লড়াই শেষ, শেষ রক্ষা আর হল না, মৃত্যুর কোলে ঢলে পরলেন বিদিশা
কলকাতা, ১ মার্চ : বেশ কয়েকদিনের লড়াইয়ের পর অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন পূর্ব পুঁটিয়ারির কলেজ ছাত্রী বিদিশা চত্রবর্তী। অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিক্রিয়ার জেরে বিরল চর্ম রোগ স্টিভেন্স জনসন সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বিদিশা। কিন্তু আজ, মঙ্গলবার বিকেলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বিদিশা। শেষ হল বেঁচে থাকার লড়াই। জীবনদায়ী ওষুধই কেড়ে নিল তরুণ প্রাণ।
ওষুধের বিষক্রিয়ায় মারণরোগে আক্রান্ত কলেজছাত্রী, অর্থসাহায্যের আবেদন সহপাঠীদের
কলকাতা, ১ মার্চ : বছর একুশের হাসিখুসি মেয়েটা এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে। সরস্বতী পুজোর দিন সামান্য জ্বর হয়েছিল। ডাক্তারের পরমার্শ মেনেই মেয়েকে ওষুধ খাইয়েছিলেন বাবা। ওষুধ খাওয়ার পরই অঘটন। অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিক্রিয়ার জেরে বিরল চর্ম রোগ স্টিভেন্স জনসন সিনড্রোমে আক্রান্ত পূর্ব পুঁটিয়ারির কলেজ ছাত্রী বিদিশা চত্রবর্তী।
দেখলে মনে হবে অগ্নিদ্বগ্ধ হয়েছেন বিদিশা। কিন্তু আসলে তা নয়। জ্বর কমাতে আল্ট্রাসেট ও ডক্সিসাইক্লিন নামের দুটো ওষুধ দিয়েছিলেন ডাক্তার। সেই ওষুধ খাওয়ার পর থেকেই বিদিশার সারা গায়ে ছোট ছোট একাধিক ফুসকুড়ি বেরয়। প্রাথমিকভাবে ডাক্তারের অনুমান ছিল ডেঙ্গু বা হামে আক্রান্ত হাজরার উইমেন্স ক্রিশ্চিয়ান কলেজের ইংরাজি অনার্সের ছাত্রী বিদিশা।

কিন্তু পরে বেলেঘাটা আইডি হাসাতালে রবিবার বিদিশাকে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে এক চিকিৎসক বিদিশার পরিবারকে জানায়, নিউমোনিয়া, হাম ও কনজাংটিভাইটিস এই তিন রোগে একসঙ্গে আক্রান্ত হয়েছে বিদিশা। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয় তাকে। তবে চিকিৎসা করতে গিয়ে বোঝা যায় আসলে বিরল চর্ম রোগ স্টিভেন্স জনসন সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়েছে বিদিশা।
চিকিৎসকদের কথায়, অ্যান্টোবায়োটিকের প্রতিক্রিয়ার জেরে এই রোগটি হয়। এতে ত্বক প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দেখে মনে হয়ে অগ্নিদ্বগ্ধ হয়েছে, শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা শেষ হয়ে যায়।
বিদিশা আপাতত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। প্রথম ৯ দিনে সাড়ে আট লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে আরও ১৪ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে ১৫ দিনে। বিদিশার বাবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। চিকিৎসার এই ব্যয়ভার বহন করা তার পক্ষে একপ্রকারের অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
তাই এবার বন্ধুকে সুস্থ করে কলেজে ফেরাতে অর্থ সাহায্যের জন্য পথে নেমেছেন বিদিশার বন্ধু ও কলেজের শিক্ষিকারা। যেখান থেকে যেভাবে অর্থ সাহায্য করা মিলছে ঘুরে ঘুরে তাই সংগ্রহ করে চলেছেন তারা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির পাশের অফিসেও গিয়েছিল বিদিশার সহপাঠীরা। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে ফোনও এসেছে। বিদিশার কাগজপত্র নিয়ে দেখা করতে বলা হয়েছে। তাই এখন আশায় বুক বেঁধেছেন বিদিশার পরিবারও। অর্থসাহায্য মিললে হয়তো ফিরিয়ে আনা যাবে বিদিশাকে। হয়তো ফের স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পারবেন বিদিশা।
আপনি যদি বিদিশার চিকিৎসায় অর্থসাহায্য দিতে চান তাহলে যোগাযোগ করতে পারেন +৯১-৮০১৭২৩১৮৯১ নম্বরে। কিংবা এসবিআই পূর্ব পুঁটিয়ারি শাখায় ৩৫১৩৫১৫৮২২৭ অ্যাকাউন্ট নম্বরে অর্থ সাহাষ্য পাঠাতে পারেন। কিংবা https://www.gofundme.com/helpbidishafight এই লিঙ্কে ক্লিক করেও অর্থ সাহায্য দিতে পারেন।












Click it and Unblock the Notifications