা হয় সন্দীপ ঘোষকে। বড় পদক্ষেপ ছিল সিবিআই'য়ের।

১৪ সেপ্টেম্বর: কলকাতা পুলিশ অফিসার তথা টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মন্ডলকে গ্রেফতার করে সিবিআই। তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে দেরী এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ আনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এরপর যদিও একাধিক কালের নিয়মেই এই মামলা চলে।

7 অক্টোবর: ধর্ষণ-খুন মামলায় সিবিআই সঞ্জয় রায়কে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে।

১১ নভেম্বর: এই মামলার ট্রায়ান শুরু হয়। বন্ধ ঘরে এই মামলার শুনানি হয়।

প্রায় ৫৭ দিন ধরে চলে ট্রায়াল। শতাধিকেরও বেশি সাক্ষী এবং ডিজিটাল এবং অন্যান্য তথ্য প্রমাণ জমা দেওয়া হয় সিবিআই'য়ের তরফে। সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখে এদিন আদালত মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করল।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+