RG Kar Incident: নির্বাক, হতাশ! মমতার অনুরোধ চিকিৎসকরা মানলেও চন্দ্রিমার জন্যই ভেস্তে গেল বৈঠক?
RG Kar Incident: নবান্নের পর কালীঘাটেও হলো না আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক। উল্টে তাঁদের কার্যত ঘাড়ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ তুললেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।
ক্ষোভের তির স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর দিকেই। লাইভ স্ট্রিমিং বা ভিডিওগ্রাফির দাবি থেকে সরে আসার পরেও বৈঠক হলো না। দাবি আন্দোলনরত চিকিৎসকদের।

প্রথমে বৈঠক লাইভ স্ট্রিমিংয়ের দাবি জানান আন্দোলনরত চিকিৎসকরা। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে নিরাপত্তার খাতিরে সেটা সম্ভব নয় বুঝে দ্বিপাক্ষিক ভিডিওগ্রাফির দাবি জানান তাঁরা। যদিও মুখ্যমন্ত্রী আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, কোনও তরফের মেলেই লাইভ স্ট্রিমিংয়ের উল্লেখ ছিল না। সুপ্রিম কোর্টে বিচার চলায় এখন ভিডিও রেকর্ডিংও দেওয়া যাবে না।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বৈঠকের কার্যবিবরণী বা মিনিটস লেখা থাকবে। সেখানে উভয় তরফের স্বাক্ষর থাকবে। এরপরই আন্দোলনরত চিকিৎসকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে থাকেন। তারপর তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, স্বচ্ছ্বতার জন্যই লাইভ স্ট্রিমিং বা দ্বিপাক্ষিক ভিডিওগ্রাফির দাবি করা হচ্ছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখেই মিনিটস সংক্রান্ত প্রস্তাবে রাজি হয়ে বৈঠকে বসবেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা।
কিন্তু এরই মধ্যে দেখা যায় মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ, স্বরাষ্ট্র সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বেরিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন থেকে। ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ৯টার আশেপাশে। এরপরই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনলেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা।
আন্দোলনরত চিকিৎসকদের কথায়, মেল করে যে কোনও জায়গায় বসতে রাজি ছিলাম। স্বচ্ছ্বতার জন্য ভিডিওগ্রাফি, লাইভ স্ট্রিমিংয়ের কথা বলা হয়। রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা বলেন সম্ভব নয়। তখন আমরা বলি, দু-পক্ষকে ভিডিও করতে দেওয়া হোক। সেটাই বলা হয় করা যাবে না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরাই ভিডিও করব। সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে মামলার নিষ্পত্তি হলে তার ভিত্তিতে দেওয়া হবে। আন্দোলনকারীদের কথায়, এই ভিডিও আমাদের ইমিডিয়েট পাওয়া উচিত। যেটা থাকবে প্রমাণ হিসেবে। যাতে ভিডিও ট্যাম্পার, পরিবর্তন বা এডিট করা না হয়। কিন্তু তাও বলা হয় দেওয়া যাবে না।
আন্দোলনরত চিকিৎসকরা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের বলেন ভিতরে গিয়ে বৈঠক না হলেও চা খেয়ে আসতে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন থাকায় ভিডিও রেকর্ডিং দেওয়া যাবে না। এরপর আবার আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করি। মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু আমাদের সঙ্গে কথা বললেন তাই তাঁর চেয়ারের প্রতি সম্মান রেখে আমরা ভিডিওগ্রাফি ছাড়াই বৈঠকে রাজি হই। যেহেতু উনি মিনিটস দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
আন্দোলনকারীরা আরও জানিয়েছেন, তাঁরা মিনিটসের ভিত্তিতেই বৈঠকে রাজি এ কথা জানিয়ে দেন। অচলাবস্থা মেটানোর লক্ষ্যে বৈঠক জরুরি। কিন্তু এরপরই স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। আমরা ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। আর বৈঠক সম্ভব নয়। বাস ডেকে বেরিয়ে যান। নয়তো বের করে দেওয়া হবে। এরপরই চন্দ্রিমা বেরিয়ে যান।
আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরা বলেন, এমন আচরণে আমরা হতাশ, নির্বাক। আমরা সদিচ্ছা দেখিয়েই আমাদের দাবি থেকে সরে এসেও বৈঠকে রাজি ছিলাম। রাত সাড়ে ৯টাও বাজেনি। কতই আর দেরি? আমরা তো ৩৫ দিন ধরে অপেক্ষা করছি। এমন ঘাড়ধাক্কা অপ্রত্যাশিত।












Click it and Unblock the Notifications