RG Kar Scam: জরুরি বিভাগে রক্তমাখা গ্লাভস! পাচারের বর্জ্য কি ঘুরপথে আরজি করেই?
RG Kar Hospital: দুর্নীতির আঁতুড়ঘর আরজি কর। মেডিক্যাল সরঞ্জাম পাচার থেকে বর্জ্য দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ সামনে এসেছে। দুর্নীতির তদন্ত (RG Kar Scam Case) করছে সিবিআই ও ইডি। আর সেই তদন্তের মাঝেই এবার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। আরজি করের জরুরি বিভাগে রক্তমাখা গ্লাভস (Blood Stained Gloves) মেলার অভিযোগ। সিল করা বাক্স থেকেই উদ্ধার রক্তমাখা গ্লাভস।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে রক্তমাখা গ্লাভস মিলেছে আরজি করে। জরুরি বিভাগে (Emergency Ward) এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার সময় গ্লাভসের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু সিল করা বাক্স খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ চিকিৎসকদের। একটি দুটি নয়, পরপর বাক্স থেকে রক্তের দাগ লাগা গ্লাভস উদ্ধার হয়। তড়িঘড়ি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা।

খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেয় আরজি কর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরকেও জানানো হয় বিষয়টি। খবর জানতে পেরেই আরজি করে ছুটে যান স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। পুরো বিষয়টি জেনে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমও। সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে আরজি করের মতো নামী সরকারি হাসপাতাল থেকে রক্তমাখা গ্লাভস উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগে চিকিৎসকরা। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করেছেন তাঁরা। আরজি করে এমন গ্লাভসের কত স্টক রয়েছে, আগে বেরিয়েছে কিনা, তা বিস্তারিত খতিয়ে দেখেন সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরের আধিকারিকরা।
প্রসঙ্গত, আরজি করে ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন প্রাঃ ডেপুটি সুপার আখতার আলি (Akhtar Ali)। প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের (Sandip Ghosh) জমানায় আরজি করে সেইসব দুর্নীতি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন আখতার আলি। সন্দীপকে দুর্নীতি মামলাতেই প্রথমে গ্রেফতার করে সিবিআই। পরে খুন ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।
অভিযোগপত্রে আখতার আলি বলেছিলেন, আরজি করের ব্যবহার করা মেডিক্যাল সরঞ্জাম পাচার করা হত। ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, স্য়ালাইন বাংলাদেশে পাচার করা হত বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, মৃতদেহ সৎকার নিয়েও আর্থিক দুর্নীতি করা হত বলে দাবি করেন তিনি।
আরজি করে মেডিক্যাল সরঞ্জাম সরবরাহ করতেন সন্দীপ ঘনিষ্ঠ লোকজনেরাই। সিবিআই তদন্তে জালে এসেছে হাওড়ার বিপ্লব সিং সহ বেশকয়েকজন। নিজের লোকেদের বরাত পাইয়ে দিয়ে সন্দীপ ঘোষ কমিশন নিতেন বলে অভিযোগ। এই শাগরেদদের মাধ্যমেই সরঞ্জাম পাচার করে বিপুল টাকা সন্দীপের পকেটে যেত বলে অভিযোগ।
তবে কি পাচার হওয়া বর্জ্যই ফের ঘুরপথে আরজি করেই আসছে? রক্তমাখা গ্লাভস উদ্ধারের পর আরও বাড়ল জল্পনা। এদিন জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের অন্যতম মুখ চিকিৎসক কিঞ্জল নন্দ বললেন, "আমাদের দাবি যে অন্যায্য় নয়, তা ফের প্রমাণিত হল। রোগীর চিকিৎসার আগে মিলছে রক্তমাখা গ্লাভস। কোথা থেকে এল, তদন্ত করা উচিত।"












Click it and Unblock the Notifications