প্রয়াত গোয়েন্দা 'অর্জুন'-এর স্রষ্টা সমরেশ মজুমদার, শোকের ছায়া সাহিত্য জগতে
প্রয়াত সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। গত কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। চিকিৎসাধীন ছিলেন শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। আজ সোমবার বিকেলে বাইপাসের ধারে ওই বেসরকারি হাসপাতালেই প্রয়াত হলেন সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার।
তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা সাহিত্যমহল। ইতিমধ্যে শোকবার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর বার্তায় লিখছেন, ''বিশিষ্ট সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি আজ কলকাতায় প্রয়াত হন''। সাহিত্যিকের প্রয়াণে সাহিত্য জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হল বলেও বার্তায় বললেন প্রশাসনিক প্রধান।

মৃত্যুকালে সাহিত্যিকের বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। ইতিমধ্যে হাসপাতালে অনুগামীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ এপ্রিল সমরেশ মজুমদারকে বাইপাসের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিওপিডি সহ একাধিক বার্ধক্যজনিত সমস্যা ছিল।
পরিস্থিতি ক্রমশ বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে শ্বাসকষ্টের একটি সমস্যাও ছিল সাহিত্যিকের। সেই সমস্যাও বেড়ে গিয়েছিল সম্প্রতি। কিন্তু আজ সোমবার সকাল থেকে চিকিৎসায় সাড়া দেন। তা দেখে আশার আলো দেখতে শুরু করেন চিকিৎসকরা।
কিন্তু বিকেলে একটি আচমকাই হার্ট অ্যাটার্ক হয় সাহিত্যিকের। আর তাতেই সব শেষ। বলে রাখা প্রয়োজন, বাংলা সাহিত্যের লব্ধপ্রতিষ্ঠ কথাকার সমরেশ মজুমদারের বিখ্যাত গ্রন্থগুলি হল: দৌড়, কালবেলা, কালপুরুষ, গর্ভধারিণী, উত্তরাধিকার, অর্জুন সমগ্র, সাতকাহন ইত্যাদি।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১৮ সালে সমরেশ মজুমদারকে 'বঙ্গবিভূষণ' সম্মান প্রদান করে। এছাড়া তিনি সাহিত্য অকাদেমি অ্যাওয়ার্ড, আনন্দ পুরস্কার, বিএফজেএ পুরস্কারসহ অজস্র সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। পেয়েছিলেন সাহিত্য একাডেমির পুরস্কারও।

সমরেশ মজুমদারের জন্ম উত্তরবঙ্গে। ফলে উত্তরবঙ্গের প্রতি বিশেষ টান ছিল তাঁর। সাহিত্যিকের একাধিক লেখনিতেও উত্তরের সৌন্দেজ্যের কথা ধরে পড়েছে। এরপর যদিও কলকাতায় চলে আসেন সমরেশ মজুমদার। উচ্চক্ষেত্রে পড়াশুনা। বাংলা নিয়ে স্কটিশ চার্চে স্নাতক। ছোট থেকে লেখালেখি ভালোবাসতেন। তবে আজ তিনি নেই! কিন্তু সাহিত্যিকের অসংখ্যা সৃষ্টি আজীবন অমর হয়ে থাকবে।












Click it and Unblock the Notifications