সকাল ১০টা থেকে ২ টো পর্যন্ত রেকর্ড বৃষ্টি শহরে, সুইমিং পুলের চেহারা নিয়েছে কলেজস্ট্রিট চত্বর
সকাল ১০টা থেকে ২ টো পর্যন্ত রেকর্ড বৃষ্টি শহরে, সুইমিং পুলের চেহারা নিয়েছে কলেজস্ট্রিট চত্বর
সকাল ১০ থেকে আকাশ আঁধার করে নেমেছিল সেই বৃষ্টি। নাগাড়ে সেটা চলেছে দুপুর ২টো পর্যন্ত। অঝোরে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত শহর কলকাতা। কলেজস্ট্রি, সুকিয়া স্ট্রিট, ঠনঠনিয়া, গড়িয়া, পার্কসার্কাস, ময়দান সহ শহরের অধিকাংশ রাস্তা দেখলে চেনা যাচ্ছে না। কোথাও হাঁটু জল। তো কোথাও কোমর জল। একাধিক রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে জলের কারণে। সল্টলেকের একাধিক জায়গাতেও জল জমে গিয়েছে। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মহানগরের।

প্রবল বর্ষণ শহরে
বৃষ্টির পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল হাওয়া অফিস। কিন্তু সেই বৃষ্টি যে এতটা ভয়াবহ হবে সেটা আন্দাজ করে উঠতে পারেননি কেউ। সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার ছিল। সেই কালো মেঘ বর্ষণ শুরু করে সকাল ১০ টা থেকে। সেই বৃষ্টি আর থামার নাম নেয়নি। দুপুর ২ টো পর্যন্ত এক নাগারে বর্ষণ হয়ে গিয়েছে শহর কলকাতায়। যাকে বলে একেবারে নাগারে বৃষ্টি। প্রবল বৃষ্টিতে শহরের একাধিক রাস্তায় জল জমে গিয়েছে। যাকে বলে জল থৈ থৈ শহর। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শহরে।

সুইমিংপুরে পরিণত হয়েছে রাস্তা
প্রবল বর্ষণে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। কলেজস্ট্রিটকে আলাদা করে চেনা যাচ্ছে না। দেখে মনে হচ্ছে কলেজ স্কোয়ারের সুইমি পুল। যান চলাচল সেই রাস্তায় একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হাঁটু সমান জল। গাড়ি খারাপ হতে শুরু করেছে একাধিক রাস্তা। কলেজ স্ট্রিটের পাশাপাশি সুখিয়া স্ট্রিট, ঠনঠনিয়া, এমজি রোড। ওদিকে মানিকতলা কাঁকুড়গাছি সর্বত্র জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। সুখিয়া স্ট্রিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তর কলকাতার মতো দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় জল জমেছে। ওদিকে আবার আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কলকাতার পাশাপাশি জেলা গুলিতেও চলছে বৃষ্টি। সপ্তােহর তৃতীয় দিনে জল বৃষ্টিতে নাগাল অফিস যাত্রীরা। কীকরে তাঁরা বাড়ি ফিরবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

দুই ২৪ পরগনায় কমলা সতর্কতা
৬ তারিখ পর্যন্ত অর্থাৎ শুক্রবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। কলকাতায় বৃষ্টির পরিমান কমলেও দুই ২৪ পরগনায় কিন্তু ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, হাওড়া ও হুগলিতে। হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে কলকাতা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম ও ঝাড়গ্রামে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত এবং মৌসুমী অক্ষরেখা একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠায় এই বর্ষণ বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও চলবে বৃষ্টি। একাধিক জেলায় ইতিমধ্যেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হাওড়ার আমতা-উদয়নারায়ণ পুর একেবারে জলের তলায়। অন্যদিকে হুগলির খানাকুল সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমে গিয়েছে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ঘাটাল, চন্দ্রকোনা, দাসপুর।

বন্যা পরিদর্শনে মমতা
হাওড়া, হুগলির বন্যা দুর্গত এলাকা আকাশ পথে পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার জন্য আকাশ পথে তিনি যেতে পারেননি। সড়ক পথেই হাওড়ার বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ছাতা হাতে হাঁটু জলে দাঁড়িয়েই তিনি কথা বলেেছন দুর্গত মানুষের সঙ্গে । তাঁদের ত্রাণ নিয়ে যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেনির্দেশ তিনি দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিকে ম্যান মেড বন্যা বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ডিভিসির ছাড়া জলেই এই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের উচিত ডিভিসির খাল সংস্কার করা দাবি করেছেন মমতা। এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিভিসির জল ছাড়ার অভিযোগ করেছেন মমতা। প্রতিবারই ডিভিিস না জানিয়ে জল ছাড়ে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এদিকে ঘাটালে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাংসদ দেব। তিনি অভিযোগ করেছেন বারবার বলার পরেও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ এগোচ্ছে না কেন্দ্রে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী না হওয়া পর্যন্ত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ এগোবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেব।












Click it and Unblock the Notifications