রাহুলের ফোন মান্নানকে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরও চাঙ্গা কংগ্রেস শিবির
ফোন করে অসুস্থ আবদুল মান্নানের খোঁজখবর নিলেন কংগ্রেস সহ সভাপতি রাহুল গান্ধী। সেইসঙ্গে তিনি জানালেন, বিধানসভায় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে আমি পাশে আছি।
কলকাতা, ১ ফেব্রুয়ারি : ফোন করে অসুস্থ আবদুল মান্নানের খোঁজখবর নিলেন কংগ্রেস সহ সভাপতি রাহুল গান্ধী। সেইসঙ্গে তিনি জানালেন, বিধানসভায় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে আমি পাশে আছি। আন্দোলন চালিয়ে যান। তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন।[মান্নানের সাসপেনশনের প্রতিবাদে আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে 'বিকল্প বাজেট' বিরোধীদের!]
দলের হাইকমান্ডের এই বার্তা পেয়ে হঠাৎ চাঙ্গা প্রদেশ কংগ্রেস। আগেই কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী জানিয়েছিলেন শীঘ্রই আমাদের নেতা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী আমাদের এই আন্দোলনে যোগ দেবেন। আজ বিকল্প বাজেটে তিনি যোগ না দিলেও শীঘ্রই মহানগরের রাজপথে তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে আন্দোলেন নামবেন। রাহুলের বার্তা আসার পর তো আন্দোলন আরও দৃঢ় হবেই।[আবদুল মান্নানকে বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়]

এদিন আবদুল মান্নানের অস্থায়ী পেসমেকার বসানো হয়েছে বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে। তারপরই রাহুল গান্ধী তাঁকে ফোন করে জানতে চান, মান্নান সাহেব, আপনার শরীর এখন কেমন আছে? মান্নান জানান, 'আছি একরকম।' এরপর রাহুল বলেন, 'তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন মান্নান সাহেব। আন্দোলন চালিয়ে যান। আমি আপনাদের পাশে আছি।'[যুদ্ধ জারিই, মান্নানের মানসিক বিকারগ্রস্তের পাল্টা মিথ্যেবাদী তত্ত্ব মানসের]
উল্লেখ্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা মান্নান সাহেবকে ঘিরে ধস্তাধস্তির পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে লেনিন সরণীর একটি বেসরকারি হাসপতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর হৃদযন্ত্রে কিছু সমস্যা ধরা পড়ে। তড়ঘড়ি পেসমেকার বসানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। সেইমতো বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করে তাঁর পেসমেকার বসানো হয়।[বিধানসভায় বিতণ্ডা : মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ আবদুল মান্নানের, পাল্টা কটাক্ষ মমতারও]
হার্টের সমস্যার পাশাপাশি তাঁক রক্তচাপও বেশি ছিল। সেই কারণে হার্টের উন্নতমানের চিকিৎসার জন্যই তড়িঘড়ি অ্যাপেলোয় স্থানান্তরিত করা হয়। মান্নান দেখতে হাসপাতালে যান পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, স্পিকার বিমন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। আগের দিনই তৃণমূলের তিন চিকিৎসক বিধায়ক মানস ভুঁইয়া, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও সুদর্শন ঘোষদস্তিদারকে পাঠিয়ে সৌজন্য দেখান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এটা শুধু সৌজন্য নয়, এর পিছনে রয়েছে গূঢ় রাজনীতি। মান্নানের অসুস্থতায় যাতে সহানুভূতির পালে হাওয়া তুলতে না পারে বিরোধীশিবির সেই চেষ্টাকে রুখতেই এই চাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
উল্লেখ্য এদিন বাম-কংগ্রেস যৌথভাবে মান্নানের সাসপেনশনের প্রতিবাদে বাজেট অধিবেশন বয়কট করছে। বিধানসভার বাইরে আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে তাঁরা বিকল্প বাজেট পেশ করে এই প্রতিবাদ জানাবেন।












Click it and Unblock the Notifications