মমতার মিছিলে নেই অভিষেক! ব্যানারে একাধিক দোষীর আভাস? সিবিআইকে সাধুবাদ জানিয়েও পোস্ট ডিলিট সুখেন্দুর
RG Kar Hospital Incident: আরজি কর হাসপাতালকে কেন্দ্র করে যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে কি চওড়া হচ্ছে বিভাজন? একাধিক বিষয়ে তার ইঙ্গিত মিলছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ যে পদযাত্রা ও সভা করলেন তাতে দেখা গেল না সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। গরহাজির অনেকেই।

দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা কর্মসূচিতে এর আগে রাস্তায় হাঁটতে দেখা গিয়েছে অভিষেককে। কিন্তু আজ তিনি হাঁটলেন না, উপস্থিতও থাকলেন না ডোরিনা ক্রসিংয়ের সভামঞ্চে। আরজি কর হাসপাতালে স্বাধীনতা দিবসের মধ্যরাতে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও মমতা ও অভিষেকের অবস্থানে ফারাক লক্ষ্য করা গিয়েছে।
মমতা সেদিনের হামলার ঘটনা বিজেপি ও সিপিআইএম ঘটিয়েছে বলে তোপ দেগেছেন আজও। যদিও সেদিন রাতেই অভিষেক এক্স হ্যান্ডলে লিখেছিলেন, চিকিৎসকদের প্রতিবাদ ন্যায়সঙ্গত। তাঁদের সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা সরকারের ন্যূনতম কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। রাজনৈতিক রং না দেখে হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারির দাবি জানান অভিষেক।
যদিও কিছু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলেও পুলিশ এখন হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে সাধারণ মানুষের উপর ভরসা করছেন। পুলিশ যে জনমানসে বিশ্বস্ততা হারিয়েছে তা কার্যত মেনে নিয়েছেন কলকাতার নগরপাল বিনীত গোয়েল। কলকাতা হাইকোর্টেও ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে পুলিশ-প্রশাসনকে।
আজ মমতার সভামঞ্চের মূলত দলের মহিলা সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলরদের দেখা গিয়েছে। যাঁদের এতদিন নীরব থাকতে দেখা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিছিল দেখে অনেকেই কটাক্ষ করে বলছেন, ঘুম ভেঙে এখন মর্নিং ওয়াক চলছে।
সভামঞ্চের ব্যানার থেকে মিছিলে স্লোগান ছিল দোষীদের ফাঁসি চাই, সত্য ঘটনা জানতে চাই। তা দেখে বিরোধীদের কটাক্ষ, মমতা নিজেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী। তাহলে কার কাছে এ সব জানতে চাওয়ার নাটক করা হচ্ছে? সত্যি জানিয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন তো সরকারেরই দায়িত্ব।
শুধু তাই নয়। দোষীদের ফাঁসি চাই- বক্তব্যের মধ্যে যে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে তা হলো, দোষী কি একাধিক? আজও গণধর্ষণের তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন নগরপাল। তাহলে দোষীর ফাঁসি চাই না বলে খোদ মমতা ও তাঁর দলের বাকিরা কেন দোষীদের বলে চলেছেন?
মমতা সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশও করেছেন এদিন। অতীতের কথাও টেনে আনলেন যা মঞ্চের নীচে বসা সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সীরা বসে শুনলেন। ছিলেন ব্রাত্য বসু, বাবুল সুপ্রিয়রাও। তবে অভিষেক-ঘনিষ্ঠ অনেকের অনুপস্থিতিও নজর এড়ায়নি।
দলনেত্রীর কর্মসূচিকে সফল করতে জেলার অনেক অভিষেক-ঘনিষ্ঠ বিধায়ক, সাংসদদের দেখা যায়। আজ অনেককেই দেখা যায়নি। তার মধ্যে মঞ্চে থাকা রচনার ভিডিও এমনিতেই ভাইরাল হয়েছে। কটাক্ষের শিকার হয়েছেন। তাঁরাই আজ মঞ্চ আলো করে।
মিছিলে বা মঞ্চের ধারেকাছে দেখা যায়নি সাংসদ দেবকে। যিনি আরজি কর কাণ্ডের কারণে নিজের ছবির প্রচার পিছিয়ে দিয়েছেন। দেখতে পাওয়া যায়নি প্রতিবাদী হয়ে ওঠা সদ্য অপসারিত মুখপাত্র শান্তনু সেনকে। সুখেন্দু শেখর রায়ও ছিলেন না।
আর জি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে আজ কলকাতার রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়েছে সিবিআই। রটে গিয়েছিল দুপুরে গ্রেফতার হয়েছেন সন্দীপ। যদিও এখনও অবধি তেমন খবর নেই। এরই মধ্যে বিকেলে তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, আরজি কর হাসপাতালের কিংপিনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। বল সঠিক দিকেই গড়াচ্ছে। ফ্যান্টমদের ছেড়ে রাখা উচিত নয়। তবে সন্ধ্যার আগেই সেই টুইটটি ডিলিট করেন সুখেন্দু।












Click it and Unblock the Notifications