মোদী মেট্রো প্রকল্প উদ্বোধনের সময় বৌবাজারে বিক্ষোভে গৃহহীনরা, সোমবারই বৈঠক ডাকলেন ফিরহাদ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ যে তিনটি রুটে মেট্রো সম্প্রসারণের সূচনা করলেন তার মধ্যে অন্যতম শিয়ালদহ থেকে এসপ্ল্যানেড। এই রুট জুড়ে যাওয়ার ফলে আধ ঘণ্টার সামান্য বেশি সময়ের মধ্যেই হাওড়া ময়দান থেকে পৌঁছে যাওয়া যাবে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত তো মসৃণ হলো। কিন্তু চিন্তা ঘুচল না শতাধিক মানুষের।

বৌবাজারে মাটির তলা দিয়ে মেট্রোর কাজ চলার সময় অনেক বাড়িতে ফাটল লক্ষ্য করা গিয়েছিল। অনেক বাড়ি ভেঙে পড়ে। ফলে ঘরছাড়া হয় অনেক পরিবার। সেই পরিবারগুলিকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল ভেঙে পড়া বাড়ির আদলেই নতুন বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। যদিও সেই কথা রাখেনি মেট্রো রেল বা কেএমআরসিএল কর্তৃপক্ষ। আর তাই আজ বৌবাজারে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হলো সেই পরিবারগুলি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে প্রমুখ।
রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, আনন্দের মেট্রো রুটের উদ্বোধন করতে এলেন নরেন্দ্র মোদী। যদিও এই মেট্রো প্রকল্প হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যেই। যখন দুর্গা পিতুরি লেন, স্যাঁকড়া পাড়া লেনে মেট্রোর কাজের জন্য বিপর্যয় হলো তখনও মুখ্যমন্ত্রী এখানে এসেছিলেন। নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল তাতে আমি ছিলাম, বিধায়ক, কাউন্সিলর, মেট্রো রেলের সকলেই ছিলেন। কেএমআরসিএলের তরফে বলা হয়েছিল, যাঁদের বাড়ি ভেঙে গিয়েছে তাঁদের আগে বাড়িতে ফিরিয়ে তারপর মেট্রো চলবে। সেটা হলে ভালো হতো। কিন্তু আজ উদ্বোধন হলেও ঘরছাড়ারা এখনও নিজেদের ভিটেয় ফিরতে পারেননি। মোদী যে উন্নয়নের কথা বলে থাকেন, এখানকার গলিগুলিতে গিয়ে দেখুন এটাই ওদের উন্নয়ন!
ফিরহাদ বলেন, বিশ্বরূপের কাছে জেনেছি ঘরছাড়াদের বাড়ি তৈরির কাজ কিছুই হয়নি। সোমবারই ফের বৈঠক ডাকছি। যত দ্রুত সকলকে তাঁদের বাড়িতে ফেরানোর বন্দোবস্ত করা যায় সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে। ওই বৈঠকে সব পক্ষকেই ডাকা হচ্ছে। নির্মাণ সংস্থাই দায়ী। ওরা যে নানা বাহানা দিয়ে থাকে সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদেরও ডাকা হবে। মুখ্যমন্ত্রী যে গৃহহীনদের পাশে রয়েছেন সেটাও জানান কলকাতার মেয়র।
কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে বলেন, নরেন্দ্র মোদী গ্যারান্টির কথা বলেন। তিনি তো এই মানুষজনের চোখের জল মুছতে পারলেন না। রেখে দিলেন আশা-আশঙ্কার মধ্যে। কোথায় প্রধানমন্ত্রীর গ্যারান্টি? আজ পুরসভার অধিবেশনে আমি প্রস্তাব রেখেছি বাড়ি তৈরির কাজ ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য পুরসভা একটি মনিটরিং সেল গড়ুক। ২০১৯ সালে প্রথম এখানে মেট্রোর কাজ শুরু হতেই সমস্যা দেখা দিয়েছিল। পরে আরও দুই বার সমস্যা, বিপর্যয় দেখা দেয়। মেট্রো কর্তৃপক্ষ মানুষের বিপদে কথা রাখেনি। এখানে যাঁরা থাকতেন তাঁরা কেউ ভিখারি ছিলেন না, আজ তাঁরা ভিখারি। মেট্রোর জন্যেই তাঁরা নিজেদের জায়গায়, নিজেদের বাড়িতে থাকতে পারছেন না। দোকানদাররাও ক্ষতিগ্রস্ত। মেট্রো চললে ফের যদি কোনও বাড়িতে ফাটল দেখা যায় সে কথা মাথায় রেখে পুরসভা ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের একটি নজরদারি কমিটি রাখুক।












Click it and Unblock the Notifications